দিল্লির আন্দোলন দেশজুড়ে ছাত্রদের সাহস জুগিয়েছে তা বলাই বাহুল্য। ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকে অন্য মাত্রায় পৌঁছে দেয় প্রকৌশলী, শিক্ষাবীদ সোনম ওয়াংচুকের অনশন। তাঁর একরোখা জেদ এবং দাবির সামনে পরবর্তীতে মাথা নত করতে হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারকেও। এবার ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (JSSC)-এর নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম এবং কারচুপির বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠে আসছে আরও একজন ছাত্রনেতার নাম। তিনি দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো (Devendra Nath Mahto)।

ঝাড়খণ্ডের এই আন্দোলনের সংহতিতে গত ৩রা অগাস্ট থেকে আমরণ অনশন শুরু করেছেন দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলনকে নতুন করে জাতীয় স্তরের আলোচনায় এনে দিয়েছে। ১৪তম JPSC সিভিল সার্ভিসেস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল ৫ জুলাই প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই এই আন্দোলনের সূচনা হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, ফল প্রকাশের পর পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় একাধিক অসঙ্গতি ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। দেবেন্দ্রর কথায় ২৫ জুলাই থেকে রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে ছাত্রদের অবস্থান-বিক্ষোভ চললেও তাঁদের দাবিদাওয়া নিয়ে প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই ছাত্রনেতা। এতদিন নির্জলা অনশন চালিয়ে নিয়ে গেলেও বুধবার সোনম ওয়াংচুকের ফোন পেয়ে জল ও লবণ গ্রহণ করেছেন দেবেন্দ্র। তবে তিনি একথাও স্পষ্ট জানিয়েছেন, ঝাড়খণ্ড সরকার ছাত্রদের দাবিগুলি না মানা পর্যন্ত তিনি খাবার গ্রহণ করবেন না। তাঁদের মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে— ১৪তম JPSC কম্বাইন্ড সিভিল সার্ভিসেস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বাতিল, নিয়োগ দুর্নীতির সিবিআই (CBI) তদন্ত, এবং রাজ্যের নিয়োগ ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার।

কে এই ছাত্রনেতা?
দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো রাঁচির একটি ছোট্ট গ্রামে বেড়ে ওঠেন। বুন্ডু থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর তিনি রাঁচির ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি স্নাতকোত্তর করেছেন সংস্কৃত-কুর্মালি এবং আদিবাসী ও আঞ্চলিক ভাষায়। এছাড়াও হাজারিবাগ থেকে বি.এড কোর্স করেছেন দেবেন্দ্র।
বেশ মেধাবী এই ছাত্রনেতা প্রথম থেকেই একাধিক বিষয় নিয়ে সরব হয়েছেন। রাজনীতিতেও আগ্রহ রয়েছে তাঁর। সমাজসেবাও তাঁর নেশা। ২০২৪ সালের ঝাড়খণ্ড বিধানসভা নির্বাচনে তামাড় বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এই ছাত্রনেতা। ২০১৫ সাল থেকেই বৃত্তি, প্রশ্নফাঁস, নিয়োগ নীতি, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং JPSC ও JSSC-র পরিচালিত বিভিন্ন পরীক্ষার অনিয়মের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তিনি।

তাঁদের এই আন্দোলনকে সংহতি জানিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্ব অভিজিৎ দীপকে। বুধবার ভিডিও কোলে ১০ মিনিটের উপরে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গেও কথা হয় দেবেন্দ্র মাহাতোর। সোনমের কথাতেই জল গ্রহণ করেন দেবেন্দ্র। এই আন্দোলনকে বৃহত্তর রূপ দিতে সোনমের সাহায্য ও সমর্থনেরও অনুরোধ করেন দেবেন্দ্র।
দিল্লির সংসদ ভবনে বাদল অধিবেশন শুরুর দিনেই রণক্ষেত্র চেহারা নিয়েছিল রাজধানী। এদিকে বৃহস্পতিবার ঝড়খণ্ড বিধানসভায় শুরু হতে চলেছে বাদল অধিবেশন। তার আগে এই ছাত্র আন্দোলন রীতিমতো চাপ বাড়াচ্ছে সরকারের উপর। দেবেন্দ্রর সঙ্গে অনশনে যোগ দিয়েছেন রাজ্যের আরও ৫ জন চাকরি প্রার্থী। আগামীতে একটি তিরঙ্গা যাত্রারও পরিকল্পনা করছেন আন্দোলনকারীরা।
বিপুল চাপের মুখে পড়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন (Hemant Soren)। ছাত্রছাত্রীদের দাবীদাওয়াকে গুরুত্ব সহকারে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (JMM) রয়েছে INDIA-জোটে। এই বিষয়ে সংসদের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এখনও কেন চুপ তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

