২১ দিনে পড়েছিল সোনম ওয়াংচুকের অনশন। তাঁর সঙ্গে অতন্দ্র প্রহরীর মতো শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভ চালাচ্ছিল ছাত্র-যুবরা, ৪জন ছাত্র ছাত্রী ছিলেন অনশনেও। তাদের মূল দাবি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, এবং দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা। মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় সেভাবে প্রচার না পেলেও, সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতেই এই আন্দোলন পৌঁছে গিয়েছিল দেশের সর্বত্র। মিলছিল সংহতি, সমর্থনও। হঠাৎই শনিবার সকালে সেই আন্দোলনের উপরেই একপ্রকার চড়াও হয় দিল্লি পুলিশ।
ছাত্র-যুবদের আন্দোলন মঞ্চে সাধারণ পোশাকে বলপূর্বক ঢুকে পড়ে বিরাট পুলিশ বাহিনী। সাদা চাদরে ঢেকে ঘিরে ফেলা হয় ওয়াংচুককে। কোনওরকম আলোচনা, অনুমতি, প্রশ্নের অবকাশ না রেখেই একপ্রকার আন্দোলন মঞ্চ থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয় সোনম ওয়াংচুককে। আন্দলোনমঞ্চে নিয়মিত চিকিৎসার মধ্যেই ছিলেন সোনম। শুক্রবার রাতে ভিডিও বার্তায় তিনি শারীরিক অবস্থার স্থিতিশীলতার কথা নিজের মুখেই জানিয়েছিলেন। সুপ্রিমকোর্ট সোনমের স্বাস্থ্য এবং জীবনের দায়িত্ব সরকারকে নিতে বলেছিল। তার দোহাই দিয়েই আন্দোলন বানচালের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ আন্দলোনকারীদের।

সাদা চাদরে মুড়ে সোনমকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সিজেপির দাবি, ওয়াংচুকের স্ত্রীকে তাঁর হাসপাতালে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি, তাঁর চিকিৎসা-সংক্রান্ত রিপোর্টও পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। এমনকি ওয়াংচুকের ব্যক্তিগত আইনজীবী এবং তাঁর নিজস্ব চিকিৎসকদেরও সফদরজং হাসপাতালে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

আগামী ২০ জুলাই বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। ঐদিনই সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছিল যন্তর-মন্তরের আন্দোলনকারীরা। প্রায় মাস খানেক ধরে এই আন্দলনে এসে জুটেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্র-যুবরা। শান্তিপূর্ণ আন্দলোনের উপর এহেন ‘হামলা’ কতটা গণতান্ত্রিক তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এই ঘটনার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্ব অভিজিৎ দীপকে।

একেবারে ছক কষেই সোনমকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে দিল্লি পুলিশের তরফে। অপারেশন চালানোর কিছুক্ষন আগে থেকে একটি ফোন জ্যামার বসিয়ে দেওয়া হয় আন্দোলন স্থলে। নিমেষে সাদা চাদরে ঘিরে ফেলা হয় আন্দোলন মঞ্চ, যাতে বাইরে থেকে ঠিক কী ঘটছে বোঝার আগেই ওয়াংচুককে সরিয়ে নেওয়া যায়। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার ভিডিও সামনে এনেছে ককরোচ জনতা পার্টি।
ককরোচ জনতা পার্টির প্রকাশিত ভিডিও
কিন্তু এই ঘটনাতেও দমতে নারাজ ককরোচরা। সোনমের জায়গায় অনির্দিষ্টকালীন অনশন শুরু করেছেন অভিজিৎ নিজেই। আন্দোলনের সমর্থকদের উদ্দেশে অভিজিৎ দীপক বলেন, “ওঁরা যদি মনে করে সোনম স্যারকে সরিয়ে নিয়ে গেলে এই আন্দোলন থেমে যাবে, তাহলে ওঁরা ভুল করছেন। আমরা এখানেই থাকব এবং ২০ জুলাই সংসদ অভিযানে যাব।” তিনি আরও বলেন, “এতদিন আমরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছিলাম। কিন্তু এই নিন্দনীয় ঘটনার পর থেকে আমরা এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পদত্যাগও দাবি করব।” তাঁদের স্পষ্ট বার্তা আগামী ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযান থেকে তাঁরা পিছু হটছে না।

