সোমের পর মঙ্গলেও প্রতিবাদ মুখর যন্তর মন্তর

১৫ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

​ভারতের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশন এবং এর কার্যকারিতাকে কেন্দ্র করে যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে রাজধানী দিল্লিতে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তর সংলগ্ন এলাকায় রাজনৈতিক দলগুলির ধারাবাহিক বিক্ষোভ ও আন্দোলন জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি (আপ) এবং বামপন্থী দলগুলি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের এই যৌথ আন্দোলন দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে।


​এই আন্দোলনের নেপথ্যে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের ক্রমবর্ধমান অনাস্থা। বিরোধী শিবিরগুলির অভিযোগ, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং সাংবিধানিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। বিশেষ করে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন নির্বাচন ও রাজনৈতিক ঘটনাবলির পর কমিশনের সিদ্ধান্তসমূহ পক্ষপাতদুষ্ট বলে দাবি করছে বিরোধী পক্ষগুলি। ফলস্বরূপ, একক কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিবাদ নয়, বরং বহু দলের সম্মিলিত মোর্চা এবং নাগরিক সমাজের একটি বড় অংশ সিইসির পদত্যাগের দাবিতে সরাসরি রাজপথে নেমে পড়েছে।


​সোমবারের এই বিক্ষোভ চলাকালীন যন্তর মন্তর চত্বরে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি এবং ব্যাপক ধরপাকড়ের ঘটনা ঘটে। আম আদমি পার্টি ও কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের উপস্থিতি এবং তাঁদের অনুগামীদের ওপর পুলিশের কড়া ব্যবস্থা প্রমাণ করে যে, শাসক ও বিরোধীদের এই সংঘাত কেবল সংসদীয় সীমানার মধ্যে সীমিত নেই, বরং তা তীব্র সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের রূপ নিচ্ছে। পুলিশি বাধা এবং বড় মাপের গ্রেফতারি সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা পিছু হটতে নারাজ।


​অন্যদিকে, শাসক দল তথা বিজেপির পক্ষ থেকে এই আন্দোলনের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব ও তাদের সমর্থকরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের প্রশংসা করে দাবি করেছেন যে, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ সংবিধানসম্মতভাবে এবং রক্তপাতহীন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনা করে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করেছে। তাদের মতে, বিরোধীদের এই আন্দোলন সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার এক গভীর ষড়যন্ত্র। শাসক দলের একাংশ এই আন্দোলনকে দেশের স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থার ওপর সরাসরি আক্রমণ বলেও অ্যাখ্যা দিয়েছে।


​ এটি মূলত ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির নিরপেক্ষতা রক্ষা এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী আদর্শগত লড়াইয়েরই প্রতিচ্ছবি। একদিকে বিরোধীরা যখন সিইসির অপসারণকে গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াই হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে শাসক শিবির একে প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা রক্ষার চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। আসন্ন দিনে এই বিক্ষোভ কেবল দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয় রাজনীতিতে মেরুকরণকে আরও গভীর করবে এবং নির্বাচন কমিশনের মতো একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থাকে নতুন মোড় দেবে—এ কথা বলাই বাহুল্য।

অন্যান্য প্রতিবেদন.