একসময় ভারতে দাম্পত্য জীবনের একমাত্র স্বীকৃত পথ ছিল বিবাহ। তবে সময়ের সঙ্গে সেই ধারণায় বদল এসেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের একাংশ বিয়ের আগে একসঙ্গে থাকার (Live-In Relationships) সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, আবার অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে থাকলেও বিয়েকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় মনে করছেন না। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল বা UCC বিল এনে লিভ-ইনকে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ইতিমধ্যেই এই নিয়ম লাগু রয়েছে উত্তরাখণ্ড, অসম এবং গুজরাতে। এই বিল পাস হলে পশ্চিমবঙ্গ হবে চতুর্থ রাজ্য।
প্রস্তাবিত ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি)-এর খসড়ায় লিভ-ইন সম্পর্কের বাধ্যতামূলক নথিভুক্তিকরণ (রেজিস্ট্রেশন)-এর সুপারিশ করা হয়েছে। খসড়াটি আইন হিসেবে কার্যকর হলে, একসঙ্গে বসবাস শুরু করার পর নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সম্পর্কটি নথিভুক্ত করতে হবে যুগলদের। এর ফলে সম্পর্কের একটি সরকারি রেকর্ড তৈরি হবে।
ভারতে লিভ-ইন সম্পর্ক আইনত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়। বিভিন্ন সময়ে আদালত প্রাপ্তবয়স্ক দু’জন মানুষের একসঙ্গে থাকার অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে এই সম্পর্কের কোনও সর্বভারতীয় নিবন্ধন ব্যবস্থা নেই।
জেনে নেওয়া যাক কী কী নিয়ম মানতে হবে লিভইন এর ক্ষেত্রে?
পশ্চিমবঙ্গে এই বিল কার্যকরী হলে বিয়ের ৬০ দিনের মধ্যে করতে হবে রেজিস্ট্রেশন।
লিভ-ইন সম্পর্ক বাধ্যতামূলকভাবে নথিভুক্ত করতে হবে। অর্থাৎ লিভ-ইন করতে হবে সরকারকে জানিয়ে।
লিভ-ইন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে করতে হবে রেজিস্ট্রেশন
নথিভুক্ত লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা কোনও নারী পরিত্যক্ত হলে তাঁর ভরণপোষণের অধিকার থাকবে।
বিয়ে ও ডিভোর্সের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন ৬০ দিনের মধ্যে না হলে ১০ হাজার জরিমানা দিতে হবে।
উল্লেখ্য, ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি)-র মূল লক্ষ্য হল দেশের সব নাগরিকের জন্য ধর্ম নির্বিশেষে ব্যক্তিগত (Personal) দেওয়ানি আইনগুলিকে একটি অভিন্ন আইনি কাঠামোর আওতায় আনা। সহজ ভাষায়, বর্তমানে ভারতে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ, ভরণপোষণ, সম্পত্তি বণ্টন ইত্যাদি বিষয়ে বিভিন্ন ধর্মের জন্য আলাদা আলাদা ব্যক্তিগত আইন (Personal Law) রয়েছে। ইউসিসি কার্যকর হলে এই বিষয়গুলিতে সবার জন্য একই আইন প্রযোজ্য হবে।
তবে এই আইন নিয়ে ইতিমধ্যেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে, শুরু হয়েছে বিতর্কও। সমর্থকদের মতে, ইউসিসি আইনের চোখে সকল নাগরিকের সমতা নিশ্চিত করবে এবং বিশেষ করে নারীদের অধিকার আরও শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে বিরোধীদের আশঙ্কা, এটি বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিজস্ব ব্যক্তিগত আইন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ইউসিসি নিয়ে দেশে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক, আইনি ও সামাজিক বিতর্ক চলছে।

