সংসদে বাদল অধিবেশনের আগে চলছে জোরদার অঙ্ক কষাকষি। সদ্য বাংলায় নির্বাচন মিটেছে। আর তারপরেই নিজেদের লক্ষ্যে আরও একধাপ এগিয়ে গিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। লোকসভায় ‘মিশন ৩৬০’-এর লক্ষ্যে মরিয়া বিজেপি। সংসদে যেকোনও বিল পাস করাতে লাগে দুই তৃতীয়ংশ সমর্থন। কৌশলগতভাবে নিজেদের ছাতার তলায় সাংসদ জড়ো করার কাজই এই মুহূর্তে চলছে বিজেপির অন্দরে।
একের পর এক বিজেপি বিরোধীদলগুলিতে ভাঙন ধরিয়ে নিজেদের ঘাঁটি শক্ত করতে চাইছে বিজেপি। যা ইন্ডিয়া জোটের কাছে বেশ চ্যালেঞ্জের। সমর্থন জোগাড় করলেও এখনও অবধি লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে পারেনি তাঁরা।
কেন ‘মিশন ৩৬০’ নিয়ে মরিয়া বিজেপি?
লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ,কেন্দ্রগুলির সীমানা পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন ,ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মতো বিল গুলি পাশ করাতে বিজেপির যে সংখ্যা গরিষ্ঠতা চাই তা থেকে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে তারা। ইতিমধ্যেই বাংলার ২০ জন সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে ঘুরপথে NCPI-এ যোগ দিয়েছেন। যারা আবার NDA-এর শরিক। বিজেপির দাবি ডিএমকে এবং এনসিপিও বিজেপিকেই সমর্থন দেবে। হিসেবে মেলালে দেখা যাচ্ছে এই মুহূর্তে এনডিএ-র নিশ্চিত সাংসদ সংখ্যা ২৯৩ জন। তৃণমূল ভেঙে NCPI-থেকে আসা ২০ জন সাংসদ সরকারকে সমর্থন করলে সংখ্যা দাঁড়াবে ৩১৩। এছাড়া ডিএমকের ২২জন সাংসদ, একনাথ শিবির ও শরদ শিবিরের সমর্থন পেলে মোট ৩৫৪টি সাংসদ পাবে এনডিএ। সেক্ষেত্রে আর ৬ থেকে ১০ জন সাংসদের প্রয়োজন বিজেপির।

জল্পনা ইতিমধ্যেই তৃণমূলের বাকি ৮ জন এমপি, এবং সমাজবাদী পার্টির সাংসদকে দলে টানার জোরদার আলোচনা চলছে দিল্লির অন্দরে। অমিত শাহ, জেপি নাড্ডা ও বি এল সন্তোষের সঙ্গে ইতিমধ্যেই এই মহারণ নিয়ে বৈঠক করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে কংগ্রেসের পালটা দাবি, বিজেপির কাছে সংখ্যা নেই এখনও।
অন্যদিকে, সংসদের মধ্যে নিজেদের শক্তি বাড়ানোর স্নায়ুর খেলায় এগিয়ে থাকলেও দেশে বিজেপি বিরোধী আন্দোলন ফের মাথাচাড়া দিয়েছে। ২০ জুলাই সংসদে বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। ঐদিন সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি এবং আন্দোলনরত ছাত্রযুবরা। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষায় দুর্নীতির মতো ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চেয়ে দিল্লির যন্তর-মন্তরে অনশন করছিলেন প্রকৌশলী সমাজসেবী সোনম ওয়াংচুক সহ আরও ৪জন ছাত্রছাত্রী। শনিবার সেই অনশনমঞ্চ থেকে একপ্রকার তুলে নিয়ে যাওয়া হয় সোনমকে। তবে আন্দলনে ইতি টানা যায়নি। আগামী ২০ জুলাই এই মিছিলের দিকেও লক্ষ্য থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

