ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ISRO-তে গণইস্তফার হিড়িক। গত কয়েক মাসে ১০০-রও বেশি বিজ্ঞানী ইসরো থেকে পদত্যাগ করেছেন অথবা স্বেচ্ছাবসর (Voluntary Retirement) নিয়েছেন। সম্ভবত চলতি বছরের শেষ কিংবা আগামী বছরের শুরুতেই ‘গগনযান’ উৎক্ষেপণ-এর প্রস্তুতি নিচ্ছিল ISRO। কিন্তু গত কয়েকদিনে অভিজ্ঞ গবেষকদের এভাবে সংস্থা ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় রীতিমতো চ্যালেঞ্জের মুখে কেন্দ্র। এবার ঘটনায় নড়েচড়ে বসল সরকার। দেশের কৌশলগত মহাকাশ কর্মসূচিগুলিকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার ইতিমধ্যেই পদত্যাগ সংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর করেছে।

কোন কোন প্রকল্প চ্যালেঞ্জের মুখে?
জানা যাচ্ছে, ইউ আর রাও স্যাটেলাইট সেন্টার (URSC) থেকে ৮০-রও বেশি বিজ্ঞানী ইসরো ছেড়েছেন। বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার (VSSC) থেকে ২০-রও বেশি বিজ্ঞানী ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে ইসরো ছেড়েছেন এলভিএম-৩ (LVM-3) প্রকল্পের পরিচালক ভিক্টর জোসেফ এবং চন্দ্রযান-৩ মিশনের সিমুলেশন বিশেষজ্ঞ আদিত্য রাল্লাপল্লি।

কেন ইসরো ছাড়ছেন বিজ্ঞানীরা?
ইসরো ছাড়ার সবচেয়ে বড় কারণ হিসাবে উঠে আসছে বেসরকারি মহাকাশ সংস্থাগুলির আকর্ষণ। তুলনামূলকভাবে বেশি বেতন, দ্রুত পদোন্নতির সুযোগ এবং ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্সের সুযোগ থাকায় এসবের দিকে প্রলুব্ধ হচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
এছাড়াও উঠে আসছে বার্নআউটের প্রসঙ্গ। অত্যন্ত কাজের চাপ, কঠোর সময়সীমার মধ্যে সূক্ষ্ম ও নির্ভুল কাজের চিন্তা, বিজ্ঞানীদের মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্লান্ত (Burnout) করে তুলছে।
অনেক বিজ্ঞানী আবার নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে বা দ্রুত বিকাশমান ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বেসরকারি মহাকাশ খাতের সম্প্রসারণের সঙ্গে এই প্রবণতা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে।
তবে বিজ্ঞানীদের এই পদত্যাগের ঘটনায় থমকে যেতে পারে একাধিক মহাকাশ প্রকল্প। অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের চলে যাওয়ায় অভিজ্ঞতার ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এছাড়াও প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমা বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। তবে ইসরোর নিজস্ব দক্ষ জনবল রয়েছে এই সংস্থা নিয়মিত নতুন বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী নিয়োগও করছে, কিন্তু তাতেও প্রকল্পগুলির পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

ইস্তফায় হস্তক্ষেপ কেন্দ্রের
এই ঘটনায় এবার ইস্তফার ক্ষেত্রে কড়া নিয়ম অন্য কেন্দ্র। ২০২৬ সালের ১৪ জুলাই, মহাকাশ বিভাগ (Department of Space) নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী, গগনযান-সহ গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাকাশ প্রকল্পে কর্মরত বিজ্ঞানীদের পদত্যাগ বা স্বেচ্ছাবসর (VRS) আর স্বাভাবিক নিয়মে গ্রহণ করা হবে না। অর্থাৎ, এর আগে ইসরোর বিভিন্ন বিভাগের ডিরেক্টররাই গবেষক, বিজ্ঞানীদের ইস্তফাপত্র গ্রহণ করতে পারতেন। কিন্তু নয়া নির্দেশিকার পর থেকে সেই ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে সংস্থার ডিরেক্টরদের থেকে। ইস্তফা দিতে হলে সেই বিষয়ে সরাসরি মহাকাশ বিভাগের বিশেষ অনুমোদন প্রয়োজন।
তবে এই কড়া নির্দেশিকায় ইসরোর গবেষণার গুণমান কতটা বজায় থাকবে তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। ব্রেইন-ড্রেন ঠেকাতে শুধু কড়া নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া কোনও স্থায়ী সমাধান নয় বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। এক্ষেত্রে প্রয়োজন নীতিগত বদল, কাজের পরিবেশের সংস্কার, বেতন কাঠামোর উন্নতি।

