আজ পশ্চিমবঙ্গের রেজিনগর এবং নন্দীগ্রাম বিধানসভার উপনির্বাচন। সকাল থেকেই দফায় দফায় উত্তপ্ত এলাকা৷ আর ফের একবার নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন৷ । বিজেপির বিরুদ্ধে উঠে এসেছে বুথ দখল, ছাপ্পা ভোট এবং বিরোধী এজেন্টদের বের করে দেওয়ার মতো অভিযোগ। যা ফের আরও একবার এই উপনির্বাচনগুলোকে সাধারণ মানুষের কাছে একটি প্রহসনে পরিণত করেছে।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সহিংসতার অভিযোগ নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক উপনির্বাচনগুলোতে এর মাত্রা তীব্রতর রূপ নিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচনের আগের পুরো রাত জুড়ে বাইক বাহিনী দাপিয়ে বেড়িয়েছে, সৃষ্টি করেছে ত্রাসের পরিবেশ। সকাল থেকেই বুথ দখল এবং দেদারে ছাপ্পা ভোটের মাধ্যমে সাধারণ ভোটারের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের অভিযোগও উঠেছে সমান তালে৷ নন্দীগ্রামে বামপন্থী এজেন্ট সহ একাধিক বিরোধী দলের এজেন্টকে মারধর করে বুথ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে, যার ফলে একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রেজিনগরে গ্রেফতার বিরোধী নেতা হুমায়ুন কবির৷ রেজিনগর বিধানসভায় ভোট লুটের অভিযোগে জেলাশাসকের দফতরের সামনে বিক্ষোভমিছিল করেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। অপর দিকে সকাল সকালে মন্দিরে পুজো দিয়ে ভোট দিতে গেছেন নন্দীগ্রামের প্রার্থী হাসিরানি দেবী৷ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার নন্দীগ্রামে ভোট দিলেন শুভেন্দু অধিকারী৷ সব মিলিয়ে পক্ষপাতের মিশ্র প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট৷
একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মূল শর্ত হলো নিরপেক্ষ প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের সক্রিয় ভূমিকা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশ প্রশাসনের একটি বড় অংশ সরাসরি শাসক দলের হয়ে কাজ করেছে। এর আগে নন্দীগ্রামের বিরোধী দলপ্রার্থীর নির্বাচনের আগে গ্রেফতারি নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল রদজনৈতিক মহলে৷ আজকের দিনব্যাপি লুঠতরাজের এই ঘটনা স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক মত প্রকাশের পথকে রুদ্ধ করেছে।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হয়েছে গভীর সংশয়, যা নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার সাংবিধানিক দায়িত্বকে প্রশ্নের সামনে দাঁড় করাচ্ছে৷
অভিযোগ, অতীতে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে সুকৌশলে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এর মাধ্যমেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। এই প্রক্রিয়ায় এক বিশাল অংশের নাগরিক তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। যে নির্বাচনে সমাজের একটি বড় অংশকে বাদ দেওয়া হয়, সেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গঠিত সরকারের নৈতিক ও গণতান্ত্রিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
রেজিনগর ও নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন প্রমাণ করে যে, নির্বাচনী রাজনীতি আজ কেবল নীতির লড়াইতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা পেশিশক্তি ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের একতরফা খেলায় পরিণত হয়েছে। যদি এই ধরনের প্রবণতা রোধ করা না যায়, তবে সাধারণ মানুষের ভোটদানের অধিকার এবং গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা চিরতরে নষ্ট হয়ে যাবে।

