জোড়াফুল কেড়ে নিলেও কি ‘নিঃসঙ্গ’ মমতা? ২১ জুলাই, তৃণমূলের আসল-নকল!

৩৫ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

এবারের ২১ জুলাই খানিক অন্যরকমের। এই প্রথম বার বোধহয় তৃণমূলের শহিদ দিবসের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হল না ডিমভাতের প্রসঙ্গ। মঞ্চের প্রথম সারি আলো করে রইলেন না টলি পাড়ার তারকারা। রাজ্যে পালাবদলের পর ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস৷ মমতার হাত ছেড়ে একে একে চলে গিয়েছেন তাঁর এক সময়ের পরম প্রিয় ভাতৃ-ভগ্নিসমরাও। ধর্মতলার বিরাট সমাবেশ মঞ্চ নয়। এবার ২১ জুলাই পালিত হয়েছে কলকাতার তিন জায়গায়। ঋত শিবিরের ২১ জুলাই, কংগ্রেসের ২১ জুলাই আর মমতার ডাকে বিড়লা তারামন্ডলের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২১ জুলাই। দিল্লিতেও নিজেদের ঢঙে ২১ জুলাই পালন করেছেন একদা তৃণমূল নব্য NCPI সাংসদরা৷ কিন্তু মান রাখলেন একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই

মমতার ডাকে ২১ জুলাই

৪ঠা মে, বাংলায় ভরাডুবির পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির উঠোনের রবীন্দ্র জয়ন্তীতে যারা উপস্থিত ছিলেন, আজ তাঁদের বেশিরভাগই ঋতব্রতর দলে। নেতা মন্ত্রীদের পাল্লা ভারী ছিল ঋত শিবিরেই। মদন মিত্র, ববি হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অনুব্রত মণ্ডল কে নেই সেখানে! কিন্তু বেলা বাড়লেও সমর্থকদের দেখা মিলল না ঋতদের মেয়ো রোডের সভায়। অন্যদিকে, মমতার ২১ জুলাই-এর সমাবেশে নজর কাড়ল কর্মী সমর্থকদের ভিড়।

রাজ্যের বিরোধী নেত্রী হিসেবে এই সভা করতে কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি তাঁকে। গতকাল রাত থেকে তাঁর মঞ্চ ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিলেন, এর আগে অনুমতি পেতেও তাঁকে হাইকোর্ট ছুটতে হয়েছে। অবশেষে শর্তসাপেক্ষ সভার অনুমতি পেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মঞ্চে ছিলেন বীরবাহা হাঁসদা, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কুনাল ঘোষ, মহুয়া মৈত্ররা। দেখা মিলল না তারকাদের। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অগণিত সমর্থক এদিন কিছুটা ফিরিয়ে দিলেন তাঁর হারানো গরিমা।

ঋতব্রতর ২১ জুলাই

নিঃসঙ্গ হতে হতে খোয়াতে বসেছেন দলের জোড়াফুলের প্রতীকটাও। তাও তৃণমূল এর আসল-নকল নব্য-আদির দ্বন্দ্বে এই সমাবেশ বোধহয় খানিক স্বস্তি দিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে। জোড়াফুল উপড়ে নিলেও তৃণমূলের মুখ যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা মেনে নেবেন অতি বড় সমালোচকও। এদিনের সভা থেকে বক্তৃতা রাখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিমান নয় বেশ খানিকটা ঝাঁঝ শোনা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। ঋত-নেতাদের কটাক্ষ করে বললেন, ‘এভাবে বিজেপির পাশবালিশ হয়ে থাকার প্রয়োজন নেই । সরাসরি বিজেপিতেই যোগ দিন।’ তিনি বলেন, ‘আসল তৃণমূল আমরা । শুধু সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিলেই দল হয়ে যায় না । ওটা বিজেপির সাইনবোর্ড । কয়েকজন নেতা চলে গিয়েছেন, কিন্তু কর্মীরা আমাদের সঙ্গেই আছেন ।’ এর আগেও তিনিই বলেছিলেন, নেতাদের কেনা যায় কর্মীদের নয়। এই চরম অসময় সেই কর্মীরাই এসে দাঁড়ালেন মমতার পাশে।

ঋত শিবিরের সমাবেশ

তবে এই ছেড়ে চলে যাওয়ার রাজনীতিতে কতটাই বা সহানুভূতি পাওয়ার যোগ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? তিনিও তো এই দল বদলের রাজনীতি করেই এসেছেন। ১৯৯৮ সালে বিজেপির হাত ধরেই কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল গড়েছিলেন মমতা। ২০০১ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট। তারপর জল মেপে ফের ২০০৯ সালে কংগ্রেসের হাত ধরা। তারপর সকলকেই ভুলে যাওয়া। শুধু তাই কেন? যখন তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তখন বিরোধী দল বিজেপি থেকেও নেতাদের সাদরে দলে জায়গা দিয়েছিলেন মমতা। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি ঘুরে তৃণমূলে ফিরলেও তাঁদের জন্য দরজা খোলা রেখেছিলেন। আর সেই দল বদলের রাজনীতিই তাঁকে সবচেয়ে কঠিন দিনও দেখিয়েছে।

মেয়ো রোডে মদন মিত্র

বিরোধী রাজনীতিক হিসেবে মমতার গুরুত্ব অস্বীকার করার অবকাশ নেই। ৩৪ বছরের বাম রাজত্বের অবসান ঘটিয়েছিলেন তিনিই। তবে এইবার হারের পর তাঁর যেন সেই বিরোধী স্পিরিটটাই কোথাও মিসিং ছিল। এদিন মঞ্চ থেকে মমতা বললেন, “এর পর আমি জেলায় জেলায় বেরোব, আটকানোর ক্ষমতা কত আছে দেখতে চাই।” তিনি বললেন পরবর্তীতে রাস্তাই তাঁর একমাত্র রাস্তা।

অন্যান্য প্রতিবেদন.