গুগল ম্যাপে দিকশূন্যপুর নেই, সুনীলের মৃত্যুর চোদ্দ বছর পরে নীললোহিতের খোঁজে

১২ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

২০১২ সালের ২৩ অক্টোবর কলকাতায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় মারা গেলেন। বয়স হয়েছিল আটাত্তর। অথচ তাঁর মৃত্যুর চোদ্দ বছর পরেও কলকাতার কোথাও একটি সাতাশ বছরের বেকার যুবক ঘুরে বেড়াচ্ছে। তার বয়স বাড়েনি। চাকরি হয়নি। সংসারের হিসাবও মেলেনি। ছেলেটির নাম নীললোহিত।

আজ তাকে খুঁজতে বেরোলে বিপদে পড়তে হবে। আধার কার্ডে তার ঠিকানা নেই। লিঙ্কডইনে কর্মজীবনের বিবরণ নেই। গুগল ম্যাপে দিকশূন্যপুর খুঁজে পাওয়া যায় না। যে যুবক কোনও প্রতিযোগিতায় নাম লেখাতে চায়নি, তাঁকে আজকের পৃথিবীতে ব্যর্থ বলার লোকের অভাব হবে না। অথচ নীললোহিতের কাছে ব্যর্থতার সংজ্ঞাটাই আলাদা।

প্রশ্ন হল, সুনীল কেন এই যুবকটির বয়স সাতাশে আটকে রেখেছিলেন? বয়স বাড়লে কি মানুষ কেবল বুড়িয়ে যায়, নাকি একসময় নিজের ইচ্ছেমতো বেঁচে থাকার সাহসটাও হারায়?

মৃত্যুর কিছুদিন আগে স্বপ্না গুহ ঠাকুরতাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুনীল বলেছিলেন, নীললোহিতের বয়স বাড়ালে অন্যরকম গল্প লিখতে হতো। তাই চরিত্রটিকে সাতাশেই রেখে দিয়েছেন। কথাটি সাহিত্যিক সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা। কিন্তু তার ভিতরে আরও একটি প্রশ্ন লুকিয়ে থাকে। সুনীল নিজে বুড়িয়ে গেলেন, তাঁর সৃষ্ট যুবকটি কেন বুড়ো হল না? যে মানুষটি এত কিছু লিখলেন, পুরস্কার পেলেন, প্রতিষ্ঠা পেলেন, তিনি কেন নিজের ভিতরে একজন বেকার ভবঘুরেকে বাঁচিয়ে রাখলেন?

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

সুনীলের একাধিক সাহিত্যিক পরিচয়। কবি সুনীল, বাউণ্ডুলে নীললোহিত, সনাতন পাঠক, নীল উপাধ্যায়। আবার কাকাবাবুর স্রষ্টাও তিনি। একজন লেখকের এতগুলি নামের প্রয়োজন কেন? আজকের মানুষও নিজের একাধিক পরিচয় তৈরি করে। ফেসবুকে একরকম, কর্মক্ষেত্রে অন্যরকম, পরিবারের কাছে সম্পূর্ণ আলাদা। কিন্তু এই পরিচয়গুলির মধ্যে কোনটি তার নিজের?

বৃহদারণ্যক উপনিষদে একটি আশ্চর্য উচ্চারণ আছে, ‘নেতি নেতি’। অর্থাৎ, এ নয়, এ নয়। উপনিষদ এই পদ্ধতিতে পরম সত্যকে কোনও সীমিত পরিচয়ের মধ্যে বাঁধতে চায় না। নীললোহিতের সঙ্গে তার সরাসরি দার্শনিক সমীকরণ চলে না। তবু কথাটি মনে পড়ে। চাকরি আমার পরিচয় নয়, অর্থ আমার সম্পূর্ণ পরিচয় নয়, সামাজিক প্রতিষ্ঠাও নয়। তা হলে আমি কে? সমস্ত পরিচয় সরিয়ে দিলে যে মানুষটি অবশিষ্ট থাকে, তাকে আমরা কতটুকু চিনি?

সুনীলের ‘জাগরণ হেমবর্ণ’ কাব্যগ্রন্থের ‘আমিও ছিলাম’ কবিতায় এই আত্মপরিচয়ের সংকট আরও ব্যক্তিগত হয়ে ওঠে। কবি লেখেন, ‘পাঁচজনে বলে পাঁচ কথা, আমি নিজেকে এখনো চিনি না’। যে মানুষ একদিন সকালবেলার শুদ্ধ মানুষ হতে চেয়েছিল, জীবনের বিপরীত স্রোতে সে নিজের কাছেই অপরিচিত হয়ে পড়ে। শেষে ‘আমিও ছিলাম’ উচ্চারণটি কান্নার মতো ফিরে আসে। চারপাশের মানুষ আমাদের পরিচয় ঠিক করে দেয়। অথচ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আমরা কখনও কখনও সেই মানুষটিকেই চিনতে পারি না। সুনীলের কবিতায় এই অচেনা মানুষটি বেঁচে থাকে।

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই যেন নীললোহিত বারবার দিকশূন্যপুরে যেতে চায়।

সুনীল ১৯৯৮ সালে ‘পরবাস’ পত্রিকার সাক্ষাৎকারে দিকশূন্যপুরের কথা খুলে বলেছিলেন। সেখানে টাকাপয়সার প্রচলিত ব্যবস্থা নেই। মানুষ জিনিসপত্র বিনিময় করে, ভালোবাসা বিনিময় করে। সুনীলের কল্পনায় জায়গাটি এক ধরনের ইউটোপিয়া। কেউ ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি বলতেন, নিজেকেই জায়গাটি আবিষ্কার করতে হবে।

এখানেই দিকশূন্যপুরের অদ্ভুত বিষণ্ণতা। পৃথিবীতে এমন একটি জায়গার কথা ভাবতে হচ্ছে, যেখানে মানুষ অর্থের দুশ্চিন্তা ছাড়া বাঁচতে পারে। তার মানে যে পৃথিবীতে আমরা প্রতিদিন বেঁচে আছি, সেখানে সেই নিশ্চিন্ত জীবন সহজে পাওয়া যায় না।

দিকশূন্যপুরকে কেবল পালিয়ে যাওয়ার জায়গা ভাবলে ভুল হবে। সুনীল তার বিপরীতে গড়বন্দীপুরও সৃষ্টি করেছিলেন। সেখানে স্বার্থের সংঘাত, প্রতারণা, অত্যাচার। একদিকে নিষ্ঠুর বাস্তব, অন্যদিকে মানুষের তৈরি আর-এক জীবনের সম্ভাবনা। এই দুই জায়গার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে নীললোহিত।

আশ্চর্য, ভারতীয় দর্শনে শূন্যতা নিয়ে কত গভীর চিন্তা রয়েছে। বৌদ্ধ দার্শনিক নাগার্জুন তাঁর মূলমধ্যমককারিকা-র চব্বিশতম অধ্যায়ের আঠারোতম শ্লোকে বলেছেন, যা নির্ভর করে উৎপন্ন হয়, তাকেই আমরা শূন্যতা বলি। এখানে শূন্যতার অর্থ সবকিছু অর্থহীন কিংবা অস্তিত্বহীন হয়ে যাওয়া নয়। কোনও কিছুরই স্বতন্ত্র, অপরিবর্তনীয় নিজস্ব সত্তা নেই। সমস্ত কিছু সম্পর্ক ও শর্তের উপর নির্ভর করে।

নীললোহিতের দিকশূন্যপুর নাগার্জুনের শূন্যতার প্রতিরূপ নয়। কিন্তু পাশাপাশি রাখলে একটি ভাবনা জন্মায়। সমাজ যে মানুষকে ব্যর্থ বলে, সেই ব্যর্থতার পরিচয়ও কি চিরস্থায়ী? চাকরি নেই বলে একজন মানুষ কি অসম্পূর্ণ? অর্থ নেই বলে তার জীবন কি অর্থহীন? যে মাপকাঠি দিয়ে আমরা সাফল্য বিচার করি, সেটিও তো মানুষই তৈরি করেছে।

সুনীলের ‘বন্দী, জেগে আছো’ কাব্যগ্রন্থের ‘জয়ী নই, পরাজিত নই’ কবিতায় এই প্রশ্ন এক আশ্চর্য বিষণ্ণতা নিয়ে ফিরে আসে। পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে মানুষটি নিজের পায়ের নীচে পৃথিবীকে দেখে। অথচ বিজয়ের উল্লাস আসে না। প্রকৃতি নিজের মতো চলতে থাকে। মানুষের ভিতর থেকে উঠে আসে ক্লান্ত দীর্ঘশ্বাস। কবি বলেন, ‘আমি জয়ী নই, আমি পরাজিত নই’। পাহাড়ের শিখরে পৌঁছনো যায়, কিন্তু জীবনের সাফল্য কোথায়, তা কি সত্যিই জানা যায়? নীললোহিত যেন সেই মানুষ, যে জয়ী হওয়ার প্রতিযোগিতা থেকে নিজের নাম সরিয়ে নিয়েছে। কিন্তু তাতে তার বিষণ্ণতা কমেনি।

তবে এখানে একটি নিষ্ঠুর পার্থক্য আছে। নীললোহিত অনেক সময় নিজের ইচ্ছায় চাকরির বাঁধন এড়িয়ে যায়। অথচ আজকের বেকার তরুণের অধিকাংশের কাছে বেকারত্ব কোনও রোম্যান্টিক স্বাধীনতা নয়। পরীক্ষার ফর্মের টাকা, বাড়িভাড়া, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ওষুধ, সংসারের প্রত্যাশা তাকে প্রতিদিন তাড়া করে। সে দিকশূন্যপুরে যেতে চাইলেও পারে না। বাসভাড়া দেওয়ার টাকাটুকুও হয়তো তার কাছে নেই।

সুনীলের নীললোহিতকে এখানেই নতুন করে পড়তে হয়। সে আমাদের দুঃখের সমাধান দেয় না। সে জিজ্ঞেস করে, মানুষকে ভালোবাসার আগে আমরা কেন তার রোজগারের হিসাব চাই?

আজ সাতাশ বছরের একজন যুবক চাকরি না পেলে আত্মীয়েরা প্রশ্ন করেন, এতদিন কী করলে? বন্ধুরা প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে। কারও বিয়ে হয়, কেউ ফ্ল্যাট কেনে। সামাজিক মাধ্যমে তাদের হাসিমুখের ছবি আসে। ছেলেটি নিজের ফোনে ছবিগুলি দেখে। তারপর পর্দা নিভিয়ে দেয়। অন্ধকার কাচে নিজের মুখ দেখতে পায়। সেখানে ব্যর্থতার কোনও সরকারি সিলমোহর নেই। তবু মুখটি দেখে তার লজ্জা হয়।

মানুষকে নিজের চোখে ছোট করে দেওয়ার এই ক্ষমতা সমাজ কোথা থেকে পেল?

অথচ প্রতিষ্ঠিত সুনীলও নিজের ব্যর্থতার সামনে অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। ‘আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি’ কাব্যগ্রন্থের প্রথম সংস্করণের ভূমিকায় তিনি লিখেছিলেন, পুরোনো কবিতা বাছাই করতে গিয়ে অপছন্দের পাতাগুলি মেঝেতে ছুড়ে ফেলছিলেন। একসময় এত ব্যর্থ কবিতা জমে গেল যে নিজের অস্তিত্ব নিয়েই তাঁর সন্দেহ জাগল। তারপর মাটি থেকে আবার কয়েকটি কাগজ তুলে নিলেন। সেই ভূমিকাতেই নিজের সম্ভাব্য ‘দিকভ্রান্ত জীবন’-এর কথা লিখেছিলেন তিনি। আশ্চর্য এই স্বীকারোক্তি। যিনি নিজের কবিতাকে ব্যর্থ ভেবে ফেলে দিয়েছিলেন, তিনিই পরে বাংলা সাহিত্যের প্রতিষ্ঠিত কবি। সাফল্য কি তাঁর ভিতরের সেই অসহায় মানুষটিকে কোনওদিন সম্পূর্ণ মুছে দিতে পেরেছিল?

নীললোহিতের লেখক সুনীল

বুদ্ধের নামে সংরক্ষিত ধম্মপদ-এর ১৬০তম গাথায় আছে, ‘অত্তা হি অত্তনো নাথো’—মানুষ নিজেই নিজের আশ্রয়। মূল গাথাটি আত্মসংযম ও আত্মদায়িত্বের কথা বলে। কিন্তু আজকের একাকী যুবকের কাছে কথাটি অন্য এক বেদনা নিয়ে আসে। সে নিজেকেই আশ্রয় দিতে চায়, অথচ সমাজ প্রতিদিন তাকে বোঝায়, তার নিজের উপর ভরসা করার যথেষ্ট কারণ নেই।

নীললোহিতের জীবনেও এই একাকিত্ব আছে। সে ঘুরে বেড়ায়, মানুষের সঙ্গে মেশে, ভালোবাসে। আবার কোথাও স্থায়ী হতে পারে না। তার চলাফেরার মধ্যে আনন্দ আছে, কিন্তু একটি চাপা অভাবও রয়ে যায়। যে মানুষ কোনও কিছু আঁকড়ে থাকতে চায় না, সে কি সত্যিই মুক্ত? নাকি কোথাও স্থির হয়ে দাঁড়ালে নিজের অপূর্ণতাকে স্পষ্ট দেখতে পাবে বলেই সে আবার হাঁটা শুরু করে?

কঠোপনিষদে আছে, ‘যদা সর্বে প্রমুচ্যন্তে কামা যে-ঽস্য হৃদি শ্রিতাঃ’। হৃদয়ের সমস্ত কামনা থেকে মুক্ত হলে মানুষ অমৃতের উপলব্ধি পায়। উপনিষদের এই মুক্তি আধ্যাত্মিক। নীললোহিত সেই অর্থে কামনামুক্ত সাধক নয়। তার ভালোবাসার ইচ্ছে আছে, পথের টান আছে, মানুষের কাছে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আছে। বরং এখানেই সে জীবন্ত। সবকিছু ছেড়ে যেতে চেয়েও সবকিছু থেকে মুক্ত হতে পারে না।

এই অসমাপ্ত ইচ্ছার মধ্যেই মানুষের বিষণ্ণতা বাস করে।

সুনীলের ‘নির্বাসন’ কবিতায় এই বিষণ্ণতার আর-এক চেহারা। কার্জন পার্ক, রেড রোড, কলকাতার আলো, নিখিলেশ—সবই পরিচিত। অথচ কবিতার মানুষটি নিজের চেনা শহরের মধ্যেই ক্রমশ একা হয়ে পড়ে। সে নিজের নাম শুনতে পায়, পরিচিত মানুষের মুখ খোঁজে, শেষে সঙ্গহীন হয়ে হাঁটতে থাকে। দিকশূন্যপুরের সঙ্গে এই নির্বাসনের অদ্ভুত বিরোধ। নীললোহিত অচেনা জায়গায় গিয়ে নিজের মতো বাঁচতে চায়। আর ‘নির্বাসন’-এর মানুষটি চেনা শহরে থেকেও নিজের জায়গা খুঁজে পায় না। হয়তো মানুষের সবচেয়ে দীর্ঘ নির্বাসন শুরু হয় তখনই, যখন নিজের বাড়িতে ফিরেও তার মনে হয়, সে কোথাও পৌঁছয়নি।

আমরা ভাবি, বয়স বাড়লে জীবন সম্পূর্ণ হয়। অথচ চল্লিশে পৌঁছে মানুষ সাতাশ বছরের কোনও বিকেল খোঁজে। পঞ্চাশে এসে ভাবে, একবার যদি আবার শুরু করা যেত! অবসরের পরে পুরোনো আলমারি খুলে কোনও চিঠি পেলে দীর্ঘক্ষণ চুপ করে থাকে। সেই চিঠির মানুষটি হয়তো আর বেঁচে নেই। তবু তার লেখা অক্ষরগুলির বয়স বাড়েনি।

সুনীলের নীললোহিতও তেমনই একটি চিঠি। লেখক চলে গিয়েছেন, প্রাপক এখনও ঠিকানা বদলায়নি।

সুনীলকে স্মরণ করতে গিয়ে তাই শুধু নীরা, কৃত্তিবাস, ‘কেউ কথা রাখেনি’ কিংবা তাঁর বিপুল সাহিত্যসম্ভারের কথা মনে পড়ে না। মনে পড়ে সেই বেকার যুবকটির কথা, যে আমাদের প্রতিষ্ঠিত জীবনের সামনে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন রেখে যায়। সত্যিই কি আমরা যে জীবন পেয়েছি, সেই জীবনটাই চেয়েছিলাম?

মানুষ যত সভ্য হয়েছে, তত বেশি রাস্তার নাম দিয়েছে, ঠিকানা দিয়েছে, গন্তব্য ঠিক করেছে। এখন একটি ফোন বলে দেয় আমরা কোথায় আছি, কত দূর গেলাম, কখন পৌঁছব। শুধু একটি প্রশ্নের উত্তর তার কাছে নেই—আমরা যেখানে পৌঁছতে চাইছি, সত্যিই কি সেখানে যেতে চেয়েছিলাম?

সুনীল সেই প্রশ্নের জন্য একটি জায়গা রেখে গিয়েছিলেন। দিকশূন্যপুর।

সেখানে পৌঁছনোর রাস্তা কেউ জানে না। হয়তো কোনওদিন জানবেও না। কারণ মানুষের সবচেয়ে বড় বিষণ্ণতা কোথাও পৌঁছতে না-পারার দুঃখ নয়। একদিন সমস্ত গন্তব্যে পৌঁছে আবিষ্কার করা, যে মানুষটি সেখানে পৌঁছতে চেয়েছিল, তাকে পথেই কোথাও হারিয়ে ফেলেছি। গুগল ম্যাপ সেই হারিয়ে যাওয়া মানুষটির ঠিকানা জানে না। সে আমাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয়, কিন্তু যে মানুষটি যাত্রা শুরু করেছিল, তাকে ফিরিয়ে দিতে পারে না। নীললোহিতকে খুঁজতে বেরিয়ে শেষ পর্যন্ত দেখি, নিখোঁজের বিজ্ঞপ্তিতে তার নয়—আমাদেরই ছবি।

অন্যান্য প্রতিবেদন.