ইস্টবেঙ্গলের ভারত গৌরব সম্মান পাচ্ছেন সঞ্জীব সান্যাল। নামটা শুনে অবাক লাগল না? কে এই সঞ্জীব সান্যাল? কী খেলেছেন? কোথায় আর কবে? এঁর সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের যোগ কী? সব প্রশ্নের উত্তর আছে। কিন্তু এই পুরস্কার নিয়ে বিতর্কও রয়েছে।
কে সঞ্জীব সান্যাল?
কারণ, সঞ্জীব সান্যাল কোনও ক্রীড়াবিদ নন। তিনি হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অতি ঘনিষ্ঠ অর্থনীতিবিদ। রয়েছেন যোজনা কমিশনে। ভবিষ্যতে বাংলায় তাঁকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যেতে পারে। ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষ কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার ভবিষ্যতের ললাট লিখন দারুণভাবে পড়তে পারেন। তবে সারদা কাণ্ডে নিজের জেল যাত্রা আটকাতে পারেননি। এটাই হয়ত তাঁর একমাত্র ব্যর্থতা। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি। এ জন্যই ২০১১-র পরিবর্তনের আগেই রাজ্যের বিরোধী গোষ্ঠীতে থাকা অজিত বন্দোপাধ্যায়কে ২০০৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল ভালো ফল করতেই কমিটিতে নিয়ে এসেছিলেন। এতে প্রভুত লাভ হয়েছে লাল-হলুদ কর্তাদের। সুযোগ পেলেই অনুদান হিসেবে টাকা দিয়েছেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই টাকার কোনও হিসেবও চাওয়া হয়নি রাজ্য সরকারের পক্ষে থেকে। এরপর রাজ্য সরকারের দেওয়া ফ্লাড লাইটের তার চুরি গেলেও তা নিয়ে তদন্ত এগোয় না। পূর্ত দফতরের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে সবটা ঝেড়ে ফেলতে পারেন শীর্ষকর্তা।

সঞ্জীবের সঙ্গে ভারতগৌরব পাচ্ছেন সঙ্গীত পরিচালক প্রীতমও। বাঙালি কম্পোজারকে ভারত গৌরব দেওয়াটা অত্যন্ত কৌশলী সিদ্ধান্ত। বার্তাটা এমন যে ইস্টবেঙ্গল শুধুই প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ কেই সম্মান দিল না। সঙ্গে একজন বাঙালি সঙ্গীত পরিচালকও পেলেন এই পুরস্কার। এরা ক্লাবের আজীবন সদস্য পদ পাবেন।

কেন প্রধানমন্ত্রী ঘনিষ্টকে সর্বোচ্চ সম্মান?
এ নিয়ে ইস্টবেঙ্গল কর্তারা সঞ্জীবের সাফল্যের কথা তুলে ধরবেন নিশ্চিত ভাবেই। কিন্তু ক্যামেরার আড়ালে গেলেই জানাবেন, রাজনীতিবিদ বা প্রভাবশালী না হলে নাকি ক্লাব চালানো যায় না। আসলে সেই সাহসটাই দেখাতে পারেননি তিন বড় ক্লাবের কর্তারা। তিন ক্লাবের কর্তাদের নাম জড়িয়েছে সারদা মামলায়। জেল খেটেছেন দুই ক্লাবের দুই শীর্ষকর্তা। আরও কত কাটমানি, দুর্নীতির অভিযোগ যে আছে তা বলে শেষ করা যাবে না। ক্ষমতায় টিকে থাকতে নেতাদের মতোই শিবির বদলে গিয়েছেন তাঁরা। কখনও বাম, কখনও তৃণমূল, আর এখন বিজেপি।
রাজনীতি মুক্ত ময়দান গড়ার ডাক
ইস্টবেঙ্গলের ‘ভারত গৌরব’ মোদি ঘনিষ্ঠ অর্থনীতিবিদ সঞ্জীব সান্যাল, ক্রীড়া সম্মানেও এখন রাজনৈতিক সমীকরণ?রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর, কলকাতা রোয়িং ক্লাবে প্রথমবার ময়দানকে রাজনীতি মুক্ত করার ডাক দিয়েছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য। এরপর এক মাস ক্রীড়ামন্ত্রী থাকা নিশীথ প্রামানিকও একই কথা জানিয়ে দেন। বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁও তার ব্যতিক্রম নন। সকলেই ভেবেছিলেন সত্যিই বোধহয় ক্রীড়াক্ষেত্রে রাজনীতির অনুপ্রবেশ আটকানো যাবে। কিন্তু বাস্তবে কি সেটা হচ্ছে? প্রথমবার ভারত গৌরব সম্মান ক্রীড়াক্ষেত্রের বাইরে কাউকে দেওয়া হচ্ছে। যে সম্মান ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের জন্য সংরক্ষিত ছিল, তা এখন প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীদের ঘনিষ্ঠদের জন্যই কি সংরক্ষিত করতে চাইছেন লাল-হলুদ কর্তারা? গড়ের মাঠে এত ক্লাব, তাদের এত কর্তা, ক্রীড়াবিদ দিন রাত পরিশ্রম করে চলেছেন প্রায় কিছু না পেয়েই, তাঁদের কথা মনে হল না দেবব্রত সরকারদের? নাকি পুরোনো সারদা মামলার ফাইল খোলার ভয়েই ভারত গৌরব সম্মান আপাতত বিজেপি ঘনিষ্ঠদের জন্য সংরক্ষণ করতে চাইছেন তাঁরা? প্রশ্ন অনেক, উত্তর শুধুই অনুগত্য।

