পেলেট গান সদৃশ আঘাতে সারা গায়ে ক্ষত, দিল্লির ঘটনায় একটি চোখ খোয়াতে চলেছেন সাহিল

৩০ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

২০ জুলাই ককরোচদের ‘চলো সংসদ’ অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন নাজাফগড়ের ২২ বছরের যুবক সাহিল লোচন। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্র নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চেয়ে জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তায় নেমেছিলেন। সাহিল পার্ট-টাইম কাজের পাশাপাশি প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন দিল্লি পুলিশের। অদ্ভূত সমাপতন। সেই দিল্লি পুলিশের আঘাতেই এক চোখ খোয়াতে বসেছেন এই ছাত্র।

সাহিল জানান, মিছিলের সময় আচমকাই মুখের কাছে একটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। এরপরই তাঁর ডান চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। এরপর সাহিল কার্যত চোখে কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না। পরিবারের দাবি, ইতিমধ্যেই তাঁর একবার চোখে অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং আরও একটি অস্ত্রোপচার করার প্রস্তুতি চলছে। সাহিলের পরিবার এবং সহযোদ্ধাদের দাবি, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন পেলেট গান সদৃশ আঘাতের ফলেই তাঁর চোখে এই গুরুতর ক্ষত হয়েছে। হয়ত এক চোখের দৃষ্টিশক্তিও হারাতে পারেন সাহিল। যদিও দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভে পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভের পর প্রকাশ্যে আসা ‘পেলেট-গান সদৃশ’ আঘাতের এটি চতুর্থ ঘটনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন একাধিক ছবি ভিডিও ঘুরছে যেখানে দেখা যাচ্ছে বিক্ষোভকারীদের গায়ে ছোট ছোট একাধিক আঘাত চিহ্ন। অভিযোগকারীদের, অধিকাংশেরই দাবি এগুলি পেলেট গানেরই আঘাত।

২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভে পুলিশকর্মীরা পেলেট গান ব্যবহার করেছিলেন—এই অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে দিল্লি পুলিশ। অভিযোগের তির মূলত র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)-এর দিকে, যা কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (CRPF)-এর একটি বিশেষ শাখা। চলমান বিক্ষোভে RAF-কে বিপুল সংখ্যায় মোতায়েন করা হয়েছে এবং তাদের কাছে পেলেট গান থাকার কথা জানা যায়। তবে এখনও পর্যন্ত CRPF বা RAF— এর তরফে এখনও অবধি কোনও বিবৃতি মেলেনি।

কী এই পেলেট গান?

সরকারিভাবে পেলেট গানকে প্রাণঘাতী হিসেবে ধরা হয় না। তবে এই গানের আঘাত মারাত্মক। বড় গুলি নয়, এই গান থেকে ছোট ছোট অসংখ্য লোহার দানা বের হয়। ট্রিগার টানলেই ফোর্সের সঙ্গে সেই ছোট ছোট প্যালেট চারিদিকে ছুটে যায়। নির্দিষ্ট ব্যক্তি নয় বৃহত্তর জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে এই গান ব্যবহার করা হয়। এর জেরে শরীরে একাধিক ক্ষুদ্র লোহার দানা গেঁথে থাকতে পারে, চোখে লাগলে নষ্ট হতেও পারে, হাড় ভাঙা, চর্ম রোগের মতো অসুখও করতে পারে।

অন্যান্য প্রতিবেদন.