সম্প্রতি মোহনবাগান দিবসে অদ্ভুত দাবি করে বসেছেন ক্লাবের সভাপতি দেবাশিস দত্ত। তাঁর দাবি, সবুজ-মেরুন ক্লাব মহিলাদের দল গড়ছে না আইএফএ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য। তিনি পদ থেকে সরলেই নাকি দল গড়বে মোহনবাগান, না না ভুল হল, মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট। আসলে কাকে বোকা বানাতে চাইলেন ময়দানের পোড় খাওয়া কর্তা? পাল্টা প্রশ্ন স্বাভাবিক ভাবেই এল না সাংবাদিকদের থেকে। আর এটাই আসলে কর্তাদের অনন্তকাল চেয়ারে বসে থাকার পাসওয়ার্ড। কেউ পাল্টা প্রশ্ন করেন না এক্সক্লুসিভ মিস হওয়ার ভয়ে।

পড়শি ইস্টবেঙ্গল যখন মেয়েদের দল গড়ে একের পর এক সাফল্য পাচ্ছে, এএফসি কাপে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছে তখন চাপ বাড়ছে মোহনবাগান ক্লাবের উপর। সমর্থকদের সেই ক্ষোভকে ক্লাবের নির্বাচনে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন দুই গোষ্ঠীই। বিশেষ করে সৃঞ্জয় বসুরা। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলে গড়া হবে মেয়েদের দল। ক্ষমতা ভাগাভাগি করে নিয়েছে দুই গোষ্ঠী। মানে আমে দুধে মিশে গিয়েছে। কিন্তু আঁটি মানে সমর্থকরা, তাঁদের দাবি গড়াগড়ি খাচ্ছে মাটিতেই। ঘরের ছেলে শিল্টন পালকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও, মোহনবাগানের ফুটবলের দায়িত্ব তো সৃঞ্জয় বসুরা আগেই বিক্রি করে দিয়েছেন সঞ্জীব গোয়েঙ্কাদের কাছে। তাই ভোটে প্রতিশ্রুতি থাকলেও, সিদ্ধান্ত নিতে গেলে মানাতে হবে শিল্পপতিকে। বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধার চেষ্টা আদৌ করেছেন সবুজ-মেরুন কর্তারা?
সূত্রের খবর তাঁরা চেষ্টা করেছিলেন, কাজ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে কখনও অজিত বন্দ্যোপাধ্যায় কখনও অন্য কারোর ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা। যাতে সমর্থকদের রোষ থেকে নিজেদের বাঁচানো যায়। সুপার জায়েন্ট কিন্তু মহিলাদের দল গঠনের ক্ষেত্রে আগ্রহী নয় এমন না। তবে তাদের নির্দিষ্ট কিছু দাবি আছে। মূলত মহিলা ফুটবলারদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত। সে দাবির কোনটাই বাদ দেওয়ার মতো নয়। কিছু বছর আগে, ইস্টবেঙ্গলের কয়েকজন মহিলা ফুটবলারকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল। সেই কলঙ্ক যাতে তাঁদের গায়ে না লাগে তাই ছেলেদের মতো মেয়েদের ক্ষেত্রে আলাদা পরিকাঠামো চায় সুপার জায়েন্ট।

আর এই ব্যবস্থাটাই এতগুলো বছরে করে দিতে পারেননি মোহনবাগান ক্লাবের কর্তারা। তাঁদের ইচ্ছে কতটুকু আছে তা নিয়েও বিস্তর প্রশ্ন আছে। নিজেদের চেয়ার ধরে রাখার তাগিদে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু দুই গোষ্ঠী মিলে যেতেই, চেয়ার হারানোর ভয় উধাও। তাই রাজনৈতিক নেতাদের মতোই প্রতিশ্রুতি ভুলে নিজেদের মতো যাকে পাচ্ছেন দোষ দিয়ে যাচ্ছেন কর্তারা। পাল্টা প্রশ্ন করার লোক নেই, আর তাই পার পেয়ে যাচ্ছেন হাস্যকর যুক্তি দিয়ে।
ইমামি চলে যাওয়ার পর ইনভেস্টর নেই ইস্টবেঙ্গলে। বিভিন্ন কোম্পানির স্পন্সর নিয়ে এবারের দল গড়েছে তারা। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের দলও একইভাবে চলছে। গতবার আইএসএল চ্যাম্পিয়ন। পরপর দেশের সেরা মহিলা দলও। যে ক্লাবের সমস্তটা জুড়ে রয়েছে ফুটবল। সেখানে সেই ফুটবলের স্বত্ব বিক্রি করে দেওয়া মোহনবাগান এখন অজুহাতের খোঁজে।

