গঙ্গা বাঁচাতে ১১১দিনের অনশন, শেষে মৃত্যু! ওয়াংচুক মনে করাচ্ছেন আগরওয়ালের স্মৃতি

১৫ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

এই মুহূর্তে সোনম ওয়াংচুকের আমরণ অনশন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। দাবি ছিনিয়ে নিতে আন্দোলনের একটি মাধ্যম অনশন। অনশনের এই ধারা ভারতবর্ষে প্রথম নয়। প্রকৌশলী ওয়াংচুকের অনশন মনে করাচ্ছে আইআইটি কানপুরের অধ্যাপক ও পরিবেশবিদ জিডি আগরওয়ালকে। আইআইটি কানপুরে সিভিল ও এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান হিসেবে প্রায় ১৭ বছর দায়িত্ব পালন করেন আগরওয়াল। গঙ্গা সংস্কার এবং রক্ষার লড়াইয়ে আমরণ অনশনে প্রাণ দিয়েছিলেন তিনি। ২০১৮ সালে গঙ্গার ওপর বিভিন্ন প্রকল্পের বিরোধিতা করতে গিয়ে টানা ১১১ দিন অনশন করার পর তাঁর মৃত্যু হয়। 

জিডি আগারওয়াল


কেন অনশন করেছিলেন জিডি আগরওয়াল? 

আগরওয়াল কখনও উন্নয়নের বিরোধিতা করেননি। তিনি সোচ্চার হয়েছিলেন গঙ্গা ও তার উপনদীগুলিতে নির্মীয়মাণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে। শুধু গঙ্গাই নয় ভাগীরথী নদীর ওপর প্রস্তাবিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির বিরোধিতায় তিনি বারবার সরব হন। 

২০০৮ সালে সন্ন্যাস গ্রহণের আগেই উত্তরকাশীতে গঙ্গা রক্ষার দাবিতে প্রথম অনশন করেন তিনি। রাজ্য সরকার একটি কমিটি গঠনের আশ্বাস দিলে তিনি অনশন প্রত্যাহার করেন। যদিও সেই কমিটি বাস্তবে গঠনের জন্য তাঁকে আরও দু’বার অনশন করতে হয়। ২০০৯ সালে লোহারিনাগ পালা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে তিনি অনশনে বসেন। টানা ৩৬ দিন অনশনের পর তাঁর শারীরিক অবস্থা সংকটজনক হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত সরকার ওই বাঁধ নির্মাণ স্থগিত করতে বাধ্য হয় এবং তারপর তিনি অনশন ভাঙেন। ২০১১ সালে তিনি সংসার ত্যাগ করে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন এবং নতুন নাম নেন স্বামী জ্ঞানস্বরূপ সানন্দ।

স্বামী জ্ঞানস্বরূপ সানন্দ

সব সরকারের আমলেই ধারাবাহিক প্রতিবাদ 

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর গঙ্গা সংস্কারের প্রকল্প ন্যাশনাল গঙ্গা রিভার বেসিন অথরিটি (NGRBA)-এর কাজকর্মে অসন্তুষ্ট হয়ে ২০১৩ সালে আবারও অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসেন আগরওয়াল। প্রায় আড়াই মাসের অনশনের পর সরকার এনজিআরবিএ-র বৈঠক ডাকতে বাধ্য হয়। 

এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমলেও সরব হয়েছিলেন তিনি। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লেখা এক খোলা চিঠিতে তিনি গঙ্গার পরিবেশের ক্ষতি করে এমন সব প্রকল্প বন্ধ করার আবেদন জানান। বিশেষ করে অলকানন্দা ও মন্দাকিনী নদীর ওপর নির্মীয়মাণ প্রকল্পগুলি বন্ধ করার দাবি তোলেন। ২২ জুন ২০১৮-তে তিনি শেষবারের মতো অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন। এরপর ৯ অক্টোবর থেকে তিনি জল পানও বন্ধ করে দেন , ওষুধ, জল কিংবা অন্য কোনও তরল গ্রহণ করতেও অস্বীকার করেন। অবশেষে ১১ অক্টোবর ২০১৮ সালে, অনশনের ১১১তম দিনে, ঋষিকেশের এইমস হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে শেষে তিনি বলে গিয়েছিলেন “আমার এই অনশন আমার মৃত্যুর সঙ্গেই শেষ হবে।” দিল্লিতে অনশনরত সোনমও তাঁর নিজের দাবিতে অনড়। স্বাস্থ্যহানি হয়েছে তাঁর। ওজন কমছে, সুগার প্রেসার ও কমছে, তবুও তাঁর বক্তব্য, ‘এবার হয়ত মরে যাব, তবু পিছু হঠব না’

অন্যান্য প্রতিবেদন.