শিক্ষাব্যবস্থার বেহাল দশা, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, দিনের পর দিন নিয়োগ বন্ধ, পরিকাঠামোর অবনতির মতো অভিযোগ এ রাজ্যে নতুন নয়। সদ্য সরকারে এসেই এবার বড় ঘোষণা ডবল ইঞ্জিন সরকারের। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল ৩ বছর সরকারের অর্থ সাহায্য থেকে বঞ্চিত ছিল রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলি। ২০২১-২২ আর্থিক বছরে বাংলায় সরকারি স্কুলের সংখ্যা ছিল ৮৩ হাজার ৩০২টি। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা কমে হয়েছে ৮১ হাজার ৫৯১টি। অর্থাৎ সরকারি স্কুলের বন্ধ হয়ে যাওয়ার রীতি গত সরকারের আমলেও উল্লেখযোগ্য একটি ব্যর্থতার নজির।
এদিন নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারি স্কুলের উন্নয়নে একগুচ্ছ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। রাজ্যের ৮০ হাজার ৩৭৫ স্কুলকে সরকারি অর্থ সাহায্যের মাধ্যমে পরিকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে। এই খাতে রাজ্য বরাদ্দ করেছে ২৯৬ কোটি টাকা। কম্পোজিট স্কুল গ্র্যান্ট ফান্ডে অর্থ সাহায্য দেওয়া হবে সরকারি ও আধা সরকারি স্কুলগুলিকে।
এছাড়াও সমস্ত বিতর্ক এবং জল্পনার অবসান ঘটিয়ে স্কুলের মিড ডে মিলে প্রোটিন সমৃদ্ধ ডিম ফেরানোর আশ্বাসও দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল সরকারের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে এদিন শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “নতুন সরকারের আমলে রাজ্যে কেন্দ্র-রাজ্য যৌথভাবে শিক্ষাব্যবস্থার হাল ফেরাতে উদ্যোগী। আমরা উচ্চশিক্ষা বিভাগ আলাদা করেছি। ভারত সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নই আমাদের লক্ষ্য।” এছাড়াও স্কুলে উন্নত বিদ্যুৎ পরিষেবা, ছাত্র এবং ছাত্রীদের জন্য আলাদা শৌচালয় নির্মাণ, পরিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা, গ্যাসে মিড ডে মিল রান্না, সরকারি প্রতিটা স্কুলে ফ্যান দেওয়ার ব্যবস্থা করবে সরকার এই আশ্বাসও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি দীক্ষা প্ল্যাটফর্মে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, ১ হাজার মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক স্কুলে অটল ল্যাবরেটরি, ৮০০ স্কুলকে ‘পিএমশ্রী’-র আওতায় আনা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। বেসরকারি স্কুলগুলির মতো সরকারি স্কুলেও করা হবে অডিও-ভিস্যুয়াল ক্লাসের ব্যবস্থা।

সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন তাঁদের সরকারের আমলেই উচ্চ মাধ্যমিকের পরে ভর্তির সংখ্যা বেড়েছে। মাধ্যমিকের পরেও ভর্তির সংখ্যা বেড়েছে। ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষিত করতে পারলে কর্মসংস্থান বাড়বে বলেও জানান তিনি। বিদ্যালয় পরিচালন কমিটিতে অভিভাবকদের মত প্রকাশের ক্ষমতা দেওয়া হবে। জেলায় জেলায় কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকেও এগোচ্ছে বাংলার বিজেপি সরকার।
নিঃসন্দেহে এই ঘোষণা রাজ্যের শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর। দিল্লিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের রেশ এখনও টাটকা। নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এবং শিক্ষায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি করেছিলেন দেশের ছাত্র যুবরা। অবশেষে তাঁদের দাবি মেনেও নেওয়া হয়েছে। এই আবহেই রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা খুবই প্রশংসনীয়।

