মারবে যত, বাড়বে তত! লাঠি, টিয়ার গ্যাসেও দমানো গেল না ককরোচদের, ফের জমায়েত যন্তর-মন্তরে

৫ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

২০ জুলাই এক স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের সাক্ষী ও থেকেছে রাজধানী। ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) ডাকে ছাত্র-যুবদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের উপর চলেছে পুলিশের নির্মম লাঠিচার্জ। ছোড়া হয়েছে হয়েছে কাঁদানে গ্যাস, তারপরেও আন্দোলনের পথ থেকে সরছে না ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যন্তর-মন্তরে তাদের অবস্থান-বিক্ষোভ অনির্দিষ্টকাল চলবে। ছাত্রছাত্রীদের উপর নির্মম লাঠিচার্জ ও শান্তিপূর্ণ আন্দলোনকে প্রতিহত করতে প্ৰশাসনের হিংসাত্মক অবস্থানের বিরুদ্ধেই এই আন্দলোন চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে সিজেপির তরফে। 

সোমবার রাতে পুলিশ যন্তর-মন্তর থেকে আন্দোলনের মঞ্চ, তাবু-সহ যাবতীয় পরিকাঠামো সরিয়ে দিলেও মঙ্গলবার ভোর থেকেই ফের সেখানে ভিড় জমাতে শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। CJP-র ডাকে সাড়া দিয়ে ছাত্র-যুবরা একে একে আন্দোলনস্থলে পৌঁছন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গোটা এলাকায় বিপুল সংখ্যক দিল্লি পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) মোতায়েন করা হয়।

সোমবারের ‘সংসদ চলো’ অভিযানে রাজধানী কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। হাজার হাজার ছাত্র-যুব সংসদের উদ্দেশে মিছিল শুরু করলে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষ বাধে। এক সময় বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের কয়েকশো মিটারের মধ্যেই পৌঁছে গেলে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে।

প্রায় ৭০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। হিংসা ও ভাঙচুরের অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি এফআইআরও দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বিবৃতিতে দাবি করে, বিক্ষোভকারীদের আচরণ ছিল ‘উচ্ছৃঙ্খল, আক্রমণাত্মক ও হিংসাত্মক’। বারবার সতর্ক করা এবং আইন মেনে ছত্রভঙ্গ হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা তা অমান্য করে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ ‘সংসদ চলো’ মিছিলে পুলিশ অযথা ও মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। লাঠিচার্জে বহু ছাত্র-ছাত্রী আহত হয়েছেন বলেও দাবি তাদের।

এই অচলাবস্থার মধ্যেই সোমবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা তাঁর বাসভবনে CJP-র মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং অশুতোষ রাঙ্কা-র সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি তাদের দাবি শোনেন এবং আন্দোলন প্রত্যাহারের আবেদন জানান।

এদিকে, হাসপাতাল থেকে অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করেছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তিনি জানিয়েছেন, আন্দোলনকারী যুবনেতাদের সংসদ ভবনে সাংসদদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ না দেওয়া হলে, অথবা সাংসদরা হাসপাতালে এসে তাঁর সঙ্গে দেখা না করা পর্যন্ত তিনি অনশন ভাঙবেন না। ইতিমধ্যেই এই আন্দোলনের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশেই। দেশের চারিদিকে শুরু hoy আছে সংহতির প্রতিবাদ বিক্ষোভ। রাজধানীতে টানা উত্তেজনার আবহে আন্দোলন কোন দিকে মোড় নেয়, সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সমঝোতার কোনও রাস্তা তৈরি হয় কি না— এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের। 

অন্যান্য প্রতিবেদন.