ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্ব অভিজিৎ দীপকে যখন আন্দোলনের ডাক দেন তখনও হয়ত ভাবেননি দেশজোড়া সমর্থনে আরও জোর পাবে তাঁদের স্লোগান। দিল্লিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনকে নিয়ে অসংখ্য প্রশ্ন উঠছিল। জুড়ে দেওয়া হচ্ছিল রাজনীতির রঙ। অভিযোগ তোলা হচ্ছিল এই আন্দোলনকে অনুদান দিয়ে মদত জোগাচ্ছে আমেরিকা। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন একাধিক ভিডিওতে ভরে গিয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে আন্দোলনস্থলের বাইরে সারি সারি ফুড ডেলিভারির বাইক, স্কুটার।
কাদের খাবার ডেলিভারি দিতে আসছেন তাঁরা? প্রশ্ন করলে উত্তর আসছে তাঁদের বলা হয়েছে আন্দোলনরত ছাত্র-যুবদের যাঁকে খুশি সেই খাবার তুলে দিতে। কেউ পাঠাচ্ছে বার্গার, কেউ বা পিৎজা, কেউ সিঙাড়া তো কেউ বিরিয়ানি। সামর্থ্য মতো ৫ প্যাকেট, ১০ প্যাকেট খাবার রোজ এসে জড়ো হচ্ছে আন্দোলন স্থলে।

কে পাঠাচ্ছেন জানে না ককরোচরা, কাকে পাঠাচ্ছেন তাও নিশ্চিত করে দেওয়া নেই। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক সুইগি ডেলিভারি কর্মীর ফোনে ‘Delivery Instructions’-এ লেখা ছিল— “Love from Kerala”। অর্থাৎ, কেরল থেকে কেউ আন্দোলনকারীদের জন্য খাবার পাঠিয়েছেন। খুঁজলে হয়ত দেখা যাবে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারীর সংহতি এভাবেই পৌঁছে যাচ্ছে ককরোচদের কাছে। অনেক অর্ডারের ‘Delivery Instructions’-এ আবার লেখা থাকছে, “যে আন্দোলনকারী এখনও খাবার খাননি, দয়া করে তাঁর হাতে এই খাবার তুলে দিন।”

ডেলিভারি পার্টনার অজয় ঠাকুর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে জানান, ওই দিন এটি ছিল যন্তর-মন্তরে তাঁর পঞ্চম ডেলিভারি। তাঁর কথায়, “দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আন্দোলনকারীদের জন্য খাবার পাঠাচ্ছেন।” পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন জোম্যাটোর ডেলিভারি কর্মী সন্দীপ। তিনি জানান, সেদিন যন্তর-মন্তরে তাঁর অষ্টম ডেলিভারি ছিল। তাঁর কথায়, “নানা জায়গা থেকে, নানা ধরনের খাবার আসছে আন্দোলনকারীদের জন্য।” সেইসমস্ত খাবার জড়ো করা হচ্ছে এক জায়গায়। ভাগ করে খাচ্ছেন ছাত্র-যুবরা।যারা সশরীরে আসতে পারছেন না আন্দোলনে কিন্তু মন পড়ে রয়েছে সেখানেই তাঁরা এভাবেই জানাচ্ছেন সংহতি। তাই প্রশ্ন যদি ওঠে কোথা থেকে আসছে এত টাকা, উত্তর একটাই জনতার ফান্ড।

