শ্রীজাত তাঁর ‘অন্ধকারের লেখাগুচ্ছ’ কাব্যগ্রন্থের একটি কবিতায় লিখেছিলেন,
‘যে এখনও ভেবে দেখছ পথে নামবে কী না,
আমি তাঁর মনুষ্যত্ব স্বীকার করি না’
যদিও দিল্লিতে চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এই লেখা তিনি লেখেননি। গত মাস খানেক ধরেই ছাত্র আন্দোলনের উত্তাপে সরগরম রাজধানী। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে ছাত্রমৃত্যুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব ছাত্র-যুবরা। তাঁদের দাবি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। তাঁদের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ে শক্তি জোগাচ্ছিলেন সোনম ওয়াংচুক। তবে সেই আন্দোলন থেকে একপ্রকার তাঁকে বলপূর্বক সরিয়ে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। ২০ জুলাই এই সমস্ত বিষয়কে সামনে রেখেই ‘চলো সংসদ’ অভিযান করেছিল ককরোচ জনতা পার্টি সহ প্রতিবাদী ছাত্র-যুবরা। আর সেই আন্দোলন প্রতিহত করতে নির্মম আক্রমণ নেমে আসে দিল্লি পুলিশের তরফে।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ফুঁসে উঠেছেন সাধারণ মানুষ থেকে তারকা মহল। বাংলারও গুটিকয়েক তারকা সরব হয়েছেন পুলিশের এই নির্মম আচরণের বিরুদ্ধে।
অঞ্জন দত্ত:
ছাত্রদের স্যালুট জানিয়ে গায়ক অঞ্জন দত্ত লিখছেন, “আমি ভারতীয় হতে পেরে সত্যিই গর্বিত। আমাদের দেশের ছাত্রশক্তির জন্যই এই গর্ব। এখানে কোনও দলীয় রাজনীতি নেই, আন্দোলন সম্পূর্ণ অহিংস। শ্রেণি, জাত, ধর্ম ও লিঙ্গের সব বিভাজন অতিক্রম করে তারা শিক্ষায় দুর্নীতির মতো একটি নির্মল ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে সামনে এনেছে। এই আন্দোলনকে আমার স্যালুট।”

ঋদ্ধি সেন:
ছাত্র আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে ঋদ্ধির শেয়ার করা পোস্টের বাংলা তর্জমা করা হল,
“ভারতের আগামী প্রজন্ম যখন সংবিধানপ্রদত্ত প্রশ্ন করার অধিকার প্রয়োগ করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করতে যায়, আর সেই আন্দোলন শুরু হওয়ার আগেই সরকার যদি হিংসার আশ্রয় নেয়, তাহলে বুঝতে হবে ৫৬ ইঞ্চির বুক আসলে ভয়ে ভরা। ডাবল ইঞ্জিন চলে ভীরুতার জ্বালানিতে, আর ‘চৌকিদার’ পাহারা দিচ্ছেন এমন এক মন্ত্রিসভাকে, যাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
আজ এই দেশের ছাত্রছাত্রীরা শুধু প্রশ্ন করার জন্য রক্ত ঝরিয়েছে। তবুও তারা প্রশ্ন করছে। কেন? কারণ তারা এই দেশকে ভালোবাসে। তারা ভারতের প্রকৃত দেশপ্রেম ও গণতন্ত্রের শক্তিতে বিশ্বাস করে। যারা দেশকে ভালোবাসে, তারা সত্য সামনে আনতে ব্যারিকেড সরানোর চেষ্টা করছে। আর যারা দেশকে কখনও ভালোবাসেনি, তারা সত্য আড়াল করতে আরও ব্যারিকেড তুলছে। প্রতিটি লাঠিচার্জ, প্রতিটি ব্যারিকেড, প্রতিটি কাঁদানে গ্যাস সরকারের ভয়কেই প্রকাশ করছে। সরকারই প্রকৃত অর্থে দেশবিরোধী।”

রেশমি সেন ও কৌশিক সেন:
সুদীপ্তা চক্রবর্তী:
২০ জুলাই মিছিলের সাফল্য কামনা করে সুদীপ্তা লিখেছিলেন, “আত্মিকভাবে আমি আজ দিল্লির যন্তর-মন্তরে, ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এই দেশের তরুণদের সঙ্গেই আছি। শারীরিকভাবে আমি কলকাতায়, নিজের কর্মস্থলে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করছি, কিন্তু মন পড়ে রয়েছে আন্দোলনরত যুবকদের সঙ্গেই।” এরপর ছাত্রদের লাঠিচার্জের ঘটনায় সুদীপ্তা দিল্লি পুলিশের তীব্র নিন্দা করেন।

কৌশিকী চক্রবর্তী:
পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর কন্যা গায়িকা কৌশিকী চক্রবর্তী লিখছেন, “যখন দেশের যুবসমাজের রক্ত ঝরে, তখন রক্তাক্ত হয় গোটা দেশ। এটাকে কখনও স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া যায় না। এটি রাজনীতির বিষয় নয়, এটি মানবতার প্রশ্ন।”

এই ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন বেশ কিছু সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারও। উন্মেষ গাঙ্গুলি, প্রেরণা, প্রীতির মতো নেটপ্ৰভাবীরাও ঘটনার বিরোধিতা করে ভিডিও বানিয়েছেন।

