কংগ্রেস শাসিত কর্ণাটকে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের নাগরিকত্ব যাচাই ও হয়রানির সংকট, ভাষার বুলডোজার! বাংলা থেকে আমেরিকান ক্যাপিটালিজম: সিয়ারসাকারের দাসত্ব ও আভিজাত্যের ইতিহাস অবৈধ মাইনিং এবং পরিবেশ উদাসীনতায় ডুবছে আসাম বালাঘাটে শিশুমৃত্যু,স্বাস্থ্যব্যবস্থার ব্যর্থতা ও বৈগা আদিবাসী সংকট এক বছরের মধ্যে, RSS পরিচালিত ১০০০টি স্কুল খোলার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী : শিক্ষার গেরুয়াকরণ? মনসুন ওয়েডিং: এক পশলা বৃষ্টিতে ধোয়া সম্পর্কের হিসেব অনুদান কোটি কোটি, প্রার্থী মোটে ১৫! গুজরাটের বেনামী দলগুলোর আড়ালে কি বিশাল কর ফাঁকির খেলা? নেপালে ফের বিপর্যয়ের আশঙ্কা : ধারচুলায় ধসে আটকে গেল নদীর গতিপথ

মনসুন ওয়েডিং: এক পশলা বৃষ্টিতে ধোয়া সম্পর্কের হিসেব

৬ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

‘মনসুন ওয়েডিং’ – এর আক্ষরিক অর্থ হয় বর্ষাকালে বিয়ে। নাসিরউদ্দিন শাহ ওরফে ললিতের মেয়ের বিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বর্ষাকালের মধ্যাহ্নে। সিনেমাটি এক অর্থে নান্দনিক, যা কিছু চোখে খুব সয়। যা না বললেই পারা যায় না, তা হল খুব চেনা এবং অভিজ্ঞ অভিনেতাদের সমাবেশ, যেন এক প্রতীক্ষিত সাক্ষাৎ। এই সব কিছুর মধ্যে বৃষ্টি কোনো চরিত্র হিসেবে নয়, একটি অত্যাবশ্যক নিদান, অনবরত মিলিয়ে যাচ্ছে হট্টগোলের মাঝে।

একটা বিয়েবাড়ি মানেই তো এক ধরনের সাজানো বিশৃঙ্খলা। টুকরো টুকরো কথোপকথন, লুকোনো অভিমান, পুরনো সম্পর্কের নীরব হিসেব, সবকিছু একসাথে গুলিয়ে যায় শামিয়ানার নিচে। মীরা নায়ারের এই ছবিতে বৃষ্টি ঠিক সেই বিশৃঙ্খলারই অংশ হয়ে ওঠে, তার বাইরের কোনো ভাষ্যকার হয়ে নয়। বৃষ্টি এখানে নাটকীয়ভাবে আসে না, সে অপেক্ষা করে না কোনো বিশেষ মুহূর্তের জন্য, বরং পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মতোই সে হুট করে ঢুকে পড়ে, ভিজিয়ে দেয়, তারপর সরে যায়, আবার ফিরে আসে।

ললিতের পরিবারের প্রতিটি চরিত্রই আসলে নিজের মধ্যে একটা করে গোপন ঝড় বয়ে বেড়ায়। কারও অতীতের যন্ত্রণা, কারও অব্যক্ত ভালোবাসা, কারও লুকোনো অপরাধবোধ। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা যতটা রঙিন, ভেতরের এই টানাপোড়েনগুলো ততটাই ধূসর। বৃষ্টি এই দুই স্তরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে। একদিকে উৎসবের রং ধুইয়ে দেওয়ার ভয়, অন্যদিকে সেই একই জল যেন সব কিছুকে পরিষ্কার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বহন করে।

মনসুন ওয়েডিং ছবির একটি দৃশ্য

শামিয়ানার নিচে যখন আত্মীয়স্বজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরে হাসিঠাট্টা করছে, ঠিক তখনই বাড়ির ভেতরে অন্য এক ইতিহাস মাথাচাড়া দিচ্ছে, যা কেউ বলতে চায়নি এতদিন, যা সবাই গিলে ফেলেছিল নিজের ভেতর। এই ছবিতে প্রতিটি চরিত্রের নিজস্ব একটা বৃষ্টি আছে বলা যায়। কারও কাছে সেটা স্বস্তির, কারও কাছে ভয়ের, কারও কাছে আবার মুক্তির প্রতিশ্রুতি। বাইরে যখন প্রকৃতির বৃষ্টি নামে, ভেতরে তখন প্রতিটি মানুষের নিজস্ব এক ঝড় চলছে সমান্তরালে। আর সিনেমাটা এই দুটো স্তরকে এমনভাবে গেঁথে দেয় যে বোঝাই যায় না কোথায় প্রকৃতির বৃষ্টি শেষ হচ্ছে, কোথায় শুরু হচ্ছে মানুষের ভেতরের অশ্রুপাত।

আবার এই বৃষ্টিই কিন্তু এক ধরনের সমতা তৈরি করে দেয়। বিয়েবাড়িতে যত আয়োজন, যত অহংকার, যত সামাজিক মুখোশ থাকুক না কেন, বৃষ্টি এলে সবাই সমান ভাবে ভেজে। ধনী-গরিব, আত্মীয়-অনাত্মীয়, বর-কনে সবাই একইরকম কাদামাখা হয়ে যায়, একইরকম হাসতে থাকে। এই দৃশ্যে একটা আশ্চর্য মুক্তির আভাস আছে। যেন বৃষ্টি বলছে, তোমাদের এত দিনের সাজানো সামাজিকতা, লুকোনো ক্ষোভ, সব কিছুই আসলে এই এক পশলা জলের সামনে অর্থহীন। শুধু মানুষ থেকে যায়, তার সহজ আনন্দ থেকে যায়।

তাই যখন শেষে ঝেঁপে বৃষ্টি নামে আর সবাই কাদায় মেখে নাচতে শুরু করে, সেটা কোনো বিপর্যয় মনে হয় না। বরং মনে হয়, যা যা গোপন ছিল, যা যা চাপা পড়েছিল এতদিন, সব একসাথে মুক্তি পেল। এই দৃশ্যে বৃষ্টি যেন পুরো পরিবারটাকে একসাথে নতুন করে গড়ে তোলে, ভেঙে পড়া সম্পর্কগুলোকে জোড়া লাগিয়ে দেয় নিজের অজান্তেই।

अज मेरा जी करदा…
रब्बा रब्बा मी बरसा, साड्डी कोटि दाने पा
( Today, my heart yearns…
Oh God, send down the rain; fill our granary with grain )
रब्बा रब्बा मी बरसा, साड्डी कोटि दाने पा
रब्बा रब्बा मी बरसा, साड्डी कोटि दाने पा
रब्बा रब्बा मी बरसा, साड्डी कोटि दाने पा
कावा कावा कावा
कावा कावा कावा
आज मेरा जी करदा…
कावा कावा कावा

এই ছবির সবচেয়ে সুন্দর দিক এটাই যে বৃষ্টি এখানে কারও দুঃখের প্রতীক নয়, কারও রূপান্তরের চিহ্নও নয় একলাফে। সে শুধু থাকে, লেগে থাকে, একটা পরিবারকে একসাথে বেঁধে রাখা আঠার মতো। যেমন কোনো পরিবারে ঝগড়া হয়, আবার মিটেও যায়, ঠিক তেমনই বৃষ্টিও আসে, থামে, আবার আসে, কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই, কোনো নাটকীয়তা ছাড়াই। আর সেই অনাড়ম্বর, প্রায় ঘরোয়া উপস্থিতিই বৃষ্টিকে এই ছবিতে এতটা আপন করে তোলে। সে ঠিক আরেকজন আত্মীয়ের মতো, যাকে নিমন্ত্রণ না করলেও বিয়েবাড়িতে চলে আসে, আর সবার মাঝে মিশে যায় নিজের নিয়মে, কোনোদিন সরে না গিয়ে, কোনোদিন পুরোপুরি থেমেও না গিয়ে।

অন্যান্য প্রতিবেদন.