এবার দিল্লিমুখী কৃষকরা। সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদ বিক্ষোভকে ঘিরে উত্তাল হয়েছিল রাজধানী, যন্তর-মন্তরে এখনও চলছে তাঁদের অবস্থান। এই আবহেই প্রস্তাবিত ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় দিল্লির কিষাণ ঘাটে আয়োজিত মহাপঞ্চায়েতকে ঘিরে ফের সরগরম দিল্লি। মঙ্গলবার দিল্লির রাজঘাট এলাকায় এই আন্দোলন হওয়ার কথা। এই মহাপঞ্চায়েতে যোগ দিতে পঞ্জাব, হরিয়ানা সহ একাধিক রাজ্য থেকে কাতারে কাতারে কৃষকরা দিল্লিমুখী যাত্রা শুরু করেছেন। সোমবার রাজধানীমুখী কৃষকদের একাধিক জায়গায় আটকে দেয় পুলিশ। পঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তের শম্ভু বর্ডার কার্যত সিল করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দিল্লি ও হরিয়ানায় যান চলাচল নিয়েও একাধিক সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

কৃষকদের দাবি প্রস্তাবিত ভারত-আমেরিকার চুক্তি কার্যকর হল আমেরিকা থেকে পণ্য ঢুকবে ভারতে। এর ফলে ভারতের কৃষকদের জীবিকা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। এই প্রসঙ্গে, কৃষক নেতা সরওয়ান সিং পন্ধের অভিযোগ, প্রস্তাবিত ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি শুধু কয়েকটি কৃষিপণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রভাব পড়বে কৃষি, দুগ্ধশিল্প, শিল্পক্ষেত্র, ডিজিটাল বাণিজ্য, ই-কমার্স, পরিষেবা খাতেও। তাঁর দাবি, এই চুক্তি দেশের কৃষক ও ক্ষুদ্র উৎপাদকদের স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে।

এই চুক্তির প্রতিবাদেই তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছেন। তবে কৃষকদের ঠেকাতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাও। শত শত কৃষক পঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে জমায়েত হওয়ায় শম্ভু বর্ডারে নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে পঞ্জাব পুলিশ। খানৌরি সীমান্তেও দিল্লিগামী একাধিক কৃষককে আটকে দেয় পুলিশ। পাশাপাশি হরিয়ানার বাহাদুরগড়ে কৃষকদের নিয়ে আসা অন্তত পাঁচটি বাসও আটকানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আয়োজকদের দাবি, শুধু পঞ্জাব নয়, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, রাজস্থান, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও ওড়িশা-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে কৃষকরা এই মহাপঞ্চায়েতে যোগ দিতে আসছেন। কিষাণ মজদুর সংঘর্ষ কমিটি (KMSC), কিষাণ মজদুর মোর্চা (KMM) এবং বিকেইউ একতা সংঘর্ষ (BKU Ekta Sangharsh)-সহ একাধিক কৃষক সংগঠনও এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা। তবে এই দাবি না মানা হলে, আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৃষকরা। তাঁরা জানিয়েছেন এই ‘মহাপঞ্চায়েত’এর সবে শুরু। কেন্দ্রীয় সরকার এই চুক্তি বাতিল না করলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের দিকে এগোনোর কথা জানিয়েছেন কৃষকরা।

