আর জি কর ঘটনার ঠিক দুই বছরের মাথায়, বুধবার রাতে নীলরতন সরকারি হাসপাতালে নাইট ডিউটিতে কর্মরত থাকা নার্সের মৃতদেহ উদ্ধার হয় স্ত্রী বিভাগ ভবনের স্টাফ ওয়াশরুম থেকে। এই ঘটনার তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক তথ্য। ইতিমধ্যেই এই মৃত্যু ঘিরে ছড়িয়ে পড়েছে চাঞ্চল্য। আজই সামনে এসেছে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট।
রিপোর্ট বলছে, ‘ অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধের প্রয়োগেই মৃত্যু হতে পারে নার্সের ‘। আরও উল্লেখ , ” অক্সিজেনের অভাবে চোখের সাদা অংশের পাশাপাশি নখ ও জিভের একাংশ নীলচে হয়ে গেছিল এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্রিয়া বন্ধ হয়েই হয় মৃত্যু”। তবে ফরেন্সিক – প্যাথলজি রিপোর্ট আসার পরেই সম্পূর্ণ সত্য জানা যাবে বলে দাবি চিকিৎসকদের।
মৃতদেহের আশেপাশে প্রাথমিক তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে ফেন্টানিলের তিনটি ভায়াল, যা মরফিনের থেকেও শতগুণ শক্তিশালী এবং তীব্র ব্যথা উপশমে ব্যবহৃত হয়। পাওয়া গেছে মিডা জোলামের ভায়ালও। তবে দুই কনুইয়ে সিরিঞ্জের ফুটো নিয়ে ধোঁয়াশা আরও গাঢ় হচ্ছে৷
এই মৃত্যুর ধোঁয়াশা কাটাতে স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশে ৮ জন সদস্যকে নিয়ে এক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের ৭ দিনের মধ্যেই রাজ্যের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অধিকর্তাকে সম্পূর্ণ রিপোর্ট দেওয়ার কথা। তদন্ত কমিটির নির্দেশ দিয়েছেন খোদ ফরেন্সিক মেডিসিনের বিভাগীয় প্রধান। গাইনি সিবি বিল্ডিংয়ের অ্যান্টি নেটাল ওয়ার্ডের সিসিটিভি ফুটেজে, ১২ আগস্ট সন্ধ্যে ৭টা থেকে ১৩ আগস্ট সকাল ৮ টা পর্যন্ত, সমস্ত গতিবিধিতে নজর রাখেছে তদন্তকারীরা।
আজই আর জি কর ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে আর এক তৃণমূল কাউন্সিলরকে। তবে নীলরতন হাসপাতালের ঘটনায় এখনও ধোঁয়াশার কোনো অন্ত নেই।
