বিশ্বকাপ শেষ হলেও ফুটবল জ্বরে কাঁপছে বাঙালি। কারণ, সামনেই ডুরান্ড কাপের ডার্বি। ফুটবল থেকে চোখ সরানোর উপায় নেই। রবিবার ডুরান্ড কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট ও ইস্টবেঙ্গল। আর অনলাইনে টিকিট রিডিম করতে হবে না আইএসএল-এর ডার্বিতে এখনও মোহনবাগানকে টেক্কা দিতে না পারলেও, ডুরান্ড কাপে সবুজ-মেরুনকে বুঝে নিতে তৈরি ইস্টবেঙ্গল। আইএসএল জয়ের ধারা ধরে রাখতে হবে তাদের। এই সমস্ত সমীকরণের মাঝে এই ডার্বি ঘিরে রাজ্য সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করছেন সকলেই। টিকিট আলাদা করে স্ট্যাম্প করানোর ঝামেলা উঠে যেতে চলেছে। কিউআর কোড স্ক্যান করে মাঠে ঢুকবেন দর্শকরা। পাশাপাশি অনলাইনে কাটা টিকিট আর রিডিমও করতে হবে না।
এই দুই ঘোষণায় স্বস্তি পেয়েছেন সব দলের সমর্থকরাই। পেপার টিকিট উঠে যাওয়ায় কালোবাজারির সম্ভাবনা যেমন কমবে, তেমনই দূর দূরান্ত থেকে আসা সমর্থকদের টিকিট রিডিম করতে ছুটতে হবে না যুবভারতী বা ময়দানে। অনলাইনে টিকিট কেটেই তা রিডিম করে মাঠে বসে ম্যাচ দেখতে পারবেন। ইস্টবেঙ্গলে শুরু হাবাস জমানা ডার্বির আগে রাজারহাটের ন্যাশনাল সেন্টার অফ এক্সিলেন্স মাঠে ইস্টবেঙ্গলের অনুশীলনে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল আন্তোনিও লোপেজ হাবাস জমানা। নতুন স্প্যানিশ হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে প্রথম দিনেই ফুটবলারদের কড়া অনুশীলনের মধ্যে দিয়ে নিয়ে গেলেন তিনি।
হাবাসের নিয়মানুবর্তিতা ও একাগ্রতা এদিন ছিল চোখে পড়ার মতো। ফুটবলারদের রিপোর্টিং টাইম ছিল বিকেল ৫টা, কিন্তু কোচ মাঠে পৌঁছে যান দুপুর ৩টে ৪৫ মিনিট নাগাদ। মাঠে নামার আগে দোতলার ঘরে প্রায় ৪০-৪৫ মিনিট ধরে ফুটবলারদের নিয়ে একটি রুদ্ধদ্বার ভিডিও অ্যানালিসিস ক্লাস ও পেপ-টক দেন হাবাস। এরপর মাঠে নেমে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে হাই-ইন্টেনসিটি প্র্যাকটিস।

এদিন অনুশীলনের মূল ফোকাস ছিল হাই-প্রেসিং ফুটবল, ছোট জায়গায় দ্রুত পাস খেলা এবং বল হোল্ড করা। বল হারালে কীভাবে দ্রুত তা রিকভার করতে হবে এবং প্রতিপক্ষকে কীভাবে প্রেস করতে হবে, তা ফুটবলারদের হাতে-কলমে বুঝিয়ে দেন কোচ। দলকে দুটি ভাগে ভাগ করে ম্যাচ পরিস্থিতি তৈরি করেও অনুশীলন করানো হয়।
এখনও বিদেশি ফুটবলাররা দলের সঙ্গে যোগ দেননি। ড্যানি রামিরেজ এবং মহম্মদ রশিদ বুধবার শহরে আসছেন। সম্ভবত, রামিরেজ বুধবারের অনুশীলনে যোগ দেবেন। এদিন দলের সঙ্গে অনুশীলন করেননি দানিশ ফারুখ এবং বরিস সিং, তাঁরা সাইডলাইনেই ছিলেন।
অনুশীলন শেষে অপেক্ষারত সমর্থকদের সঙ্গে হাসিমুখে সেলফি তোলেন হাবাস। ডার্বি জয়ের আবদার শুনে সমর্থকদের আশ্বস্ত করে জানান, দল সেই লক্ষ্যেই প্রস্তুত হচ্ছে। তবে এও জানালেন, মাত্র ৩ দিন সময় পাচ্ছেন প্রস্তুতির জন্য। সব মিলিয়ে, ডার্বির আগে লাল-হলুদ শিবিরে প্রথম দিনেই নিজের ফুটবল দর্শনের স্পষ্ট বার্তা দিয়ে রাখলেন হাবাস।
চনমনে মোহনবাগান শিবির মোহনবাগানেও নতুন কোচ, নতুন শুরু। হেড কোচ পানাগিওটিস ডিলমপেরিসের অধীনের আসন্ন ডুরান্ড কাপের ডার্বির আগে প্রস্তুতিতে মগ্ন সবুজ-মেরুন শিবির। রবিবার শহরে পা রাখার পরই কলকাতা লিগের ম্যাচ দেখতে মোহনবাগান মাঠে এসেছিলেন প্যানোস। সোমবার গোটা দলের সঙ্গে বৈঠক সেরে মঙ্গলবার বিকেল থেকে অনুশীলনে নেমে পড়েছেন তিনি। কড়া হাতে দলের হাল ধরছেন সবুজ-মেরুনের নতুন হেড স্যার। পাশাপাশি এদিন অনুশীলনে যোগ দিলেন অ্যালেক্স সাজি।
অনুশীলনে নেমে প্রথমে ফুটবলারদের সঙ্গে আলাপচারিতা সারলেন প্যানোস ও তাঁর সঙ্গে আসা ফিজিক্যাল ট্রেনার গিয়ান্নিস। শুরুতে শারীরিক কসরত ও পাসিং ফুটবল অনুশীলন করানো হয়। রবিবার কলকাতা লিগের ম্যাচে ৯০ মিনিট খেলার কারণে এদিন শুভাশিস, সায়ন, তন্ময়, রাহুল ভেকে-কে মূলত রিকভারি করতে দেখা গেল। বাকি দলকে নিয়ে কঠোর অনুশীলন চলল কোচ প্যানোসের। শুরুতে তাঁকে দেখা গেল সহকারী কোচ বাস্তব রায়ের সঙ্গে কথা বলতে। প্রায় ১০ দিনের উপর এই দল বাস্তবের অধীনেই ফিটনেস অনুশীলন করেছে। অনুশীলনের পরও বেশ কিছুক্ষণ ভিতরে থেকে সম্ভবত অ্যানালিস্টের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন তিনি। কোচ প্যানোস প্রথম দিনই বুঝিয়ে দিলেন, পরিশ্রমই মূলমন্ত্র হবে এই মোহনবাগানের। জয় ছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই। ডার্বির আগে এই মূলমন্ত্রই বাড়তি মোটিভেশন দিচ্ছে মনবীর-সাহালদের।

উল্লেখ্য, ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাস সবসময়ই লড়াইয়ের। সম্প্রতি দিল্লিতে চলমান ছাত্র বিক্ষোভের উপর পুলিশের নির্মম লাঠিচার্জের ঘটনায় এ বার আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়ে সরব হলেন মোহনবাগান ফুটবলার সাহাল আব্দুল সামাদ। সেই পোস্ট শেয়ার করে সংহতির বার্তা দিয়েছেন ভারতীয় ফুটবলার অ্যালেক্স সাজিও।
