“The press is the best instrument for enlightening the mind of man.” — Thomas Jefferson
অর্থাৎ মানুষের মননকে আলোকিত করার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হল সংবাদমাধ্যম। যদিও কোন সংবাদ মাধ্যম তা কতটা করবে আর কতটা করবে না, তা পুরোটাই নির্ভর করে তাঁদের ‘হাউজ পলিসি’র উপর। খবর তৈরি হয় ঘটনাস্থলে, তারপর পেশ হয় নানা মাধ্যমে। মাঠে-ঘাটে ঘুরে সেই খবর খুঁজে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজটা করে থাকেন সাংবাদিকরা। একথা ঠিক সংবাদ পরিবেশনের ধরণই মানুষকে প্রভাবিত করে, ঠিক ভুলের পার্থক্য করতে শেখায়, আবার কখনও কখনও সেই ধরণই হয়ে ওঠে জনরোষের কারণ।
২৪ জুলাই বাম-ছাত্র যুবদের ডাকে ককরোচ সমর্থিত মিছিলের শুরুটা ভাল হলেও, শেষ হল বেশ কয়েকটি বিতর্কিত প্রশ্ন দিয়ে। বেলা আড়াইটের সময় জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছিল ধর্মতলায়। ধর্মতলামুখী এই মিছিলে কাতারে কাতারে ছাত্র-যুবরা অংশ নিয়েছিলেন। মিছিলের আগে থেকেই প্রচার করা হচ্ছিল এই মিছিলকে শান্তিপূর্ণ রাখতে হবে। কিন্তু শেষমেশ তা হল কি?
ঐতিহাসিক এই মহামিছিলে বিতর্ক তৈরির মতো দু’একটা ঘটনা ঘটে গেল। যদিও তা কতটা উচিৎ হয়েছে কতটা অনুচিত সেই প্রশ্ন পরের। কলকাতার এই মহামিছিলে আক্রমণ নেমে আসে সাংবাদিকদের একাংশের উপর। জি ২৪ ঘণ্টা, টিভি নাইন, আজতক বাংলা, এই সময়, রিপাবলিক বাংলার সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে ওঠে ‘গোদি মিডিয়া’ স্লোগান। অভিযোগ কাউকে ঘিরে ধরে হেনস্থা করা হয়, কারও বা ভেঙে দেওয়া হয় ক্যামেরা। কারও কারও আঘাতও লাগে।
আন্দোনকারীদের একাংশর দাবি বহিরাগতদের উৎপাতে মিছিলের শান্তিপূর্ণ অবস্থান নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। আবার কেউ বলছেন এই ঘটনা জনরোষের প্রতিফলন। কেউ বা বলছেন, আজ সকাল থেকে কিছু মিডিয়া ‘মিছিল হবে না’ প্রচার করার পর ও কভার করতে এসে এই রোষের মুখে পড়েছেন।
কিন্তু প্রশ্ন হল গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যেকোনও আক্রমণই নিন্দনীয়। আর তাতেই বোধ হয় ক্ষুণ্ণ হয় মিছিলের আসল উদ্দেশ্য। একটি ব্যবস্থার উপর রোষের বহিঃপ্রকাশ কখনও ব্যক্তি আক্রমণ হতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রেই হাত পা বাঁধা থাকে সাংবাদিকদের। চতুর্থ স্তম্ভের অবশ্যই দায় নিরপেক্ষ, সত্য ঘটনা পরিবেশন করা। অন্যথায় তা চতুর্থ স্তম্ভের মর্যাদাকে নামিয়ে আনে। অন্যদিকে আন্দোলনের ভাষাও হওয়া উচিত শান্তিপূর্ণ, নইলে তা আন্দোলনকে খাটো করে। মোটের উপর এই আন্দোলনের সঙ্গে যে বিতর্ক জুড়ল তা নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন দোষীদের ব্যবস্থা হবে। সঙ্গে এই ঘটনা থেকে এইটুকু আশাও করা যায় পরবর্তীতে সংবাদও হবে নিরপেক্ষ। কারণ, “Truth is the heartbeat of journalism.”

