নকশী কাঁথা: বাঙালি নারীর নীরব প্রতিরোধ ও জীবনের আলেখ্য কংগ্রেস শাসিত কর্ণাটকে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের নাগরিকত্ব যাচাই ও হয়রানির সংকট, ভাষার বুলডোজার! বাংলা থেকে আমেরিকান ক্যাপিটালিজম: সিয়ারসাকারের দাসত্ব ও আভিজাত্যের ইতিহাস অবৈধ মাইনিং এবং পরিবেশ উদাসীনতায় ডুবছে আসাম বালাঘাটে শিশুমৃত্যু,স্বাস্থ্যব্যবস্থার ব্যর্থতা ও বৈগা আদিবাসী সংকট এক বছরের মধ্যে, RSS পরিচালিত ১০০০টি স্কুল খোলার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী : শিক্ষার গেরুয়াকরণ? মনসুন ওয়েডিং: এক পশলা বৃষ্টিতে ধোয়া সম্পর্কের হিসেব অনুদান কোটি কোটি, প্রার্থী মোটে ১৫! গুজরাটের বেনামী দলগুলোর আড়ালে কি বিশাল কর ফাঁকির খেলা?

অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও স্বপ্নের উড়ান,সাত বছরের রাগিনির জীবনসংগ্রাম

৬ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

উত্তরপ্রদেশের বলিয়া জেলার এক সুদূর গ্রাম থেকে উঠে আসা সাত বছরের ছোট্ট মেয়ে রাগিনি। যে বয়সে সমবয়সী শিশুরা বাবা-মায়ের আঙুল ধরে কিংবা স্কুলব্যাগের ভারে সামান্য পথ চলতে চলতে ক্লান্ত হয়ে আবদার করে, সেই বয়সে রাগিনির প্রতিদিনের সকাল শুরু হয় এক অবিশ্বাস্য লড়াই দিয়ে। মাত্র ছয় মাস বয়সে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সে তার জীবনের একটি পা চিরতরে হারিয়েছিল। কিন্তু জীবনশক্তি থেমে যায়নি তাতে৷ প্রতিদিন বাড়ি থেকে মাত্র ৪০০ মিটার দূরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে তাকে এক পায়ে ভর দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে এগোতে হয়। তবুও শিক্ষার আলোকপ্রাপ্তি থেকে নিজেকে বঞ্চিত করার কোনো আপস সে করে না।
রাগিনির এই প্রতিদিনের যন্ত্রণার ছবি যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলো, তখন তা এক ধাক্কায় নাড়া দিল বিবেকবান মানুষকে। ছোট্ট মেয়েটির একটি ভিডিওতে আকুল আর্জি শোনা গিয়েছিল— জেলাশাসক বা ‘কাকু’র কাছে তার নিবেদন ছিল একটুকু সাহায্যের, একটি ট্রাইসাইকেলের—যাতে সে একটু স্বস্তিতে স্কুলে পৌঁছাতে পারে। শারীরিক অক্ষমতা যাকে শৃঙ্খলিত করতে চেয়েছিল, তার সেই কাঁচা হাতের আবেদন পৌঁছে যায় জেলা প্রশাসনের শীর্ষমহলে। বলিয়া জেলার জেলাশাসক স্বয়ং তার কুটিরে উপস্থিত হয়ে কেবল একটি ট্রাইসাইকেলই তুলে দেননি, সঙ্গে তার পড়াশোনার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার নানা উপকরণও উপহার দিয়েছেন।

এই ঘটনা বর্তমান সমাজের কাঠামোগত ত্রুটি এবং মানবিক সংবেদনশীলতার এক দ্বিমুখী প্রতিচ্ছবি। একদিকে যেমন আমাদের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায় এই ভেবে যে, একটি শিশুর মৌলিক অধিকার—যাতায়াতের সামান্য একটি সাইকেল বা চলাচলের উপযোগী রাস্তা—নিয়ে পৌঁছাতে কেন সোশ্যাল মিডিয়ার ভাইরাল ট্রায়ালের মুখাপেক্ষী হতে হয়? কেন প্রশাসনিক নজরদারি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে এত কালক্ষেপ করে? অন্যদিকে, এই ঘটনা এও প্রমাণ করে যে, সমাজে এখনও সহানুভূতি এবং দায়িত্ববোধ পুরোপুরি মরে যায়নি। প্রযুক্তির কল্যাণে আজ প্রান্তিক মানুষের দীর্ঘশ্বাসও ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছে যেতে পারে, যার ইতিবাচক ফল আমরা দেখলাম রাগিনির ক্ষেত্রে।

শরীর তো কেবল একটি অবয়ব মাত্র, মানুষের আসল শক্তি তার মনোবলে। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখা সাত বছরের এই বালিকা আজ শুধু উত্তরপ্রদেশের বলিয়া গ্রামের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই, সে সারা দেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে শক্তির এক জীবন্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে।
​পরিশেষে বলা যায়, রাগিনির ট্রাইসাইকেল পাওয়া হয়তো তার জীবনের সব কষ্টের তাৎক্ষণিক অবসান ঘটাবে না, কিন্তু এটি নিশ্চিত করেছে যে তার উড়তে চাওয়া ডানার পথ কিছুটা হলেও প্রশস্ত হলো। রাগিনির এই পথচলা আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেল, ইচ্ছা থাকলে উপায় শুধু হয়ই না, সেই উপায় দিয়ে ইতিহাসও বদলে ফেলা যায়।

অন্যান্য প্রতিবেদন.