নকশী কাঁথা: বাঙালি নারীর নীরব প্রতিরোধ ও জীবনের আলেখ্য কংগ্রেস শাসিত কর্ণাটকে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের নাগরিকত্ব যাচাই ও হয়রানির সংকট, ভাষার বুলডোজার! বাংলা থেকে আমেরিকান ক্যাপিটালিজম: সিয়ারসাকারের দাসত্ব ও আভিজাত্যের ইতিহাস অবৈধ মাইনিং এবং পরিবেশ উদাসীনতায় ডুবছে আসাম বালাঘাটে শিশুমৃত্যু,স্বাস্থ্যব্যবস্থার ব্যর্থতা ও বৈগা আদিবাসী সংকট এক বছরের মধ্যে, RSS পরিচালিত ১০০০টি স্কুল খোলার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী : শিক্ষার গেরুয়াকরণ? মনসুন ওয়েডিং: এক পশলা বৃষ্টিতে ধোয়া সম্পর্কের হিসেব অনুদান কোটি কোটি, প্রার্থী মোটে ১৫! গুজরাটের বেনামী দলগুলোর আড়ালে কি বিশাল কর ফাঁকির খেলা?

“খুলি ভেঙে দিয়েছি অথচ গ্রেফতার হইনি”- শেষমেষ গ্রেফতার ভাইরাল স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ

১৬ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

দিল্লির জন্তরমন্তরে ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া এক হামলার ঘটনা নিয়ে ভাইরাল হয়ে উঠেছেন হিন্দুত্ববাদী প্রভাবশালী (ইনফ্লুয়েন্সার) স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ। ঘটনার সূত্রপাত হয় ২৩ জুন, যখন কক্রোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ছাত্র আন্দোলনকারী নিশু আজাদের বাবা সঞ্জয়কে জন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থলে আক্রমণ করা হয়। অভিযোগ, লাঠি নিয়ে বিক্ষোভস্থলে ঘোরাফেরা করা স্বতন্ত্র ভরদ্বাজই এই হামলা চালিয়েছিলেন।

ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসে যখন একটি জনপ্রিয় পডকাস্টে ভরদ্বাজ নিজেই দাবি করেন, তিনি সঞ্জয়ের মাথার খুলি ভেঙে দিয়েছিলেন, অথচ রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়নি। পডকাস্টে তিনি দিল্লির মন্ত্রী কপিল মিশ্র ও চিরাগ পাসোয়ান ও মোদীর নাম উল্লেখ করেন, যাদের তিনি নিজের দাদা বলে সম্বোধন করেন। তাঁর রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং বিরোধী দলগুলি সরব হয়ে ওঠে।

তবে দিল্লি পুলিশ ভরদ্বাজের এই দাবি সরাসরি খারিজ করে জানায়, সঞ্জয়ের চোট টি গুরুতর বা ‘খুলি ভাঙা’ প্রকৃতির নয়, বরং সাধারণ আঘাত ছিল। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার দিনই জড়িতদের আটক করা হয়েছিল, ভরদ্বাজ (২১) ও সুরজ কুমার (২৪)-কে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল এবং নিয়ম মেনেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও তারা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে ভরদ্বাজ নিজের বক্তব্য বদলে দাবি করেন, তিনি ১০-১৫ জনের একটি জনতার দ্বারা ঘেরাও হয়ে আত্মরক্ষার্থে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন, এবং সেই সময়েই সঞ্জয়ের মাথায় আঘাত লাগে।

পডকাস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর নিশু আজাদ কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর সাহায্য চান। এই চাপের মুখে CJP-র প্রতিনিধি সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে ভরদ্বাজের গ্রেফতারের দাবি জানান। তাঁরা বলেন, এই ঘটনায় SC/ST আইনের সহায়তায় দলিত দৃষ্টিকোণ থেকেও ভরদ্বাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা যেতে পারে কারণ নিশু আজাদ একজন দলিত। আজাদ সমাজ পার্টির ব্যক্তিত্বরাও যোগদান করেন। তাঁরা জমায়েত ভঙ্গ করেন দিল্লি পুলিশের আশ্বাসে, যে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভরদ্বাজকে গ্রেফতার করা হবে।

কিন্তু গ্রেফতারের মুখে ভরদ্বাজ পালানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ যখন তাঁকে ধরতে বুলন্দশহরে পৌঁছয়, তখন তিনি নয়থলা গ্রাম থেকে একটি বুলেটে চড়ে খুরজার দিকে পালিয়ে যান, পরিচয় গোপন রাখতে হেলমেট পরে ছিলেন বলে জানা যায়। এই ঘটনায় সাদা পোশাকের পুলিশ ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালায়, এমনকি স্থানীয় সাংবাদিকদেরও তথ্যের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার দিল্লি পুলিশ তাঁকে আটক করতে সক্ষম হয়।

এই ঘটনা নতুন নয়। কিছুদিন আগেই বাঁকুড়ায় একটি সিজেপি দলের সদস্যের বাড়িতে ঢুকে, তাঁর বাবাকে এতটাই মারধর করা হয়, যে দুইদিন পরেই তিনি প্রাণত্যাগ করেন। উল্লেখ্য ব্যক্তি সিজেপির ‘ স্কুল ঠিক করো ‘ অভিযানের নেতৃত্বে একটি ভাঙাচোরা স্কুলের ভিডিও করেছিল। এতটুকুই অপরাধ ছিল তাঁর। সত্য বলার অপরাধ এখন নির্দিষ্ট ছাত্র বা ছাত্রী ওপর আঘাত হানাতে সীমাবদ্ধ নেই। ভোগান্তি এখন সমগ্রভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে ভরদ্বাজের রাজনৈতিক সূত্রপাতের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। সে মিথ্যে বলেনি। সত্যিই স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ এক রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। উল্লেখ্য, প্রায় ১ লক্ষ ৮৪ হাজার ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারস থাকা ভরদ্বাজ নিজেকে ‘স্বতন্ত্র সনাতনী যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দেন।

অপরাধের শাস্তি যেন এক ছেলেখেলা, একটা ভাওতা। শুধুই সাধারণ মানুষকে শান্তনা দেবার জন্যে। কারণ খবর আমরা ততক্ষনই রাখি যতক্ষন তা ভাইরাল থাকে। চোখ সরাতেই হটে যায় পর্দা, শুরু হয় রাজনীতির নোংরা খেলা। এমন কত ভরদ্বাজ যে ছাড় পেয়ে আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে তার অন্ত নেই। এমন ছাড় পাবার জন্যে কি কট্টর হিন্দু হতে হয়? নাকি অমানবিক হওয়াই যথেষ্ট?

অন্যান্য প্রতিবেদন.