কলকাতা হাইকোর্টের বার কাউন্সিলের নির্বাচনে একটি আসনে জয়ী বাম প্রার্থী শামীম আহমেদ। এক্সক্লুসিভ ইন্টারভিউতে শামীম আহমেদের সঙ্গে HOW.
প্রশ্ন :প্রথমেই জয়ের জন্য অভিনন্দন। পালাবদলের পর কলকাতা হাইকোর্টে বার কাউন্সিল নির্বাচনে বামেদের জয়, অভিজ্ঞতা কেমন?
শামীম আহমেদ : লড়াইটা কঠিন ছিল। কিন্তু আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল না। সারা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্নপ্রান্তের আইনজীবীরা বুকভরা ভালবাসা দিয়েছেন এবং তার ফলাফল আমাদের পক্ষে গেছে। যেকোনও লড়াই কঠিন কিন্তু মানুষের পক্ষে থাকলে ফল পাওয়া যায়। সারাবছর মানুষের পক্ষে থাকার আশীর্বাদ পেয়েছি।
প্রশ্ন: জয়ে কী বাড়তি সুবিধা হল?
শামীম আহমেদ : সকলেই জানেন আমরা বামপন্থী প্রগতিশীল ভাবধারার মানুষ, সেটা জেনেই আমাকে ভোট দিয়েছেন আইনজীবীরা। ফলে আমরা যে ভাবনাকে সামনে নিয়ে এগোই, যে ভাবনাকে প্রতিষ্ঠা করতে চাই সেই ভাবনার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। ভারতবর্ষের আইনজীবী শিবির এবং ভারতবর্ষের প্রতিটা নাগরিক তারা প্রত্যেকেই চায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হোক, সংবিধানের শাসন প্রতিষ্ঠা হোক।
প্রশ্ন: বিজেপি ক্ষমতায় এইসময় আপনার জয়, রাজ্যে সাম্প্রতিক নানা ঘটনা নিয়ে কী মত?
শামীম আহমেদ : যারা শাসন ক্ষমতায় আছেন। যদি অতীত দেখা হয়, যখন সংবিধান প্রতিষ্ঠা হয়েছিল তখনও RSS এই সংবিধানকে মানেনি। ইতিহাস বলে সেইসময়ের বোম্বে হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি আইয়ার তিনি সংবিধান প্রবর্তনের সময় বলেছিলেন- সংবিধান প্রবর্তনের দরকার ছিল না কারণ আমাদের দেশে মনুবাদ আছে। RSS সংবিধানকে ব্যবহার করে ঘুরপথে সেই মনুবাদকেই রূপায়ণের চেষ্টা করছে এইটাই হল আশঙ্কার বার্তা। সম্প্রতি অ্যাকাডেমিতে যেটা হয়েছে তা এরই নজির। সকলকে গেরুয়া দেখতে হবে, ক্ষমতা জাহির করার প্রবণতা বেড়েছে। যারা বলেন ভারতবর্ষের ইসলাম প্রবর্তন হয়েছে ক্ষমতার জোর দেখিয়ে তারাই সেই মনুশাস্ত্রকে সামনে রেখে ক্ষমতা দেখাচ্ছেন। ডিম ছোড়ার যে ঘটনা, পুলিশ দেখছে কিন্তু কোনও পদক্ষেপ করছে না। এর বিরুদ্ধে আমরা লড়ব
প্রশ্ন: ন্যারেটিভ ছিল তৃণমূল গেলে বিজেপির সঙ্গে বামেদের লড়াই হবে সামনাসামনি, সেটা কতটা ঠিক?
শামীম আহমেদ: এই নির্বাচনটি হয়েছিল বিধানসভা ভোটের আগে। নির্বাচন যদি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হয়, শান্তিপূর্ণভাবে হয়, মানুষ ভোট দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, যারা নির্বাচন পরিচালনা করছেন তারা যদি একপক্ষের সমর্থক না হয় তাহলে বার কাউন্সিলের যে ভোট আমরা পেয়েছি তা প্রমান করে মানুষ গণতন্ত্রের কথা বলে, ধর্ম নিরপেক্ষতার পক্ষে কথা বলে, মানুষ সংবিধান-আইন প্রতিষ্ঠার পক্ষে কথা বলে। তাই সারা বাংলা জুড়ে মানুষ যেখানেই সুযোগ পাচ্ছে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। গুন্ডাদমন আইনের মতো যেসব আইন এনে মানুষের কণ্ঠরোধের চেষ্টা হচ্ছে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে- মানুষকে সুযোগ দিলে তার বিরোধিতা হবেই। আমরা বলছি নির্বাচন কমিশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিজেপিকে জিতিয়েছে। যদি তারা মানুষের ভোটে জিতে আসেন, তাহলে মানুষের উপরেই কেন আঘাত? হকার উচ্ছেদের কথা বলুন বা বস্তি উচ্ছেদের সবই সাধারণ মানুষের সাময়িক অবস্থাকে অত্যন্ত সংকটে ফেলে দিয়েছে। এক কোটি ভোটারকে বাদ রেখে ভোট করানো হয়েছে। মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে বামেদের সমর্থন বাড়বেই।
প্রশ্ন: OBC সার্টিফিকেট বাতিল, কী বলবেন?
শামীম আহমেদ: আমরা যারা পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের মানুষ চিরকাল দাবি করে এসেছি যদি সম্প্রদায়কে এগোতে হয় শিক্ষায় জোর দিতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে এগোতে হবে। রাষ্ট্র যদি সবাইকে সমানভাবে ট্রিট করে তবে রিজার্ভেশনের দরকার হয় না। কিন্তু একটি বিরাট অংশের মানুষ যারা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে আছেন তাদের সমানভাবে ট্রিট তো করছেন না উচ্চবর্ণের মানুষরা। যদি তাঁদের সমানভাবে দেখতে হয় তাহলে তাঁদের বাড়তি সুযোগ দিতে হবে। একটু একটু করে যখন এই সম্প্রদায় এগোচ্ছিল তখনই সমাজের এগিয়ে থাকা মানুষদের একাংশের হিংসার উদ্রেক হয়েছে। যারা বর্ণপ্রথায় বিশ্বাস করেন, ব্রাহ্মণ্যবাদে বিশ্বাস করেন, নিম্নবর্ণের মানুষকে হেয় করেন- তারাই সরকারি ক্ষমতাকে ব্যবহার করে এই আক্রমণকে নামিয়ে আনছেন।

