ককরোচদের (Cockroach March) পূর্ব পরিকল্পিত কর্মসূচিতেও প্রশাসনিক বাধা। দীর্ঘদিনের প্রতিবাদ বিক্ষোভের পর ২০ জুলাই সোমবার ‘সংসদ চলো’র ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি সহ আন্দোলনরত ছাত্র-যুবরা। ধীরে ধীরে সেই ডাকেই দিল্লির যন্তর-মন্তরে ভিড় জমতে শুরু করেছে গোটা দেশ থেকেই। কিন্তু কর্মসূচির আগের দিনেই দিল্লি পুলিশের তরফে জানিয়ে দেওয়া হল কোনোরকমের মিছিলের অনুমতি নেই ককরোচদের। উল্লেখ্য, ওই দিনেই সংসদে বাদল অধিবেশন শুরু। সংসদে নিজেদের দাবি-দাওয়ার কথা পৌঁছে দিতেই এই দিনকে সামনে রেখে কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল সিজেপির তরফে। সিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, লিখিতভাবে অনুমতি না চাওয়া হলেও বিষয়টি আগেই পুলিশকে জানানো হয়েছিল। প্রথম থেকেই এ বিষয়ে অবগত দিল্লি পুলিশ। তাঁদের সদস্যরাও পুলিশকে এই বিষয়ে জানিয়েছিলেন।

কিন্তু দিল্লি পুলিশের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সংসদ অভিযানের অনুমতি নেই। এমনকি সংসদের দিকে মিছিল এগোলেও তা থামিয়ে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই আন্দোলনস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে বিরাট পুলিশ বাহিনী। প্রস্তুত রাখা হচ্ছে টিয়ার গ্যাস, জলকামানও। সংসদ এবং তার আশপাশের এলাকা উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারাও। অর্থাৎ ৫ জনের বেশি জমায়েত বরদাস্ত করবে না দিল্লি পুলিশ।
টিয়ার গ্যাসের ভ্যান আন্দলনস্থলে , দেখুন ভিডিও (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি HOW.)
প্রথম থেকেই প্রশাসনিক বাধার মুখেই আন্দোলন চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সিজেপি। তাঁদের মঞ্চ থেকে শনিবার তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে অনশনরত সোনাম ওয়াংচুককে। কোনওরকম অনুমতি, আলোচনা ছাড়াই তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে দিল্লির একটি হাসপাতালে। তবে এই ঘটনার পরেও দমানো যায়নি ককরোচদের। সোনমের পর অন্যান্য ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে অনশনে বসেছেন সিজেপির নেতৃত্ব অভিজিৎ দীপকে। ভারতের ছাত্র ফেডারেশন (SFI) এর তরফেও দুজন বসেছেন আমরণ অনশনে। দাবি একটাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

তবে সোনমকে সরিয়ে নিলেও মানসিক ভাবে এই আন্দোলনকে শক্তি জোগাচ্ছেন তিনি। হাসপাতালেও তাঁর অনশন ভাঙাতে পারেননি চিকিৎসকেরা। হাতে লেখা চিঠিতে আন্দোলনের সাফল্য কামনা করেছেন সোনম। হাসপাতালে তাঁর এই বন্দিদশাকে ‘বেআইনি আটক’ বলে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান তিনি। সঙ্গে সিজেপির এই অভিযানকে “ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন” বলেও অভিহিত করেন। তবে এত আইনি জটিলতার মধ্যেও সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ২০ জুলাই তাঁদের সংসদ অভিযান যাত্রা জারি থাকবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমর্থন জুটেছে এই প্রতিবাদের, সঙ্গে একটি মিসডকল ক্যাম্পেইনও চালু হয়েছে। যেখানে ভার্চুয়ালি এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন ১ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ।

