আবার প্রলয়! এবার বিচার পাবে বরুণ বিশ্বাস?

৩৪ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

তাঁর জীবন নিয়ে আস্ত একখানা ‘হিট’ সিনেমা হয়ে গিয়েছে, কিন্তু বিচারটা এখনও হয়নি। গোবরডাঙা স্টেশনে প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসকে কে বা কারা গুলি করেছিল? তা এখন অন্তরালেই থেকে গিয়েছে। ১৪ বছর কেটে গিয়েছে। ‘প্রলয়’ ছবির পরিচালক রাজ চক্রবর্তী পূর্বতন সরকারের বিধায়ক থেকেও বিচার এনে দিতে পারেননি বরুণের। তাই পালা বদল হতেই খুনের বিচার চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারির ‘জনতার দরবারে’ গিয়েছলেন মৃত শিক্ষকের পরিবার।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিচার পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয় বরুণের পরিবারকে। প্রাক্তন খাদ্য মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নামে সরাসরি অভিযোগ তুলে বরুণের দিদি জানান, “ওকে মেরেছে তৃণমূল সরকারের জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, ওই আসল মাথা। নতুনভাবে তদন্ত চেয়েছিলাম, মুখ্যমন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আশা নিয়ে এসেছিলাম। আশ্বস্ত হয়ে যাচ্ছি।”

সুটিয়া গ্রামে গণধর্ষণ তখন জলভাত। গ্যাংস্টারদের তাণ্ডবে ত্রস্ত গ্রাম। একটা সময় সুটিয়া পরিচিত ছিল ধর্ষণ গ্রাম নামে। শোনা যায়, বাবার সামনে মেয়ের, কখনও মা-মেয়ের একসঙ্গে শ্লীলতাহানি করে তার ভিডিও রেকর্ড করে রাখত দুষ্কৃতিরা। সেসব ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মুখবন্ধ করে রাখা হত মহিলাদের। গ্রামের এইসমস্ত অসামাজিক কাজ, ধর্ষণ, অত্যাচারের বিরুদ্ধে কলম ধরতে শুরু করেছিলেন অত্যন্ত মেধাবী বরুণ বিশ্বাস। গ্রামবাসীকে একজোট করে গড়ে তুলেছিলেন প্রতিবাদী মঞ্চ। তাঁর নেতৃত্বে ভয়ে পাথর হয়ে থাকা গ্রামবাসীরা আওয়াজ তুলতে শুরু করেছিলেন। আর তারপরেই ২০১২ সালে তৃণমূল সরকার আসার ঠিক এক বছরের মাথায় এই ঘটনা ঘটে। স্টেশন থেকে বাড়ি ফেরার পথে খুন করা হয় বরুণকে।

স্থানীয়রা দাবি করেন, ২০০০ সালের ভয়াবহ বন্যার পর নদী সংস্কারের জন্য আন্দোলন শুরু করে বরুণদের ওই মঞ্চ। কোটি কোটি টাকার অনুমোদন আসে, যা তৎকালিন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক আত্মসাৎ করেছিলেন বলেও দাবি করে সরব হয়েছিল বরুণরা। স্থানীয়দের দাবি, সেই কারণেই খুন হতে হয় বরুণকে।

এর আগেও বিচার চেয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিল বিশ্বাস পরিবার, লাভের লাভ হয়নি। বরুণের দিদি বলেন, “এতদিন তদন্তের নামে প্রহসন হয়েছে, তাই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নতুন ভাবে ভাইয়ের হত্যার তদন্ত দাবি করেছি”। নতুন সরকারের কাছে আশা অনেক সাধারণ মানুষের। এবার তা পূরণ হবে কি না তা তো সময়ই বলবে।

অন্যান্য প্রতিবেদন.