বিকাশের নামে বিনাশ! উত্তরাখণ্ডের হাজার হাজার গাছ কাটা রুখে দিল জনতার আন্দোলন

৮৭ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

ঋষিকেশ হাইওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পে ৪,৩৬৯টি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল উত্তরাখণ্ড (Uttarakhand) সরকার। তবে এই ঘোষণার পরেই বিপুল জনরোষের মুখে পড়ে সরকারের এই সিদ্ধান্ত। গাছ বাঁচাতে তীব্র প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু হয়। অবশেষে বিক্ষোভের চাপে সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটল সরকার। উন্নয়ন প্রকল্পে আপাতত গাছ কাটার কাজ স্থগিত থাকবে বলেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। তিনি জানান, মানুষের উদ্বেগ ও আপত্তির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আপাতত প্রকল্পের গাছ কাটার কাজে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। উত্তরাখণ্ডের ২০ কোটি কিমি দীর্ঘ ঋষিকেশ-ভানিয়াওয়ালা চার লেনের সড়ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। এর বিরুদ্ধেই গত কয়েকদিন ধরে পরিবেশবিদ, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। তাঁদের দাবি ছিল, বন ধ্বংস না করে বিকল্প রুট বিবেচনা করে হাইওয়ে সম্প্রসারণ করা হোক। তাঁদের দাবি এই এলাকাটি শিবালিক অরণ্যের অংশ, সঙ্গে রাজাজি টাইগার রিজার্ভের খুব কাছেই এই সড়ক। এটি হাতির চলাচলের অন্যতম প্রধান করিডর। গাছ কাটা পড়লে বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক আবাসস্থল বিঘ্নিত হবে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হবে। এরপরেও পুলিশি পাহারায় গাছ কাটার কাজ শুরু হলে আন্দোলন আরও ব্যাপক আকার নেয়। বিক্ষোভকারীরা গাছ জড়িয়ে ধরে, মানববন্ধন গড়ে তুলে শান্তিপূর্ণ কিন্তু দৃঢ় ‘চিপকো আন্দোলন’-এর স্মৃতি উসকে দিয়েছেন। অতঃপর এই বিক্ষোভের মুখে পড়েই গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দিয়েছে সরকার।

গাছ কাটার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

এর মধ্যেই আরও একটি ঘটনায় আন্দলোনের উত্তাপ বাড়ে। প্রশ্ন ওঠে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ নিয়েও। শুক্রবার সকালে ঋষিকেশের বারকোট রেঞ্জ এলাকায় জাতীয় সড়কের কাছে গাড়ির ধাক্কায় একটি মাদি সাম্বর হরিণের মৃত্যু হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, এই ঘটনাই প্রমাণ করছে যে বর্তমানে যানবাহনের গতির কারণে বন্যপ্রাণীরা কতটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, রাস্তা আরও চওড়া হলে গাড়ির গতি বাড়বে এবং এ ধরনের দুর্ঘটনার সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে।

গাছ জড়িয়ে বিক্ষোভ

এদিকে শুক্রবার বিষয়টি রাজনৈতিক মাত্রাও পায়। দেরাদুনে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ফেরার পথে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বন সংরক্ষণ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত এক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দেখা করেন। রাহুল গান্ধীর কাছে প্রস্তাবিত প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব তুলে ধরেন বিক্ষোভকারীরা। এরপর রাহুল আশ্বাস দেন এই বিষয়টি তিনি লোকসভায় তুলে ধরবেন। তবে, ঋষিকেশ হাইওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পে আপাতত গাছ কাটার কাজ বন্ধ থাকলেও, ভবিষ্যতে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েই যাচ্ছে।

রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ

উন্নয়ন এবং কংক্রিকটের সঙ্গে পরিবেশের বিবাদ আজকের নয়। জল-জমি ভরাট করে কংক্রিটের জঙ্গল বানাতে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য। মধ্যপ্রদেশেও নদী-জঙ্গল বাঁচাতে চিতা আন্দলোন শুরু করেছেন আদিবাসীরা। এই অসম লড়াইয়ের শেষে জয় কাদের হয় তা তো সময়ই বলবে।

অন্যান্য প্রতিবেদন.