আলোর কথা বলতে গিয়ে হারিয়ে ফেলি খেই,
আকাশ দু-ভাগ ফারাক হলো চমক দেখাতেই।
টিনের চালের ফুটোর কথা জমিয়ে রেখে চালে,
বাসন-বাটি জড়ো করে দিনগুলো বাঁচালে…
মেঘ বড় সুন্দর জিনিস লোকসকল! মেঘের মায়ায় সংসার চলে, মানুষ চলে, কুকুরও চলে লেজ নাড়িয়ে! আমার-তোমার জানালায় বৃষ্টি নামলে আলো কমে আসে ধীরে ধীরে, যেন কোনো পটার ছড়ির স্পেলে ঝুমঝুম করে দিল দুপুর…
আমি হ্যাংলার মতো মেঘ চেয়ে থাকি, চাতকের মতো জল, প্রেমিকের মতো প্রিয় মানুষের ছোঁয়ায় হারাতে থাকি নিষ্ফল! মানুষ মেঘ দেখলে প্রেমিক হয়, অথবা অসহায়…
একদিন ভরদুপুরে সন্ধ্যে নামার মতো করে বৃষ্টি নামলো। ঝিলের জল এক নিমেষে নৌকা বাওয়া নদী হয়ে গেল—বন্ধুর চোখ যমুনা! আমি বন্ধুর চোখে সাঁতার দিতে গিয়ে আবার খেই হারালাম; লেজ নাড়াতে নাড়াতে কুকুর গোল হয়ে বসলো আমাদের মাঝে, আকাশ ফারাক হলো, থমকে গেল যমুনার জল…
বৃষ্টি হলে গ্রামের বাড়িতে কাদা হয়ে যেত, পা ডুবে যেত কাদায়। সেই কাদা-ভারী পা নিয়ে মাথায় চিকচিকি গলিয়ে পাড়া ঘুরতে যেতাম। মূল উদ্দেশ্য ছিল সামনের পুকুরের মাছেদের কী হালচাল, সেটা দেখতে যাওয়া। অদ্ভুত সব খালবিল পেরোতেই আবার বিছানার মতো করে বৃষ্টি নামতো! আমরা একছুটে বাড়ি ফিরে যেতাম তক্ষুনি। বৃষ্টির জলে কাদায় ছুট্টে স্লাইড করে ধপাস করে পড়তাম! একবার নাক ফেটেও গিয়েছিল! এখন আর ফেরা হয় না যদিও…
এরকমই এক বর্ষার দিনে শ্মশান গেছি। বন্ধুর মাথার ছাদ ভাঙলো সে বর্ষায়, বন্ধুও! সেদিন প্রথম নিজেকে বড় মনে হচ্ছিল; মনে হচ্ছিল নিজের সবটুকু দিয়ে থেকে যাবো বন্ধুর পাশে! তবু চোখের জল তো আর বর্ষার জল না! মানুষ কত কিছু চায়—ভালো চায়, খারাপ চায়; কিন্তু চাইলেই কি হয়! বন্ধু বোধহয় ভালো আছে এখন…
এখনও বর্ষার জল দেখি আর টুকরো ছবিগুলো ভেসে ভেসে ওঠে মেঘের মতো। যতটুকু ফেরা যায় অতীতে, তার চেয়েও বেশি ফিরে গেছি বহুবার। তোমাদেরও তো বর্ষার জল গায়ে লাগে—ফেরা হয়ে ওঠে?

