বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় বন্ধ করে সার্বিক হোক নির্বাচন! তবেই সাপমুক্তি হবে পশ্চিমবঙ্গের? বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটে জিতে মোদীর সঙ্গে ব্রেকফাস্ট! সায়নী, কাকলীরা আর জিতবেন? প্রতিবাদী মানেই ‘অ্যান্টিন্যাশনাল’ নয়, ভাগবতের কথা কি মাথায় রাখবে তথাকথিত ‘দেশভক্ত’রা? বাঁকিপুরের ঝাঁকি, সঙ্গে CJP! ঘুরে দাঁড়াতে পারবে BJP? গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কাঁটা মোদী-শাহ’র CPIM থেকে BJP হয়ে তৃণমূল! বিরোধী হলেই কাদা-ডিম্ ছোঁড়ার রাজনীতি বাংলায়, কবে বদলাব আমরা? জমিতেও হিন্দু-মুসলমান? মুখ্যমন্ত্রীর ‘ল্যান্ড জিহাদ’ মন্তব্যে শোরগোল বঙ্গ রাজনীতিতে রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে বাড়ি দখলের অভিযোগ, শর্বরীর বিরুদ্ধে দোকান! তোলাবাজির TMC-BJP হয়? সেক্যুলার নেতাজির আদর্শ নিয়ে সমস্যা BJP-র! তাই অনন্ত মহারাজ এখনও বাইরে?

হাত ভাঙবি, পা ভাঙবি, দেশ ভাঙবি কেমনে? 

৬৫ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

‘এই প্রভাতে দখিন হাতে বিজয়খড়্গ ধরো।’

“দেশের জন্য আত্মত্যাগের চেয়ে বড় কোনো সম্মান নেই।” এই কথা বলেছিলেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু। আর সেই দেশের জন্য আত্মত্যাগের ‘পুরস্কার’ তিনি প্রতিনিয়ত পাচ্ছেন নিজের জন্মভূমিতে-বাংলায়। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে ভেঙে দেওয়া হয়েছে তাঁর মূর্তি। তাঁর উদ্ধত সেই ডান হাত। সোশ্যাল মিডিয়ায় কারা যেন ছড়িয়ে দিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নির্মিত একটি ছবি যেখানে একজন স্বঘোষিত ‘মহারাজ’ এবং রাজ্যসভার সাংসদের পায়ের তলায় নেতাজি। বদলে ফেলা হয়েছে তাঁর নামাঙ্কিত রাস্তার নাম। তাঁকে মুছে সেই রাস্তার নাম করা হয়েছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে। তবে স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগে আগেই ইমেজ ক্লিয়ারের চেষ্টা চলছে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য্য থেকে অনন্ত মহারাজের। যাঁরা ক্রমাগত নেতাজির নামে কুরুচিপূর্ন মন্তব্য করে এসেছেন এতদিন। মোদীর নামে, বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর নামে অশালীন কথা বলার অভিযোগে যখন ধরপাকড় চলছে তখন নেতাজির নামে মন্তব্যের ‘শাস্তি’ একটি পুরস্কার কেড়ে নেওয়া। 

নেতাজির হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে খোদ কলকাতায়

এই নতুন প্রজন্মের কাছে যখন প্রতিনিয়ত ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে নেতাজিকে, তখন মনে করাতে চাই এই দেশে নেতাজির অন্তর্ধান একবার হতে পারে, কিন্তু জন্ম হয়েছে বারংবার। ব্রিটিশদের নির্মম অত্যাচারের বিরুদ্ধে বাঙালিকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখানো হোক কিংবা জীবনের শেষ দিন অবধি স্বাধীনতার জন্য লড়ে যাওয়া- নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি ভেঙে বা রাস্তার নাম বদল করে তাঁকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। 

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের চোখে চোখ রেখে তিনি ঘোষণা করেছিলেন—ভারতের স্বাধীনতা ভিক্ষা করে পাওয়া যাবে না, লড়াই করে ছিনিয়ে নিতে হবে। কংগ্রেসের মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে মতপার্থক্য হলেও তিনি নিজের আদর্শ থেকে সরে যাননি। কারাবাস, নজরবন্দি কিংবা ব্রিটিশ সরকারের দমননীতি—কোনও কিছুই তাঁর সংকল্পকে ভাঙতে পারেনি। তাই তাঁর উদ্ধত তর্জনি তোলা ডান হাত ভেঙেও তাঁর আদর্শকে বাঙালির মনন থেকে ভাঙার কথা চিন্তা করাও ধৃষ্টতা। 

সুভাষ বসু

বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি ভারতের স্বাধীনতার জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন গড়ে তোলেন এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে সংগঠিত করে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক লড়াইয়ের ডাক দেন। নেতাজির কাছে স্বাধীনতা কোনো দূরবর্তী স্বপ্ন ছিল না। তাঁর কাছে স্বাধীনতা ছিল অর্জন করার অধিকার এবং ছিনিয়ে নেওয়ার সংকল্প। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে “দেশনায়ক” বলে অভিহিত করেন। ১৯৩৯ সালে ত্রিপুরী কংগ্রেস অধিবেশনের পর সুভাষচন্দ্রের রাজনৈতিক সংকটের সময় রবীন্দ্রনাথ তাঁর প্রতি সমর্থন ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। রবীন্দ্রনাথের লেখা ‘তোমার আসন শূন্য আজি, হে বীর’ কবিতাটি সুভাষচন্দ্রকে ঘিরে তাঁর অনুভূতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ। তিনি সুভাষকে এমন এক নেতা হিসেবে দেখেছিলেন, যাঁর মধ্যে ছিল সাহস, আত্মত্যাগ এবং দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার বিরল ক্ষমতা।

এই ক্রমাগত চাপিয়ে দেওয়ার যুগেও যাঁরা এর বিরুদ্ধে ক্ষোভে রাগে ঘেন্নায় ফুঁসে উঠলেন। এই দমবন্ধ করা চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধেও নেতাজির দেখানো পথেই নিশ্চিত এই অপমানের জবাব চাইবে তাঁরা। নেতাজি নেই, তাঁর আদর্শ বাঙালির মজ্জায় মজ্জায় ছিল আছে থাকবে। 

অন্যান্য প্রতিবেদন.