আজ ২রা অক্টোবর, গান্ধীজয়ন্তির দিন উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটি বণিক মোড়ে এসএফআই (SFI) ও বামফ্রন্টের উদ্যোগে আয়োজিত একটি উন্মুক্ত রাজনৈতিক সভাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন হিংসা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এই আকস্মিক ও সশস্ত্র হামলায় বাম শিবিরের একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব, মহিলা কর্মী এবং ছাত্রনেতা-নেত্রী গুরুতরভাবে আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যায় যখন বিরাটির বণিক মোড়ে সভা প্রস্তুতি ও ওপেন সেশনের কাজ চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ করেই প্রায় দেড়শ দুষ্কৃতী বাইকে করে এসে চত্বরে চড়াও হয়। হামলাকারীরা এসএফআইয়ের সভামঞ্চ, চেয়ার ও সাউন্ড সিস্টেম সম্পূর্ণ ভাঙচুর করে। এই প্রতিরোধমূলক প্রচেষ্টায় বাধা দিতে গেলে দুষ্কৃতীদের মারধরে উত্তর দমদম পৌরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান শিবশংকর ঘোষ গুরুতর জখম হন; তাঁর মাথা ও পেটে আঘাত লেগে রক্তক্ষরণ হয়। পাশাপাশি, যুবনেত্রী তথা সিপিআইএম নেত্রী দীপ্সিতা ধর এবং ছাত্রনেতা অঙ্কিতা দত্ত চৌধুরী ও আকাশ কর সহ বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হন। প্রতিবাদ জানাতে গেলে মহিলা কর্মীদের ওপরও চড়াও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে লজ্জাজনক বিষয় হলো, মহাত্মা গান্ধীর প্রতিকৃতিতেও ভাঙচুর ও অসম্মান করা হয়, যা নিয়ে তীব্র সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন সিপিআইএমের রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, যার মধ্যে বর্ষীয়ান নেতা সুজন চক্রবর্তী ও দীপ্সিতা ধর উপস্থিত ছিলেন। বাম শিবিরের পক্ষ থেকে সরাসরি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধে এই হামলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। দীপ্সিতা ধর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান যে, গান্ধী জয়ন্তীর দিনে আদর্শের লড়াইয়ে ভয় দেখিয়ে বামেদের আন্দোলন দমানো যাবে না এবং ওই একই স্থানেই পুনরায় সভা সংগঠিত করা হবে।

অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব একে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। তাদের পালটা বক্তব্য, এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনো যোগ নেই, এটি স্থানীয় স্তরের কোনো উত্তেজনা বা অন্তর্ঘাত হতে পারে, যার পুলিশি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। বর্তমানে নিমতা থানার পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় মোতায়েন রয়েছে এবং পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।
মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিবসে একটি রাজনৈতিক দলের মুক্ত সভামঞ্চে এহেন আক্রমণ এবং জাতীয় নেতার প্রতি অসম্মান প্রদর্শন সুস্থ গণতন্ত্রের পরিপন্থী। বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে হামলা চালিয়ে স্তব্ধ করে দেওয়ার এই প্রবণতা বাংলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলেছে। আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণের আগে এ ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক পারদকে আরও চড়িয়ে দিয়েছে৷

