বিশ্বজয় স্পেনের। ১৬ বছর পর বহু আকাঙ্ক্ষিত সোনায় মোড়া কাপ অর্জন করল স্পেন। স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর রানার্সআপ আর্জেন্টিনা। পর পর দুবার বিশ্বজয়ের যে স্বপ্ন দেখেছিল আর্জেন্টিনা, ফাইনাল ম্যাচের প্রথম থেকেই সেই তাগিদ দেখা যাচ্ছিল না তাদের মধ্যে। বিশ্বজয়ী আর্জেন্টিনার সঙ্গে খেলতে নেমে পদে পদে স্পেন বুঝিয়ে দিয়েছে তারাও যোগ্য ফাইনালিস্ট। একপেশে ফুটবলে কার্যত কোনঠাসা হয়ে গিয়েছিল মেসিরা।
প্রথম ৯০ মিনিটে স্কোরবোর্ডে তখনও ০-০। যদিও অনেক আগেই এই ফলাফল বদলে যেত যদি না থাকতেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ়। এই ম্যাচে একা ১০টি গোল সেভ করে দেশকে বাঁচিয়েছেন তিনি। খেলা গড়াল এক্সট্রা টাইমে। উইলিয়ামসের হেডে বাঁ পায়ের শটে গোল করলেন ফেরান তোরেস। তখনও এক্সট্রা টাইমের বাকি অর্ধেক সময় বাকি। আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মনে আশা জাগছিল ফিনিক্সের মতো উঠে আসা মেসির পায়ে হয়ত একটা ইকুয়ালাইজার আসবে। কিন্তু না, দেশের জার্সিতে শেষ ম্যাচে ম্যাজিক দেখাতে পারলেন না লিও।

লড়াই হয়ে উঠেছিল অসম। লাল কার্ড দেখেছিলেন এঞ্জো ফের্নান্দেজ়। ১০ জন নিয়েই লড়াই চালিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হল না। লাল জার্সিদের আক্রমণের কাছে খানিক নিষ্প্রভই রয়ে গেল আর্জেন্টিনা। মেসিদের গলায় ঝুলল রানার্সের পদক৷ প্রথম ৯০ মিনিটে স্পেনকে গোল করতে না দেওয়াই যেন হয়ে উঠল আর্জেন্টিনার নৈতিক জয়।

গোটা ম্যাচে স্পেনের প্রেসিং খেলার মাঝে হাতে গুনে বল ছোঁয়ার সুযোগ পেয়েছে আর্জেন্টিনা। স্পেনের তারুণ্যের কাছে ক্রমেই ক্ষীণ হতে শুরু করে আর্জেন্টিনার ডিফেন্স। একাধিক গোলমুখী বল রুখেও ১০৬ মিনিটে স্পেনের তোরেসের গোল সব অঙ্ক বদলে দেয়। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার অপেক্ষায় বল আগলে রাখে স্পেন৷ ২০১০ এর পর ২০২৬ – ১৬ বছর পর জয়ের স্বাদ পেল স্পেন আর্মাডা। সমস্ত রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরলেন মেসি। চোখের জলে নামিয়ে নিলেন মাথা। তখনও গ্যালারি থেকে তাঁর দিকে ধেয়ে আসছে ‘মেসি মেসি’ ধ্বনি। অবসরের ঘোষণা এখনও নিজে মুখে করেননি লিও, কিন্তু ফুটবল বিশ্ব জানে, ‘ফুরায় যা তা ফুরায় শুধুই চোখে’…হেরে যাওয়ার গ্লানি বুকে নিয়েও ভুলে গেলে চলবে না যোগ্যদের কাছে জয় স্বীকার করে নেওয়াই ফুটবলের আসল সৌন্দর্য।

