ব্যারিকেড ভাঙলেন ২ হাজার কৃষক, চাষীদের আন্দোলনে রণক্ষেত্র মধ্যপ্রদেশ

৪৯ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

এবার ব্যারিকেড ভাঙলেন মধ্যপ্রদেশের কৃষকরা (Madhya Pradesh Farmers Protes)। জাতীয় পতাকা হাতে ‘জয় জওয়ান, জয় কিষান’ স্লোগান তুলে মঙ্গলবার সকালে মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে পৌঁছান বিক্ষোভরত কৃষকরা। শস্যের বস্তা, বিছানা-পত্র খাবার বেঁধেই এই আন্দোলনে নেমেছেন দেশের চাষীরা। তাঁদের এই লড়াই যে দীর্ঘ হতে চলেছে, তা আগেভাগেই বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। 

জল ও খাবার বোঝাই একাধিক ট্র্যাক্টর-ট্রলি নিয়ে এই বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এক বিক্ষোভকারী সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জানান, ট্র্যাক্টর-ট্রলিগুলিতে পাঁচ দিনের জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও পানীয় জল মজুত রয়েছে। তাঁদের হুঁশিয়ারি, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলনস্থল ছেড়ে ফিরবেন না। ব্যারিকেড ভেঙে মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালের উপকণ্ঠে পৌঁছে গিয়েছেন প্রায় ২,০০০ কৃষক। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ছবিও সামনে এসেছে। 

কৃষকদের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি)-তে মুগ ডালের ১০০ শতাংশ সরকারি ক্রয়, ই-টোকেন ব্যবস্থার জটিলতার সমাধান এবং সময়মতো পর্যাপ্ত পরিমাণে সার সরবরাহ নিশ্চিত করা। 

মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ঘেরাওয়ের ডাককে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার ভোপালে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রশাসন। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। মিছিলটি হোশঙ্গাবাদ রোডের বীর সাভারকর সেতুর কাছে পৌঁছতেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে কৃষকদের রুখে দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন। এর জেরে কৃষক ও পুলিশের মধ্যে ধস্তাধস্তি এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। 

মঙ্গলবার গভীর রাতে ভোপালে নিজের দফতরে বিক্ষোভরত কৃষকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মধ্যপ্রদেশের কৃষিমন্ত্রী ঐদল সিং কাঁসানা। বৈঠকে তিনি কৃষকদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। এক বিবৃতিতে কাঁসানা জানান, বিশেষ করে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে (এমএসপি) মুগ ডাল কেনাকে কেন্দ্র করে কৃষকদের মূল দাবিগুলি নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তবে দাবি পূরণ না হওয়া অবধি পিছু হঠতে নারাজ কৃষকরা।  ‘সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা’ (SKM)-র ছাতা তলায় থাকা ১৯টি কৃষক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে।  

অন্যান্য প্রতিবেদন.