প্রতীক ও দৃশ্যকল্প : নয়া-রাষ্ট্রের উত্থান?

৫৬ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে ত্রিশূল হাতে অর্ধনগ্ন নাগা সন্ন্যাসীদের নাচ। একজনের ঘাড়ের উপর আরেকজন উঠে পড়েছেন তাঁরা। অস্ত্র হাতে গোটা যাদবপুরের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছেন যেন। চারনম্বর গেটের বন্ধ ফটকের উপরে উঠে পড়েছেন একাধিক অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের কর্মী। তাঁদের কারও পায়ের চাপে ভেঙে পড়ছে শিল্পী নন্দলাল বসুর হাতে-তৈরি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমব্লেম। যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’, ‘দেশবিরোধী, ‘দিমাগী নকশাল’ বলে হামেশাই দাগিয়ে দেন এই অতিদক্ষিণপন্থী ছাত্রসংঘের নেতারা, তাঁরা হয়তো ভুলে গেছিলেন, স্বাধীন ভারত-রাষ্ট্রের সংবিধান গ্রন্থটির অলংকরণ করেছিলেন প্রখ্যাত এই শিল্পী—নন্দলাল বসুই। বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সেই ভাঙা এমব্লেমটি হাতে ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন—এই দৃশ্য এক অন্তিম প্রতিরোধ ও এই নতুন আগ্রাসী চেহারার আক্রমণের সামনে এই ভারতবিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের ‘বাঁশের কেল্লা’ হয়ে ওঠার প্রতীক হয়ে উঠবে। বিগত তৃণমূল জমানাতেও অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের মিছিল একাধিকবার এগিয়েছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে। সামাজিক মাধ্যমে সেইসময়ের পুলিশি ব্যারিকেডের সামনে উদ্যত এবিভিপি কর্মীর লৌহযবনিকা টপকে উঠে-পড়া অথবা ওই চারনম্বর গেটের সামনেই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মানববন্ধনের ছবি এখনও যথেষ্ট ভাইরাল। কিন্তু, বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে নাগা সন্ন্যাসীদের জমায়েত? এহেন দৃশ্য এই প্রথমবার ঘটতে দেখল বাংলা!

ব্রহ্ম প্রকাশ তাঁর সম্প্রতি প্রকাশিত ‘স্পেক্ট্যাকল স্টেট : হাউ হিন্দুত্ব শেপস ফিলিংস অ্যান্ড কালচার’ বইতে এই নয়া-রাষ্ট্রের বিবিধ লক্ষণ ব্যাখ্যা করেছেন। মনে পড়ে যাবে এর কিছুদিন আগেই উত্তরপ্রদেশের ‘কাঁওয়ার যাত্রা’-র অজস্র ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল নেটদুনিয়ায়। বিশাল আকৃতির ডিজে বাজিয়ে উন্মত্তের মতো নাচছেন কমবয়সী ‘কাঁওয়ার-যাত্রী’রা। প্রকাশ্যেই নেশা করছেন তাঁরা। তাঁদের মনোরঞ্জনের জন্য গাড়ির মাথায় স্বল্পবসনা নর্তকীদের জড়ো করা হয়েছে। তাদের যৌন ইঙ্গিতের তালে তালে নেচে উঠছে হাজার হাজার জনতা। এই গোটা দৃশ্যটিই গড়ে তুলছে এক নয়া ‘স্পেক্ট্যাকল’। আবহমান হিন্দুধর্মের চেনা বিবিধ অভিব্যক্তির সঙ্গে এর খুব একটা মিল নেই। এখানে ধর্ম পুরোটাই চোখ-ধাঁধিয়ে দেওয়া এক ঝলমলে বিষয়। যা, ব্রহ্ম প্রকাশের ভাষায়, একইসঙ্গে ‘ফ্যাসিনেটিং’—উত্তেজক ও উদ্দীপক। গোটা উত্তর ও মধ্যভারত জুড়ে যে রামনবমীর শোভাযাত্রা, প্রকাশ্যে চলতে-থাকা বুলডোজারের ডগায় উচ্ছেদ হয়ে-যাওয়া মানুষের ঝুপড়ি, বস্তি, ঘরবাড়ি, ফুটপাতের দোকানপাট এবং তা দেখে সমবেত মানুষের উত্তেজনার ছবির সঙ্গে বিগত বারো বছর ধরে পরিচিত হয়েছি আমরা, তার সঙ্গে কি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে সমবেত নাগা সন্ন্যাসীদের ওই ছবির কোনও মিল আছে? সম্ভবত রয়েছে। এগুলো সবই আজকের প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক হিন্দুত্বের গণসমাবেশের নতুন চেহারা, যেখানে ক্ষুধার্ত, প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়াহীন, কর্মসংস্থানহীন এক বিরাট ফুটসোলজার বাহিনী সরকারি নীতিনিয়মকেই প্রতিষ্ঠিত করতে রাস্তায় নেমে এসেছে। এই বাহিনীর কাছে ‘যুক্তি’র পারম্পর্য আলাদা, এদের ইতিহাসবোধ বস্তুনিষ্ঠার ধারপাশ দিয়েও যায় না, এরা কেবল ‘অপর’কে চিহ্নিত করতে জানে এবং তাদের উপর আক্রমণ নামিয়ে আনতে এরা রীতিমতো পটু ও তৎপর। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, তার প্রতিষ্ঠানবিরোধিতার দীর্ঘ চরিত্র, তার মুক্ত ও খোলাচোখে বিদ্যমান ব্যবস্থাকে প্রশ্ন করার যে ধারাবাহিকতা, সেসম্পর্কে কোনও আবেগ তো দূরের কথা, বিন্দুমাত্র জ্ঞানও এদের নেই। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ফ্যাকাল্টি মিলিয়ে বারোহাজার ছাত্রছাত্রী, তাদের সকলকেই এক ব্র্যাকেটে ফেলে দিয়ে এই সমস্ত ছাত্রছাত্রীদেরই ‘দেশবিরোধী’ বলে দাগিয়ে দেওয়াই এই ‘অপরীকরণে’র পন্থা। বছরদুয়েক আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একইরকম অভিযোগ এনেছিলেন বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে। তাঁর যুক্তি ছিল, হার্ভার্ডে ‘বামপন্থা’র চাষাবাদ হয়, অতএব তাঁর সরকার ওই বিশ্ববিদ্যালয়কে সরকারি অনুদান দেবে না। ওদেশে এবং এদেশেও এই অতিদক্ষিণপন্থার জ্ঞানের উৎস একধরনের ‘ফ্যাব্রিকেটেড হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটি’। ইতিহাসনিষ্ঠার সঙ্গে যার বিশেষ কোনও যোগ নেই।

নন্দলাল বসুর তৈরি সেই প্রতীক

গোটা দেশের মতোই আজকের বাংলাতেও এই নয়া-হিন্দুত্বের ফুটসোলজার কিন্তু মূলত আর্থিকভাবে, শিক্ষায়-দীক্ষায়, সামাজিক পরিচিতিতে, পারিবারিক-সাংস্কৃতিক পুঁজিতে পিছিয়ে থাকা মানুষ। যারা দিনের পর দিন দূর থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে দেখেছে, কিন্তু এন্ট্রান্স পরীক্ষা দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে পারেনি। এরা যাদবপুর, প্রেসিডেন্সি, জওহরলাল নেহেরু ইউনিভার্সিটিকে মূলত ভিন্‌গ্রহের এলিট প্রতিষ্ঠান বলেই ভেবে এসেছে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়কে কব্জা করার কাজ বহুলাংশে এগিয়ে গেছে। কিন্তু যাদবপুরকে এখনও দমানো যায়নি। যাদবপুরের আর্টস ফ্যাকাল্টিতে এখনও বার্ষিক ১,২৩৪ টাকা ফি দিয়ে পড়াশুনো করা যায়। এটাই স্বাধীনতা-উত্তর ভারতীয় সরকারি উচ্চশিক্ষার মডেল ছিল। আজ উলটো যুক্তি গড়ে তোলা হচ্ছে—পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে জনগণের পয়সায় ‘দেশদ্রোহী’দের আখড়া কেন গড়ে উঠবে? যারা প্রশ্ন করছে এবং যাদের মাথায় এই প্রশ্নকে সঙ্গত হিসেবে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে, ব্রহ্ম প্রকাশের ভাষায় তারাই আজকের ‘সাব-অল্টার্ন হিন্দুত্বের’ ধারক-বাহক। বহু আগে, একটি সেমিনারে নিম্নবর্গের ইতিহাসবিদ গৌতম ভদ্রকে বলতে শুনেছিলাম—’হোলিস্টিক সাব-অল্টার্ন’ বলে কিছু হয় না। অর্থাৎ যে নিম্নবর্গ ইতিহাসের কোনও কোনও মুহূর্তে শাসকের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটায়, সে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিস্থিতিতে শাসকের বিশ্বস্ত সেনাবাহিনী হিসেবেও কার্যকর হয়ে উঠতে পারে। এবং এই হিন্দুত্বের আস্ফালনের মধ্যে যে ‘পৌরুষে’র চিহ্ন প্রকাশ্যে ফুটে বেরোয়, সেটাই তাদের নিজেদের জীবনের দীর্ঘদিনের না-পাওয়া, উৎকণ্ঠা ও বঞ্চনাকে উল্টোভাবে মান্যতা দেয়। ব্রহ্ম প্রকাশ এদের প্রসঙ্গেই বলেছেন—‘they participate as part of a rebellious subculture including competitive masculinities’। তাই লখনৌয়ের রাস্তায় বিজেপি নেতার বিশাল প্রচারগাড়ির সামনে গেরুয়া পতাকা হাতে হনুমান-সাজে সজ্জিত হিন্দুত্বের ফুটসোলজারকে দেখা যায়। এতে তার ধর্মীয় ভাবাবেগ কোথাও আহত হয় না। বরং এই ক্ষমতা ও শক্তি প্রদর্শনের চেহারাটি হয়ে ওঠে ‘assertive’। গোটা গ্রামবাংলা জুড়ে অজস্র স্থানীয় দেবদেবীর যে পূজার প্রচলন ছিল, তাকে প্রতিস্থাপিত করে আজ একমাত্রিক হিন্দুত্বের প্রতীক হয়ে উঠছেন ‘শ্রীরামচন্দ্র’। কিন্তু এই রামও কৃত্তিবাসী রামায়ণের ‘ভক্তিবাদী’ ধারায় গড়ে ওঠা নরম বাঙালি রাম নন। ইনি উত্তর ভারতের ‘হাইপার-ম্যাস্কুলিন’ রাম। তাঁর অনুগত রাগী হনুমানের যে প্রতীকটি প্রতিনিয়ত জনপ্রিয় হচ্ছে সেই হনুমানও ‘ভক্তিবিনত’ দাস্যরসের প্রতীক নন। তিনিও ‘ম্যাস্কুলিন’ হনুমান। এই গোটা ধর্মীয় প্রতীক ও দৃশ্যকল্প নির্মাণের প্রক্রিয়ায় চিহ্নিত ‘অপর’ হয়ে উঠছে কখনও মুসলমান সম্প্রদায়, কখনও প্রাক্তন তৃণমূল নেতাকর্মীরা, কখনও গোটা বামপন্থী দর্শন, কখনও আবার এই কিছুতেই মাথা-না-নোয়ানো যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নাতুর, গোটা দেশ ও জগতের হালহকিকতের খোঁজখবর রাখা, জেদি ছাত্রছাত্রীরা। এ হল ‘শত্রু’-চিহ্নিতকরণের এক নতুন প্রকরণ। যার একদিকে রয়েছেন বিভিন্নবয়সী ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের ‘ইনফ্লুয়েন্সার’, ‘বুমার’রা। আর একদিকে সেই শত্রুশিবিরকে পরাস্ত করতে মাঠে নামছে এই সাব-অল্টার্ন হিন্দুত্বের ধারক-বাহকেরা। যারা দীর্ঘদিন অব্দি ভেবে এসেছেন, বিজেপি ও সংঘ আসলে ব্রাহ্মণ-রাজপুত-বানিয়াদের পার্টি, তাঁরা টেরই পাননি, কীভাবে গোটা দেশের মতোই এই পশ্চিমবঙ্গেও মধ্যমবর্ণ-দলিত-আদিবাসীরা নয়া- হিন্দুত্বের ছাতার তলায় নিজেদের সমাবেশ ঘটিয়েছেন। গজদন্তমিনারে বসে-থাকা পুঁথিসর্বস্ব আর্মচেয়ার মার্কসবাদী থেকে সচ্ছল ‘লিবারেল’ ঘেরাটোপের বাসিন্দারা পুরোটা বোঝার আগেই খেলা প্রায় তাদের হাতের বাইরে চলে গেছে। ‘অখণ্ড হিন্দুত্বে’র এক নতুন আত্মপরিচিতি বাম-ডান-মধ্য নির্বিশেষে সমস্ত দলের সমর্থকদেরই এই ছাতার নীচে নিয়ে এসেছে। যার পালটা ন্যারেটিভ আজও গড়ে তোলা যায়নি। কারণ, সমস্যার গভীরে ঢুকে, তাকে যথাযথ বিশ্লেষণ করার মতো সাংগঠনিক শক্তি এখনও তৈরি হয়নি।

এই নতুন ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক আত্মপরিচিতির নন্দনতত্ত্ব মূলত ‘শক থেরাপি’তে বিশ্বাসী। তাই সে কখনও ‘আকাদেমি অফ ফাইন আর্টস’-এর টিকিট কাউন্টারকে গেরুয়া রং-এ লেপে দেয়, কখনও আস্ত কুম্ভমেলার চেহারা ফুটিয়ে তোলে বেঙ্গল ল্যাম্পের গেটে। আমরা যাকে এতোদিন ‘র‍্যাশনালিটি’ ভেবেছি, সেই যুক্তিক্রম এক্ষেত্রে অসার। কারণ, এর বহিঃপ্রকাশ মূলত ‘ইনস্টিংক্ট’-নির্ভর, জান্তব। গণ-অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও এই হিন্দুত্ব মূলত একটি ‘থিয়েটার-এরিনা’র জন্ম দেয়, গণ-উন্মাদনার অরৈখিক যুক্তিই যার অন্যতম হাতিয়ার। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্যেক বছরের সমাবর্তন উৎসব এবং পনেরোই আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান-সূচিতে ‘বন্দেমাতরম্‌’ গাওয়া হয়ে এসেছে ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তবুও সুবোধ মল্লিক রোডের বিশাল জমায়েতে দশহাজার কণ্ঠে ‘গীতাপাঠ’ বা ‘বন্দেমাতরম’ উচ্চারণ আসলে ওই ‘স্পেক্ট্যাকল’ তৈরির পরীক্ষিত কৌশল, যা এক নতুন রাষ্ট্রের আগমন-ধ্বনি ঘোষনা করে। সুচিত্রা বিজয়ন, ভক্তি শ্রীঙ্গারপুরে ও মাধুরী শাস্ত্রীর মতো সমাজবিজ্ঞানীরা একেই বলছেন—আজকের অতিদক্ষিণপন্থার নন্দনতত্ত্ব, যা ভারতে বলিউড মুভি, এইচ-পপ বা ‘হিন্দু-পপ’ সংগীত, ক্রিকেট ময়দান, সারাবছরব্যাপী অজস্র ছোটো-বড়ো উৎসবের ধামাকা, বিবাহ অনুষ্ঠান, ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির বিজ্ঞাপন, মিম নির্মাণ এবং এআই-নির্মিত অজস্র ইমেজের মাধ্যমে নিজের আধিপত্যবাদী প্রতীকগুলোকে জনমানসে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। এর মধ্যে দিয়ে দেবদেবীর সামরিকীকরণ ঘটেছে আর গণ-মনস্তত্ত্বে শক্তি প্রদর্শনের নিত্যনতুন প্রতীক চিরস্থায়ী রূপ নিচ্ছে। রোলাঁ বার্ত-এর ‘আ লাভার্স ডিসকোর্স’-এর সেই অংশটিই যেন প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে, যেখানে বার্ত বলছেন, শব্দকে তার ‘রেটরিক্যাল সেন্স’ নয়, বরং ‘জিমন্যাস্টিক অ্যান্ড কোরিওগ্রাফিক অ্যাকসেপ্টেন্স’ হিসেবে গেঁথে দেবার চেষ্টার কথা। মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে উন্মত্ত মবের ডিজে বাজানো আর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট-এ নগ্ন সাধুর সমাবেশ সেই শারীরিক নন্দনতত্ত্বের বহিঃপ্রকাশ। ঘৃণা যার অন্তর্নিহিত একমাত্রিক শক্তি। এক্ষেত্রে ‘বুলডোজার’ নিছক যন্ত্র নয়, বরং ‘অপর’কে দমনের প্রকাশ্য ডিসপ্লে। অনেকেরই মনে পড়বে ২০১৭-র কথা। জওহরলাল নেহেরু ইউনিভার্সিটির তৎকালীন উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে একটি সামরিক ট্যাংক বসিয়ে দিয়েছিলেন। এটি আসলে ক্ষমতা আর ভীতিপ্রদর্শনের বাস্তব প্রতীক।

মরাল পোলিসিং-এর ভাইরাল মোবাইল ভিডিও, মব লিঞ্চিং-এর চলমান ক্লিপ সবই এই নয়া-রাষ্ট্রের প্রতীক ও দৃশ্যকল্প। যা ঝাঁঝালো ও উত্তেজক মাদকের মতো আচ্ছন্ন করে দেবার শক্তি ধরে। ক্ষমতার এই নয়া-নন্দনতত্ত্বকে বুঝতে পারলেই এর বিকল্প সমাবেশ গড়ে তোলা সম্ভব। সেটাই আজকের রাজনৈতিক সক্রিয়তার পাঠ হয়ে উঠতে পারে। হয়ে উঠতে পারে প্রতিরোধের হাতিয়ার।

অন্যান্য প্রতিবেদন.