৬০ বছর পর ফের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে ইংল্যান্ড। কোচ টমাস টুখেলের দল গঠন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিশ্বকাপের আগে। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর, কথা হয়েছে পারফরম্যান্স নিয়ে। তবে এই সমস্ত কিছুর জবাব দিচ্ছেন হ্যারি কেন, জুড বেলিংহ্যামরা। তবে কোন স্ট্র্যাটেজিতে বাজিমাত করে যাচ্ছে ইংল্যান্ড? আসুন সেটাই বুঝে নেওয়া যাক।
তারকাদের বাদ দেওয়া তারকাদের বাদ দেওয়া
বিশ্বকাপের দল দেখে চমকে উঠেছিলেন প্রায় সমস্ত ইংল্যান্ড ফ্যান। ফিল ফোডেন, কোল পামার বা ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের মতো সৃজনশীল তারকাদের বাদ দিয়ে টুখেল শারীরিকভাবে আরও ফিট ও সুশৃঙ্খল মরগান রজার্স, ননি মাদুয়েকে, এলিয়ট অ্যান্ডারসনদের বেছে নিয়েছেন। যা শুধু সাহসী সিদ্ধান্ত নয়, সঠিকও। আর তার প্রমাণই পাওয়া যাচ্ছে। আসলে ইংল্যান্ড দলে প্রতিভা বা তারকার অভাব ছিল না। তবুও চ্যাম্পিয়ন হওয়া তো দূর, সেমিফাইনালে যেতে পারত না ইংল্যান্ড দল। অধরাই থাকত ‘ইটস কামিং হোম’-এর স্বপ্ন।
বারে বারে প্রতিপক্ষকে ফাঁদে ফেলা
জর্ডন পিকফোর্ড অর্থাৎ গোলকিপারের পা থেকে আক্রমণ শুরু হচ্ছে। অনেকটা সময় নিজের পায়ে বল রাখছেন ইংল্যান্ড গোলকিপার। ফলে প্রতিপক্ষের ফুটবলাররা প্রেস করতে গিয়ে ফাঁকা জায়গা দিয়ে ফেলছেন মাঝমাঠে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আক্রমণ গড়ছে ইংল্যান্ড। উইঙ্গারদের দ্রুতগতি সেই আক্রমণকে আরও তীক্ষ্ণ করছে।

বিভিন্ন সিস্টেমে খেলতে পারা
কোচ টমাস টুখেলের দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের এই খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। স্পেনের মতো একটানা বল দখল বা আর্জেন্টিনার মতো কোনও একক ব্যক্তিকেন্দ্রিক ফুটবল নয়, ইংল্যান্ড পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের কৌশল পাল্টে নিচ্ছে। আর দ্রুত তার সঙ্গে খাপ খাওয়াচ্ছেন ফুটবলাররা। যেমন— হ্যারি কেনকে বারবার দেখা যাচ্ছে নিচে নেমে এসে পাস খেলার চেষ্টা করছেন। এতেই প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে ফাঁক তৈরি হচ্ছে। কারণ তিনি নিচে নেমে আসায় প্রতিপক্ষের সেন্ট্রাল ডিফেন্ডাররাও পজিশন ছেড়ে ওপরে চলে আসতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে জুড বেলিংহ্যাম বা অ্যান্থনি গর্ডনদের মতো গতিময় খেলোয়াড়দের জন্য প্রতিপক্ষের বক্সে সরাসরি ঢুকে পড়ার জায়গা তৈরি হচ্ছে।
ডিফেন্সে ইউটিলিটি ফুটবলার
টুখেল এমন ভার্সেটাইল ফুল-ব্যাক ব্যবহার করছেন যারা প্রয়োজনে নিচে নেমে রক্ষণ সামলাতে পারেন, আবার মাঝমাঠে এসে ওভারলোড তৈরি করতে পারেন। যেমনটা করছেন নিকো ও’রাইলি।
টুখেলের মাস্টারক্লাস
ম্যানেজার বা কোচকে শুধু স্ট্র্যাটেজিতে মন দিলেই হয় না, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তও নিতে হয়। সেটাই পার্থক্য গড়ে দিচ্ছে। আর সেই কারণেই পিছিয়ে পড়েও জিতছে থ্রি লায়ন্সরা। সেখানে হাফ টাইমে লকার রুমে তিনি যে পেপটক দিচ্ছেন তাতেই কাজ হচ্ছে। এর প্রমাণ রাউন্ড অব ৩২-এ ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পর হাফ-টাইমে ড্রেসিংরুমে তাঁর শান্ত, সংক্ষিপ্ত এবং স্পষ্ট ট্যাকটিক্যাল বার্তা দলের মানসিকতা পুরোপুরি বদলে দেয়, যার ফলে দল সহজে ঘুরে দাঁড়ায়।

এরপর আসে সঠিক সময়ে খেলোয়াড় বদল, অর্থাৎ ঠিক সাবস্টিটিউশন। দেখা যাচ্ছে, তিনি যাদের নামাচ্ছেন, তারাই গোল করছেন, নয়তো গোলের ঠিকানা লেখা পাস বাড়াচ্ছেন। মেক্সিকোর বিরুদ্ধে ১ জন লাল কার্ড (জারেল কুয়ানসা) দেখার পর ডিফেন্সিভ মাস্টারক্লাস দেখান টুখেল। পাশাপাশি নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে সঠিক সময়ে বদলি খেলোয়াড় মরগান রজার্সকে নামানো তাঁর কৌশলের বড় সাফল্য। জুড বেলিংহ্যামের ভাষায়, টুখেলের নামানো বদলি খেলোয়াড়রা মাঠে ‘যোদ্ধার মতো’ খেলছেন।

