ক্লাস নাইন ফেল থেকে দিল্লি ইউনিভার্সিটির টপার, ইমতিয়াজের জীবন ‘ওয়াপসি’র মহাকাব্য

১৯ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

প্রেম ছাড়া যে দিন বদলের গান শোনানো যায় না তা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন তিনি। ‘রকস্টার’, ‘তামাশা’, ‘জব উই মেট’ থেকে হালফিলের ‘ম্যাঁয় ওয়াপাস আউঙ্গা’ ইমতিয়াজের ছবি মানেই প্রেম। প্রেমের ঘেরাটোপ নয় প্রেমের মুক্তি। তাঁর বিশ্বাস শুধু মনুষ্য প্রেম নয় ভালবাসার একটি ভাগ স্বদেশপ্রেমও বটে। সম্প্রতি নিজের ‘ম্যাঁয় ওয়াপাস আউঙ্গা’র প্রচারে তিলোত্তমায় এসেছিলেন ইমতিয়াজ। নাহ তাঁকে ঘিরে ছিল না কোনও সিকিউরিটি। কোনও পাঁচতারা হোটেলের বিরাট আলো, তারকাদের ভিড়ে স্পটলাইট কেড়ে নয় বরং ইমতিয়াজ এসে দাঁড়ালেন বৃষ্টি ভেজা ভিক্টোরিয়ার সামনে। খালি পায়ে, ছাতা হাতে। হলুদ ট্যাক্সির নস্টালজিয়া, কলকাতার বর্ষার রোমান্টিকতার স্বাদ নিলেন ইমতিয়াজ।

তিলোত্তমায় ইমতিয়াজ

ইমতিয়াজের ঝুলিতে সিনেমার কোয়ান্টিটির বহর নেই বরং রয়েছে কোয়ালিটির দায়। লার্জার দ্যান লাইফ নয়, ইমতিয়াজের সিনেমায় ফোকাস হয় শুধুই লাইফ। আত্ম-আবিষ্কারের যাত্রা , স্বাধীনতা , প্রেমে মুক্তির কথা বলে তাঁর ছবি। সিনেমা দেখতে বসলে একেকটা চরিত্রকে নিজের সঙ্গে রিলেট করতে পারে মানুষ। হিরো, হিরোইন নয়, তাঁর ছবির প্রোটাগনিস্ট রক্তমাংসের মানুষ। তাঁরা নিখুঁত নয়, বরং দ্বিধাগ্রস্ত, ভাঙা, একাকী।


ব্যর্থতাকে সেলিব্রেট করতে জানেন পরিচালক। ইমতিয়াজের নিজের জীবনেও এমন এক অভিজ্ঞতার কথা পরিচালক জানিয়েছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, জীবনের সবচেয়ে বড় ‘টার্নিং পয়েন্ট’ কোন মুহূর্ত ছিল। উত্তরে ইমতিয়াজ ফিরে যান স্কুলজীবনে। ক্লাস নাইনে ফেল করেছিলেন পরিচালক। আবার সেই ক্লাসেই পড়তে হয়েছিল তাঁকে। ইমতিয়াজ বলেন, “আমার মনে হয়, নবম শ্রেণিতে ফেল করা এবং একই ক্লাসে আবার পড়তে হওয়াটাই ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় ঘটনা। সেই সময় যে অপমান, লজ্জা আর হেনস্তার মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলাম, সেটাই আমাকে ভাবতে বাধ্য করেছিল। ওই ঘটনাই আমাকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এবং স্বাধীনভাবে চিন্তা করার শিক্ষা দেয়।”

বৃষ্টিস্নাত কলকাতায় খালিপায়ে পরিচালক

এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, কেন তিনি ফেল করেছিলেন? হাসতে হাসতেই ইমতিয়াজ জানান, সম্ভবত সিনেমার প্রতি অতিরিক্ত টানই ছিল তার অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, “সেই সময় বাবা বদলির কারণে অন্য জায়গায় চলে গিয়েছিলেন। আমি জামশেদপুরে আত্মীয়দের বাড়িতে থাকতাম। তাঁদেরই সিনেমা হল ছিল। বাড়ির একেবারে কাছেই দু’টি প্রেক্ষাগৃহ ছিল। ফলে প্রায় রোজই সিনেমা দেখতে চলে যেতাম।” যদিও পরবর্তীতে এই ইমতিয়াজই দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের টপার হয়েছিলেন। ইমতিয়াজের সিনেমার দর্শকেরা এই ঘটনায় হয়ত মনে মনে বলবেন, ভাগ্যিস! সিনেমার প্রতি এই টান তৈরি হয়েছিল ইমতিয়াজের। নইলে যে আমাদের গীত, জর্দান , ভীরা কিংবা অমর সিং-এর সঙ্গে আলাপই হত না।

অন্যান্য প্রতিবেদন.