ক্যাম্পাসে গ্রাফিতিতে চুনকাম ও রাষ্ট্রের ছায়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় বন্ধ করে সার্বিক হোক নির্বাচন! তবেই সাপমুক্তি হবে পশ্চিমবঙ্গের? বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটে জিতে মোদীর সঙ্গে ব্রেকফাস্ট! সায়নী, কাকলীরা আর জিতবেন? প্রতিবাদী মানেই ‘অ্যান্টিন্যাশনাল’ নয়, ভাগবতের কথা কি মাথায় রাখবে তথাকথিত ‘দেশভক্ত’রা? বাঁকিপুরের ঝাঁকি, সঙ্গে CJP! ঘুরে দাঁড়াতে পারবে BJP? গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কাঁটা মোদী-শাহ’র CPIM থেকে BJP হয়ে তৃণমূল! বিরোধী হলেই কাদা-ডিম্ ছোঁড়ার রাজনীতি বাংলায়, কবে বদলাব আমরা? জমিতেও হিন্দু-মুসলমান? মুখ্যমন্ত্রীর ‘ল্যান্ড জিহাদ’ মন্তব্যে শোরগোল বঙ্গ রাজনীতিতে রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে বাড়ি দখলের অভিযোগ, শর্বরীর বিরুদ্ধে দোকান! তোলাবাজির TMC-BJP হয়?

কানওয়ার তীর্থযাত্রায় বিরাট সাউন্ড সিস্টেম! কানফাটা আওয়াজে হয়রান স্থানীয়রা

১৮ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

বাংলায় মসজিদে মাইক খুলে ফেলার নিদান দিচ্ছে প্রশাসন। শব্দদূষণ কিংবা নিজের ধর্মীয় আওয়াজ কেন অন্যের কান অবধি পৌঁছবে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শাসক দলের কেউ কেউ। কিন্তু যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশে চলমান কানওয়ার যাত্রার জেরে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা। প্রতিবছরেই শ্রাবণ মাসে কানওয়ার যাত্রা (Kanwar Yatra) উপলক্ষে উত্তরপ্রদেশে ভিড় বাড়ে পুণ্যার্থীদের। এই যাত্রার লক্ষ্য হল হরিদ্বার, গঙ্গোত্রী বা অন্য গঙ্গাতীরবর্তী স্থান থেকে গঙ্গাজল সংগ্রহ করে পুণ্যার্থীরা ‘কানওয়ার’ নামের বাঁশের কাঠামোয় তা কাঁধে করে বয়ে নিয়ে যান। এরপর তা অর্পণ করা হয় শিবলিঙ্গের উপর। এই উপলক্ষ্যে বেশ কয়েকদিন স্কুল-কলেজও বন্ধ রাখা হয়েছিল রাজ্যের একাধিক জেলায়। এবার উঠছে শব্দদূষণের অভিযোগ।

Hindustan Times-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, কালিন্দী কুঞ্জ ও কালকাজির মতো আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের কার্যত ঘুম উড়ে গিয়েছে বিকট আওয়াজে। তীর্থযাত্রীদের সাউন্ড সিস্টেম লাগানো ট্রাকের মিছিল যাওয়ার সময় কখনও শব্দমাত্র ছাড়িয়ে যাচ্ছে ১০০ ডেসিবল। একের পর এক কনভয় পেরিয়ে যাওয়ার মাঝেও শব্দের মাত্রা ছিল প্রায় ৮০ থেকে ৮৮ ডেসিবেল। আর এই তীব্র শব্দের ঝাঁকুনিতে দুচোখের পাতা এক করতে পারছেন না স্থানীয়রা।

পুলিশকর্মীরা যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তীর্থযাত্রীদের সহায়তাও করেছেন। স্কুল কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে যাতে তীর্থযাত্রীদের কোনও অসুবিধা না হয়। অথচ সাধারণ মানুষের অসুবিধা করে লাগাতার এই শব্দদূষণের বিরুদ্ধে সরকারকে এখনও কোনও পদক্ষেপ করতে দেখা যায়নি। শব্দমাত্রা মাপার খবর প্রকাশ্যে আসার সময় পর্যন্তও রাজ্যজুড়ে কোনও এফআইআর দায়ের হয়নি।

স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় বাড়িতে যারা ধারাবাহিক লেখাপড়া করছেন তাঁদের জন্যও এই বিকট আওয়াজ বেশ অসুবিধার। ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঘিরে অতিরিক্ত শব্দ কখনও যদি জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয় তার ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। কিন্তু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সামাজিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই আইন লঙ্ঘন করলেই মাসুল দিতে হয় সাধারণ মানুষকে। তবে ধর্মীয় আবেগকে সম্মান করার নামে প্রশাসনের কি শব্দদূষণের নিয়মে ছাড় দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে?

কানওয়ার যাত্রা

অন্যদিকে বাংলায় সমস্ত ধর্মীয় আবেগকে কিন্তু সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। রাজ্য জুড়ে একাধিক জায়গা থেকে অভিযোগ আসতে শুরু করেছে মসজিদের মাইক খুলে ফেলার নিদান দেওয়া হচ্ছে। অথচ তার কোনও লিখিত নোটিস দেওয়া হচ্ছে না। ভারতের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের নিয়মে ধর্মের ভিত্তিতে কোনও আলাদা ছাড় নেই। মাইক বা লাউডস্পিকার ব্যবহারের জন্য আগে থেকে লিখিত অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। আবাসিক এলাকায় দিনের বেলায় শব্দের সর্বোচ্চ সীমা ৫৫ ডেসিবেল, এবং রাতে ৪৫ ডেসিবল শব্দমাত্র অবধি মাইক ব্যবহার করা যায়। তাহলে সমস্ত ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রেই এই আইন কেন মেনে চলা হবে না? তা নিয়েও উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন।

অন্যান্য প্রতিবেদন.