কমেছে ৯ কেজি ওজন, রোজ স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্টের, কেমন আছেন ওয়াংচুক?

১৪ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

ওয়াংচুক বলেছিলেন, ‘এবার হয়ত মরে যাব, কিন্তু পিছু হটব না’, প্রায় ১৯ দিনে পড়ল তাঁর অনশন। স্বাস্থ্যহানির প্রমাণ জ্বলজ্বল করছে। এই আবহেই অনির্দিষ্টকালের অনশনে থাকা পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার উপর প্রতিদিন নজরদারির নির্দেশ দিল দিল্লি হাই কোর্ট। বৃহস্পতিবার আদালত জানিয়েছে, “প্রত্যেক নাগরিকের জীবন মূল্যবান।” নিয়মিত ক্লিনিক্যাল স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং অবিলম্বে হাসপাতলে ভর্তি করানোর নির্দেশও দিয়েছে হাইকোর্ট। এই নির্দেশ দেওয়ার পর তাঁর চিকিৎসার দাবিতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার নিষ্পত্তি করেছে আদালত।


আদালতে দায়ের হওয়া আবেদনে বলা হয়, গত ২৮ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশনে রয়েছেন ওয়াংচুক। দীর্ঘদিন অনশন চালিয়ে যাওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। সেই কারণেই তাঁকে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার আর্জি জানানো হয়েছিল।

অনশনে ওয়াংচুক

চিকিৎসকদের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, অনশন শুরুর পর থেকে ওয়াংচুকের ৯ কেজিরও বেশি ওজন কমেছে। তাঁর রক্তে শর্করার মাত্রা ৮০ মিলিগ্রাম প্রতি ডেসিলিটার, পালস রেট মিনিটে ৭২ এবং শরীরে জলের পরিমাণ এখনও স্বাভাবিক রয়েছে। তবে চিকিৎসকদের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন অনশন চলতে থাকলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির ক্ষতি হতে পারে।স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও অনশন ভাঙতে নারাজ ওয়াংচুক। তাঁর বক্তব্য, সরকারের তরফে দাবি নিয়ে কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ না হলে অনশন প্রত্যাহারের প্রশ্নই নেই।


এদিকে, ওয়াংচুকের সমর্থনে যন্তর মন্তরে একদিনের গণঅনশনের ডাক দেওয়া হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সমাজকর্মী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাক্তন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও অনশন মঞ্চে যেতে পারেন বলে খবর। সেই কারণে যন্তর মন্তর চত্বরে নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে।

কমেছে ৯ কেজি ওজন

প্রসঙ্গত, ২৮ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসেছেন সোনম ওয়াংচুক। তিনি জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায়, বিশেষ করে NEET প্রশ্নপত্র ফাঁস-সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে জবাবদিহির দাবি তুলেছেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও জানিয়েছেন। আদালতের নির্দেশের পরও আপাতত তাঁর অনশন চালিয়ে যাওয়ারই ইঙ্গিত মিলেছে।

অন্যান্য প্রতিবেদন.