দিল্লির যন্তর-মন্তরে চলমান ছাত্র আন্দোলনের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশেই। সেই উত্তাপেই বাম-ছাত্রযুবদের ডাকে কলকাতার ককরোচদের সমর্থনে এক মহামিছিলের সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা। ২৪ জুলাই বেলা আড়াইটের সময় জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছিল ধর্মতলায়। ধর্মতলামুখী এই মিছিলে নামল বাংলার ছাত্র-যুবদের ঢল। তেরঙ্গা, রকমারি পোস্টার, বি.আর আম্বেদকরের ছবি, লাল পতাকা, মনীষীদের ছবি, সংবিধান হাতে এই শান্তিপূর্ণ মিছিল এগোয় ধর্মতলার দিকে। চেনা মিছিলের থেকে এর চিত্র খানিক ভিন্ন। জেন-জিদের প্রতিবাদের ভাষাও বেশ ট্রেন্ডিং।

মিছিলে নজর কেড়েছে দুর্দান্ত সৃজনশীল বেশ কিছু পোস্টার। মিমের আঙ্গিকে বেশ কিছু প্ল্যাকার্ডও ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়।

কোথাও লেখা, ‘বায়োলোজিকালি মর্দ হুঁ, সিস্টেম নে প্রেগন্যান্ট কার দিয়া’

কোথাওবা লেখা, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান ইউজ মামি পোকো প্যান্টস, ইয়ে লিক নেহি করতা’

কারও বা হাতে গোলাপ ফুল আর মেলোডি চকোলেট।

কেউ বা লিখেছেন, আমি দুই ককরোচের বাবা।
তবে এই সুবিশাল মিছিল ধর্মতলা ডোরিনা ক্রসিংয়ের সামনে যেতেই ধুন্ধুমার শুরু হয়। একাধিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের ঘিরে ‘গদি মিডিয়া’ স্লোগান ওঠে। আন্দোলনকারী এবং পুলিশের মধ্যে খণ্ডযুদ্ধ বাঁধে। পুলিশের দাবি, মিছিলে বাইরের কেউ ঢুকে পড়ে অশান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছিল। এতেই খানিকক্ষণের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। লাঠি উঁচিয়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে পুলিশ। পাল্টা পুলিশকে লক্ষ্য করেও ছোড়া হয় জুতো, জলের বোতল।

জল কামানও ব্যবহার করে পুলিশ। পরিস্থিতি সামলাতে র্যাফ নামায় প্রশাসন। নিমেষে রণক্ষেত্র চেহারা নেয় ধর্মতলা। প্রায় ৩ ঘণ্টা বন্ধ থাকে যান-চলাচল। তবে পুলিশের দাবি কোনওরকম লাঠিচার্জ করেনি তাঁরা। কেবল ছত্রভঙ্গ করতে তেড়ে যাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই এই আন্দোলনের জেরে সুর নরম হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার রাতে ভিডিও বার্তায় নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় শিক্ষা সচিবের পদ থেকে সরানো হয়েছে বিনীত জোশীকে। জেপি নাড্ডার উপস্থিতিতে অনশন ভেঙেছেন সোনম ওয়াংচুক। তবে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তায় ছাত্রদের প্রধান দাবী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা নিয়ে কোনও ইঙ্গিত মেলেনি।

