কংগ্রেস শাসিত কর্ণাটকে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের নাগরিকত্ব যাচাই ও হয়রানির সংকট, ভাষার বুলডোজার! বাংলা থেকে আমেরিকান ক্যাপিটালিজম: সিয়ারসাকারের দাসত্ব ও আভিজাত্যের ইতিহাস অবৈধ মাইনিং এবং পরিবেশ উদাসীনতায় ডুবছে আসাম বালাঘাটে শিশুমৃত্যু,স্বাস্থ্যব্যবস্থার ব্যর্থতা ও বৈগা আদিবাসী সংকট এক বছরের মধ্যে, RSS পরিচালিত ১০০০টি স্কুল খোলার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী : শিক্ষার গেরুয়াকরণ? মনসুন ওয়েডিং: এক পশলা বৃষ্টিতে ধোয়া সম্পর্কের হিসেব অনুদান কোটি কোটি, প্রার্থী মোটে ১৫! গুজরাটের বেনামী দলগুলোর আড়ালে কি বিশাল কর ফাঁকির খেলা? নেপালে ফের বিপর্যয়ের আশঙ্কা : ধারচুলায় ধসে আটকে গেল নদীর গতিপথ

মিড-ডে মিল থেকে পিছু হটল ইসকন? কলকাতা হাইকোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় চাঞ্চল্যকর দাবি!

২৪৮ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

শিশুদের ভাতের থালায় ডিম থাকবে না ইস্কন নির্ধারিত রাজমা-চাল, কদিন আগেই এ নিয়ে উত্তাল হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি।যুক্তি পাল্টা যুক্তি, নানান বাদানুবাদের পর শিশুদের থালায় বহাল থাকে ডিম! আর আজ হঠাৎই বিতর্কের জেরে সেই ইস্কন কর্তৃপক্ষই অস্বীকার করছে মিড-ডে মিল রান্নার দায়িত্ব৷
​কদিন আগেই কলকাতা পৌর এলাকার সরকারি ও কর্পোরেশন স্কুলগুলিতে মিড ডে মিলের খাবার সরবরাহের দায়িত্ব আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ বা ইসকনের (ISKCON) হাতে তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহলের দাবি ছিল, এই সুমহান দায়িত্বটি সরাসরি ইসকনকেই দেওয়া হয়েছে। পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে কলকাতা কর্পোরেশনের কিছু স্কুলে দুপুরের খাবার সরবরাহের ভার দেওয়া হয় ‘অন্নমিত্র ফাউন্ডেশন’ (বা ‘অনিন্দ্য ফাউন্ডেশন’) নামক একটি সংস্থার হাতে।
​কিন্তু এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় প্রবল দানা বাঁধা অসন্তোষ। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, কোনও রকম প্রকাশ্য টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই এমন একটি বড় দায়িত্ব কীভাবে একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে দিয়ে দেওয়া হলো ?


​এই একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত ৩০ জুলাই কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে পশ্চিমবঙ্গ মিড ডে মিল কর্মী ইউনিয়ন এবং সুদীপ্তা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিরা। প্রশ্ন ওঠে, এতদিন ধরে যে সমস্ত স্বনির্ভর গোষ্ঠী (Self-Help Groups) নিষ্ঠার সঙ্গে মিড ডে মিল রান্নার ও সরবরাহের দায়িত্বে ছিল, নতুন নির্দেশিকার জেরে হঠাৎ করেই তাদের কাজ কেড়ে নেওয়া হলো কেন?ওই গোষ্ঠীগুলিতে কর্মরত শত শত রন্ধনকর্মীর পেটে কি লাথি পড়বে? ইসকনের বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার অধীনে কাজ করতে হলে তাঁদের চাকরির স্থায়িত্ব ও সামাজিক নিরাপত্তার গ্যারান্টি কোথায়?
​মামলাকারীদের আইনজীবী অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দূরদর্শী একটি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, কলকাতার স্কুলগুলি ধর্মনিরপেক্ষ প্রাঙ্গণ—সেখানে নানা ধর্ম, নানা বর্ণের কচিকাঁচারা একসঙ্গে পড়াশোনা করে। ফলে কোনও একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভাবাদর্শ বা খাদ্যাভ্যাস সেখানে প্রবর্তিত হলে তা পড়ুয়াদের ধর্মনিরপেক্ষ মানসিকতা এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিপন্থী হয়ে দাঁড়াতে পারে।

মিডডে মিলের খাবারের সাথে পড়ুয়ারা। ছবি; সংগৃহীত


​মামলার চাপ বাড়তেই বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে হলফনামা জমা দেয় ইসকন। সেখানে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল বণ্টনের কোনো দায়িত্ব তাদের সংস্থার নেই। ইসকন অনুমোদিত প্রতিনিধি শ্রী আনন্দবাবু শেখর মহাদিওড় হলফনামায় দাবি করেছেন যে, মিড ডে মিল পরিবেশনকারী ‘অন্নমিত্র ফাউন্ডেশন’ এবং ইসকনের ব্যবস্থাপনা পরিচালন সমিতি সম্পূর্ণ পৃথক ও স্বতন্ত্র দুটি প্রতিষ্ঠান।
​আইনজীবীদের একাংশের মতে, স্বচ্ছ টেন্ডার প্রক্রিয়ার অভাব এবং আইনি মারপ্যাঁচে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থেকেই ইসকন আজ এই দূরত্ব বজায় রাখতে চাইছে।



মিড ডে মিল কেবল একটি সরকারি প্রকল্প নয়; এটি প্রান্তিক শিশুদের বেঁচে থাকার এবং পুষ্টির অন্যতম প্রধান অবলম্বন। সেই থালায় যখন রাজনীতির লঙ্কা ফোড় আর আইনি মারপ্যাঁচের গন্ধ মিশে যায়, তখন ক্ষুধার অরাজনৈতিক সত্তাটি বড় বেশি মলিন ঠেকে। একদিকে বহুদিনের পরিচিত স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির রুটি-রুজির হাহাকার, অন্যদিকে ধর্মীয় পরিচয় ও ধর্মনিরপেক্ষতার চিরন্তন দ্বন্দ্ব। একটি শিশু যখন স্কুলের বেঞ্চে বসে দুপুরের খাবার মুখে তোলে, তখন সে কেবল ডাল-ভাতের পুষ্টি খোঁজে, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক তকমা বা আইনি পরিচয় নয়।
​প্রশ্ন জাগে,প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও গরিব মেহনতি মানুষের পেটের ভাত কি সবসময়ই ক্ষমতার দাবা খেলায় বলি হবে? আইনের বরফাবৃত খাঁড়া যতই ঝুলুক না কেন, সাধারণ মানুষের বিশ্বাস আর অন্নদাতার নৈতিক দায়িত্বের প্রশ্নটি অমীমাংসিতই থেকে যায়। আদালতের পরবর্তী রায়ের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে বাংলার শিক্ষা মহল ও খেটে খাওয়া রন্ধনকর্মীদের পরিবারগুলো।

অন্যান্য প্রতিবেদন.