হিমবাহ হ্রদ ফেটে দুর্যোগে ভূটান, ভ্রূকুটিতে ভারতও

৫ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

​প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভুটানের পাহাড়ি অঞ্চলে মেঘভাঙা বৃষ্টি এবং হিমবাহ হ্রদ ফেটে যাওয়ার ঘটনা নতুন করে ভারতের উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে কেন্দ্র করে এক গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিয়েছে।

ভুটানের গাসা জেলার ওয়াকিলা পাহাড়ের কোলে অবস্থিত শিনতাফু (বা লেমথং) হিমবাহ হ্রদ ভেঙে যাওয়ার ফলে প্রায় ৭৪ লক্ষ ঘনমিটার জল হু হু করে নিচের নদী অববাহিকায় নেমে আসে। এই জলরাশি ভুটানের মোচু নদী হয়ে ভারতের সংকোশ (সংকোশ নদী ভুটানে মোচু বা সঙ্কোশ নামে পরিচিত) ও পার্শ্ববর্তী নদীগুলির মাধ্যমে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

শুক্রবার সকালে ভুটান৷ ছবি- দ্য ওয়াল

হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণের (GLOF) মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে ভারত যাতে আগাম সতর্কবার্তা পায়, সে বিষয়ে থিম্পু প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং নয়াদিল্লিকে সতর্ক করেছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সীমানা বা ভূ-রাজনৈতিক কূটনীতির গণ্ডি পেরিয়ে ভারত ও তার প্রতিবেশীদের মধ্যে নিখুঁত রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদান কতটা জরুরি। ভুটানের আগাম বার্তার কারণে ভারতীয় প্রশাসন এবং রাজ্য সরকার যেমন আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ির নদী তীরবর্তী অঞ্চলে দ্রুত হাই অ্যালার্ট ও মাইকিং শুরু করতে পেরেছে।

গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে হিমালয়ের বরফ দ্রুত গলছে এবং পাহাড়ি উপত্যকাগুলিতে একের পর এক বিপজ্জনক হিমবাহ হ্রদ তৈরি হচ্ছে। ভুটানের মতো পাহাড়ি দেশে এই ধরনের হ্রদগুলির ওপর বিজ্ঞানভিত্তিক নজরদারি এবং আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা না থাকলে তা নিম্নাঞ্চলের সমতল ভূমির জন্য মহাবিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এর আগে সিকিম বা নেপালে এ ধরনের হ্রদ ফাটার জেরে যে ভয়াবহ হরপা বান বা ফ্ল্যাশ ফ্লাড দেখা গেছে, উত্তরবঙ্গেও সেই একই আতঙ্কের পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে।

উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি মূলত চা বাগান, পর্যটন এবং কৃষিভিত্তিক। আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রাম বা জলপাইগুড়ির ডুয়ার্স অঞ্চল যদি সংকোশ নদীর প্লাবনে ভেসে যায়, তবে তা কেবল জনজীবন বিপর্যস্ত করবে না, বরং জাতীয় মহাসড়ক, রেল যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিতে পারে। রাজ্য প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃত্ব পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপর হলেও, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কেবল আপকালীন তৎপরতা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন একটি স্থায়ী দ্বিপাক্ষিক বা ত্রিপাক্ষিক (ভারত-ভুটান-বাংলাদেশ) নদী ও জলাশয় পর্যবেক্ষণ পরিকাঠামো।

পরিশেষে বলা যায়, ভুটানের মেঘভাঙা বৃষ্টি ও হিমবাহ ধস কেবল ভারতের উত্তরবঙ্গের জন্যই একটি তাৎক্ষণিক বিপদের ঘণ্টা নয়, এটি দক্ষিণ এশীয় কূটনীতিতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কূটনীতির (Climate Diplomacy) গুরুত্বকেই নতুন করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা এবং সীমান্ত সুরক্ষা নীতিতে এখন থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট আন্তঃসীমান্ত প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলাকেও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

​

নির্ভীক ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পাশে থাকুন

সত্যকে স্বাধীন রাখতে আমাদের পাশে থাকুন। অনুদান দিতে QR কোড স্ক্যান করুন অথবা আমাদের UPI ID ব্যবহার করুন।

UPI ID 8240214079@okaxis

অন্যান্য প্রতিবেদন.