পরীক্ষার মরসুমেই স্কুল-কলেজে বাধ্যতামূলক “নমো সেবা”, শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষাটাই সেকেন্ডারি!

১২২ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

পরীক্ষার মরসুমেই স্কুল-কলেজে বাধ্যতামূলক “নমো সেবা”, শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষাটাই সেকেন্ডারি!

​রাজ্যের স্কুল ও কলেজগুলিতে পরীক্ষা চলাকালীন ‘বিকশিত ভারত’ কর্মসূচি পালন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২৫ বছরের রাজনৈতিক যাত্রার সাফল্য উদযাপনে নাটক মঞ্চস্থ করার নির্দেশিকাকে জারি করেছে কেন্দ্র৷ দেশের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্কুলগুলিতে ‘নমো সেবা’ এবং ‘নমো মোদীর অজানা কাহিনি’ শীর্ষক নাটক মঞ্চস্থ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি নাটকের স্ক্রিপ্ট বা পাঠও সরকার সরবরাহ করছে বলে বলা হয়েছে৷

বর্তমানে রাজ্যের স্কুলগুলিতে একাদশের প্রথম সেমিস্টার এবং উচ্চমাধ্যমিকের তৃতীয় সেমিস্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষার এই ব্যস্ত সময়ের মধ্যেই প্রশাসনের তরফে কর্মসূচি পালনের চাপ তৈরি হওয়ায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।​ বিদ্যালয় স্তরে ‘স্বপ্নের ভারত, বিকশিত ভারত’ থিমকে সামনে রেখে অঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং তাৎক্ষণিক বক্তৃতার মতো কর্মসূচি আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


​এই ধরনের নির্দেশিকার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষক ও অধ্যাপক সংগঠন। শিক্ষক সংগঠনগুলির মতে, স্কুল-কলেজ হলো জ্ঞানচর্চা ও পঠনপাঠনের স্থান৷ সেখানে দলীয় বা নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির সাফল্য প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ অনুচিত।


​ যখন ছাত্রছাত্রীরা তাদের পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়ে বাধ্যতামূলকভাবে সাংস্কৃতিক বা রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের চাপ পড়ুয়াদের মানসিক ফোকাস নষ্ট করছে।সমালোচকদের একাংশের মতে, এই ধরনের কর্মসূচি মূলত রাজনৈতিক দলের কার্যালয় বা মঞ্চে মানায়। কিন্তু সরকারি ও সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়াদের বাধ্য করে এসব করানো গণতান্ত্রিক কাঠামোর পরিপন্থী।


​এই গোটা ঘটনাটি রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে যখন কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনমুখী বা ভাবাদর্শগত প্রকল্প ও কর্মসূচি রাজ্য স্তরে বাস্তবায়িত করার বা তার প্রচারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে তা নিয়ে স্থানীয় শিক্ষক সমাজ ও শিক্ষাবিদদের একাংশের তুমুল অনীহা ও প্রতিরোধও স্পষ্ট। বহু স্কুল ও কলেজ প্রশাসন এই নির্দেশিকা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে বা ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণ নামমাত্র রাখছে বলে খবর।


​শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সচেতন মহলের মতে, সরকারি নির্দেশিকা পালনের জাঁতাকলে পড়ে শেষ পর্যন্ত বলি হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক পঠনপাঠন। প্রশাসনের এই ধরনের পদক্ষেপে শিক্ষার মানোন্নয়ন বা পরিকাঠামো উন্নয়নের চেয়ে রাজনৈতিক বার্তা প্রচারই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।
​পরিশেষে বলা যায়, একটি গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সমাজ ব্যবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে সমস্ত রকমের দলীয় ও সংকীর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। পরীক্ষার মরশুমে নাটক মঞ্চস্থ করা বা রাজনৈতিক প্রচারমূলক কর্মসূচি চাপিয়ে দেওয়ার এই প্রবণতা বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের পরিপন্থী।
​

অন্যান্য প্রতিবেদন.