নকশী কাঁথা: বাঙালি নারীর নীরব প্রতিরোধ ও জীবনের আলেখ্য কংগ্রেস শাসিত কর্ণাটকে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের নাগরিকত্ব যাচাই ও হয়রানির সংকট, ভাষার বুলডোজার! বাংলা থেকে আমেরিকান ক্যাপিটালিজম: সিয়ারসাকারের দাসত্ব ও আভিজাত্যের ইতিহাস অবৈধ মাইনিং এবং পরিবেশ উদাসীনতায় ডুবছে আসাম বালাঘাটে শিশুমৃত্যু,স্বাস্থ্যব্যবস্থার ব্যর্থতা ও বৈগা আদিবাসী সংকট এক বছরের মধ্যে, RSS পরিচালিত ১০০০টি স্কুল খোলার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী : শিক্ষার গেরুয়াকরণ? মনসুন ওয়েডিং: এক পশলা বৃষ্টিতে ধোয়া সম্পর্কের হিসেব অনুদান কোটি কোটি, প্রার্থী মোটে ১৫! গুজরাটের বেনামী দলগুলোর আড়ালে কি বিশাল কর ফাঁকির খেলা?

​স্কুলে “বন্দে মাতরম্” পূর্ণ না গাইলে বন্ধ অনুদান! মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুশিয়ারিতে রাজ্যজুড়ে শোরগোল

৩০ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

প্রত্যেকটি স্কুলকে বন্দে মাতরমের পুরো স্তোত্র রোজ পাঠ করতেই হবে, নইলে সরকারি অনুদান বন্ধ হয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার, কলকাতার RSS ঘনিষ্ঠ একটি সংগঠনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে ঠিক এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখে সামান্য হাসি নিয়ে, হুমকির সুরে বলেন, ” ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ সংস্করণটি গাওয়ার বিষয়ে অল্প কয়েকজন আপত্তি জানিয়েছিল। আমি তাদের বললাম যে, তা না করলে সরকারি সহায়তা বন্ধ হয়ে যাবে। তখন তারা নমনীয় হলো, তবে তা ছিল আংশিক। তারা উঠে দাঁড়াল ঠিকই, কিন্তু ঠোঁট নাড়ল না। তখন আমি তাদের বললাম যে, ঠোঁটও নাড়াতে হবে।”

শুধু তাই নয়, তিনি জানান বাম ও তৃণমূলের আমলে শিক্ষা ব্যবস্থা রসাতলে পৌঁছেছে। দাবি করেন, তৃণমূল আমলে ‘ মা , জল ও আকাশ ‘ পরিণত হয়েছিল ‘ আম্মা , পানি ও আসমান – এ ‘। এই ছোট পরিবর্তনগুলো বিবেকানন্দ ও বিদ্যাসাগরের চিন্তাধারার বিকাশে রুখে দাঁড়িয়েছিল। বর্তমান বিজেপি সরকার স্কুল শিক্ষায় ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জাতীয়তাবাদী মূল্যবোধ পুনরুদ্ধার করবে।

পূর্বের তৃনমূল সরকারকে অভিযুক্ত করে তিনি বলেন, তৃনমূল স্কুলগুলো থেকে’National Cadet Corps’ অর্থাৎ NCC প্রশিক্ষণ মূলত বন্ধ করে দিয়েছিল। তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়ে আবেদন জানাবেন, যেন প্রতিটি স্কুলে NCC বাধ্যতামুলক করে দেওয়া হয়। আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশ হয়ে যাবার আগেই পরিবর্তন এনেছেন এটাই সৌভাগ্য নাহলে আমাদের মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছিল।

যাদবপুরের বিশ্ববিদ্যালয়কে টেনে বলেন, কলকাতা শ্যামাপ্রসাদ ও নেতাজির জন্মভুমি, সেখানে ‘ কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি ‘ অথবা ‘ ফ্রী প্যালেস্তাইন ‘ এরকম স্লোগান চলবে না। আমরা শুধুই ‘ Free PoK ‘ লেখা সমর্থন করব।

কিছুদিন আগেই খবরে এসেছিল, পশ্চিমবঙ্গে ৪০০০ -এর বেশি স্কুল পড়ুয়াশূন্য। পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষক শিক্ষার্থী অনুপাত সমগ্র দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম, শুধু ঝাড়খণ্ডের থেকে এগিয়ে। রাজ্যের মোট বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে মাত্র ৪০৩ টিতে ডিজিটাল লাইব্রেরি রয়েছে। এই সরকার ক্ষমতায় আসার প্রায় ৪ মাস হতে চলল কিন্তু আদতেই কি পরিবর্তন দেখছি আমরা? শুধুই দোষারোপ ও জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার রাজনীতি।

প্রশ্ন হচ্ছে, সম্পূর্ণ জাতীয় গান পাঠ করলেই কি আসল দেশভক্ত হওয়া যায়? আর সেই দেশভক্তির প্রমাণ না দিলে রাষ্ট্র কি ছিনিয়ে নেবে লক্ষ লক্ষ শিশুর শিক্ষার অধিকার? শিক্ষাও আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। মৃতপ্রায় স্কুলগুলোর দশা না বদলে ভুয়ো পরিবর্তনের অছিলায় হারাতে বসেছি বাক্ স্বাধীনতা।

অন্যান্য প্রতিবেদন.