কবে উদ্বোধন শ্রীভূমির? ত্রিধারা, হিন্দুস্তান, সুরুচিরই বা থিম কী?

৫৮ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

আর মেরেকেটে মাস তিনেক রয়েছে দুর্গাপুজোর। অন্যান্যবার এই সময় থেকেই থিমের নাম লেখা ব্যানারে মুড়তে শুরু করে তিলোত্তমার রাজপথ। কিন্তু এইবার দুর্গাপুজোর ভবিষ্যৎ কী? তা নিয়ে সন্দিহান রাজ্যবাসী। কলকাতার হেভিওয়েট পুজোগুলির বেশিরভাগটাই ছিল প্রাক্তন সরকারের নেতা মন্ত্রীদের। সুজিত বসুর শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব, দেবাশীষ কুমারের ত্রিধারা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের হিন্দুস্তান ক্লাব, কিংবা ফিরহাদ হাকিমের চেতলা অগ্রণীর এবারের ‘থিম’ কী? তা এখনও অজানা।

গত ৪ঠা মের পর থেকে সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতির অবস্থা। গত ১৫ বছর ধরে রাজ্য জুড়ে রাজ করা তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রীদের অবস্থা বিশেষ ভাল নয়। কেউ বা জেলে, কারও বা বাইরে বেরোলেই জুটছে ‘ডিম থেরাপি’, আবার কেউ বা ‘ভাল তৃণমূল’ শিবিরে জল মাপছেন। এসবের মধ্যে কলকাতার এই হেভিওয়েট পুজো গুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে।

তৃণমূল আমলে ৪দিনের দুর্গাপুজো প্রায় ১৫ দিনের উৎসবে গিয়ে ঠেকেছিল। বিপুল পরিমাণ বিজ্ঞাপন, জাঁকজমকপূর্ণ থিম, আলো ছিল এইসমস্ত পুজোর চমক। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুজোর অনুদান হিসেবে ১লক্ষ ১০হাজার টাকা ক্লাবগুলিকে দিতেন। রাজ্য কোষাগারের একাংশের বিপুল অর্থ চলে যেত পুজোর পিছনেই। রাজ্যের দাবি ছিল , এই পুজোর থেকে বিপুল পরিমাণ আয়ও উঠে আসত। তবে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল সেই টাকার অধিকাংশই তারা পকেটস্থ করতেন৷

অন্যান্যবার এইসময় মণ্ডপ বাঁধার কাজ শুরু হয়ে যায়। জানা হয়ে যায়, কোন থিম ফুটে উঠবে মণ্ডপে। কিন্তু এবারের ছবি এক্কেবারে আলাদা। প্রায় আগের বছর থেকে ঠিক করে রাখা থাকে সুজিত বসুর শ্রীভূমি স্পোর্টিং-এর থিম। মহালয়ার আগেই প্রায় উদ্বোধন হয়ে যায় পুজো। তবে এবার সেসবের নাম গন্ধ নেই। তবে সুজিতকে ছাড়াই সাবেকী প্রতিমা, সনাতনী ঐতিহ্য বজায় রেখে পুজোর পরিকল্পনা চলছে ক্লাবের অন্দরে। হিন্দুস্তান ক্লাবের উদ্যোক্তা মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য প্রথম প্রথম ‘আসল তৃণমূল’এ রইলেও, সদ্য তিনিও দিয়েছেন ইস্তফা৷ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘লাগেজ ব্যাগেজ নিয়ে’ কেউ কেউ আপন প্রাণ বাঁচাচ্ছেন। অন্যদিকে কলকাতার বিখ্যাত পুজো টালা প্রত্যয়-ও নতুন সরকারের আমলে প্রায় বাতিলের খাতায়। টালার মণ্ডপ বাঁধার কাজ শুরু হলেও প্রশাসনের আইনি কোপে তা এখন ভেস্তে গিয়েছে। ইউনেসকো স্বীকৃতি নিয়েও কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, কেন্দুয়া পুজো কমিটির পোস্টারে থাকত সাংসদ সায়নী ঘোষের ছবি। উদ্যোক্তা ছিলেন বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত, যদিও তিনি এখন পুলিশের জালে। আর সাংসদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সাজের ভোল বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে বদলে নিয়েছেন দল-ও। ফিরহাদ যদিও জানিয়েছেন পুজো পুজোর মতোই হবে।

একাধিক ক্লাব কমিটির অন্দরে ভাঙা-গড়ার কাজ চলছে৷ কোথাও কেবল নমঃ নমঃ করেই সারা হবে পুজো এমনটাও শোনা যাচ্ছে। পুজোর জন্য এই সরকার যে কোনওরকম অনুদান দেবে না তা একপ্রকার স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে তৃণমূল আমলে বিরোধী শিবিরের সজল ঘোষের পুজো সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার রমরমিয়েই হতো। কিন্তু এই সরকারের আমলে পুজোয় বিরোধীরা নিজেদের ঝাঁঝ কতটা ধরে রাখতে পারে এখন সেটাই দেখার।

অন্যান্য প্রতিবেদন.