সমাজ বড়ো বিপন্ন, তুমি প্রতিবাদ হয়ে পাশে দাঁড়াও

৯৮ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

“মানুষ যা হচ্ছে হবে, মানুষের যা হবার নয়”-

পরিবর্তনের ​বাংলার শিক্ষাঙ্গন আজ এক গভীর ও অন্ধকার সংকটের মুখোমুখি। কখনো যাদবপুর কখনো  SRFTI- বাংলার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে বারবার নেমে আসছে আক্রমণ৷  কলকাতার প্রখ্যাত মুক্তমনা ফিল্ম ইনস্টিটিউট—সত্যজিৎ রায় ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)-এর ক্যাম্পাসে সম্প্রতি যে নক্কারজনক হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে গেল  তা আরও একবার এ রাজ্যের নিরাপত্তা বলয়কে দাঁড় করালো প্রশ্নচিহ্নের সামনে৷ 


​শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হলো মুক্ত চিন্তা, বিতর্ক, শিল্প এবং ভিন্নমতের চর্চার উর্বর ক্ষেত্র। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, সুপরিকল্পিতভাবে এই মুক্ত পরিসরগুলোকে রাজনৈতিক ও আদর্শগত মেরুকরণের আখড়ায় পরিণত করা হচ্ছে। এর অডিটোরিয়াম ভাড়া নিয়ে একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের অনুষ্ঠান ঘিরে শুরু হয় চাপানউতর। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা খুব সাধারণ এবং স্বাভবিক একটি প্রশ্ন তোলেন যে—একটি শৈল্পিক ও পেশাদার চলচ্চিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের প্রোপাগান্ডামূলক এজেন্ডার স্থান কোথায়। কেন বিশেষ একটি মতবাদে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলকে ভাড়া দেওয়া হবে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অডিটরিয়াম হল! আর ঠিক এই প্রশ্নের পরই  শুরু হয় সংঘাত। আহত হয় সাধারণ ছাত্র থেকে শুরু করে শিক্ষকরা পর্যন্ত৷ 

SRFTI ক্যাম্পাসের সংঘর্ষের দৃশ্য রবিবার

অভিযোগ উঠেছে, জনসমক্ষে পুলিশের সামনেই যখন ছাত্রদের ওপর আক্রমণ চালানো হয়, ক্যামেরার সামনে বাইট দিতে যাওয়া শিক্ষার্থীর জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়, তখন প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে এসআরএফটিআই—বাংলার একের পর এক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যখনই বহিরাগতদের আক্রমণ নেমে এসেছে, তখনই প্রশাসনের   নিষ্ক্রিয়তা একটাই  প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে-   ক্ষমতার নমনীয় সমীকরণে কি তবে শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা আজ বিপন্ন হয়ে পড়েছে? 

শিক্ষার্থীদের ‘শহুরে নকশাল’ বা ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ তকমা দিয়ে দমন করার যে প্রবণতা জাতীয় স্তরে দেখা যাচ্ছে, আজ তা বাংলার মাটিতেও শিকড় গাড়ছে। মুক্তমনা ও প্রগতিশীল যুবসমাজকে ভয় দেখিয়ে তাদের কণ্ঠরোধ করার এই রাজনৈতিক কৌশল আজ দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে এক অশনি সংকেত।সত্যজিৎ রায়ের মতো আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের নামে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠান সবসময়ই স্বাধীন চিন্তা এবং সৃষ্টির প্রতীক। সেখানে এ ধরনের হিংসা কেবল ছাত্র-শিক্ষকদের শারীরিক নিরাপত্তাই বিপন্ন করছে না, বরং শিক্ষার মূল ভিত্তিকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে।

এ কোন পরিবর্তনের বাংলা দেখছে আজ মানুষ ? যে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতিতে সাধারণ মানুষ ও ছাত্রসমাজ এগিয়ে এসেছিল, সেখানে কি শিক্ষাঙ্গনে রক্তপাত, ভয়ের সংস্কৃতি এবং গণতন্ত্রের ধারাবাহিক লঙ্ঘনকেই স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া হবে? ছাত্ররা আজ ক্লাসরুম ছেড়ে ক্যাম্পাসের গেটে বসে প্রতিবাদ করতে বাধ্য হচ্ছে, শিক্ষকরা নিগৃহীত হচ্ছেন—এটি কোনো সুস্থ সমাজের লক্ষণ হতে পারে না। 

শিক্ষাঙ্গনে এই ক্রমবর্ধমান ফ্যাসিবাদী আক্রমণ প্রতিরোধ করা আজ কেবল  কোনো নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের লড়াই নয়; এটি বাংলার প্রতিটি  নাগরিকের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। যদি সময়মতো এই রাজনৈতিক আগ্রাসন এবং প্রশাসনিক প্ররোচনা রোখা না যায়, তবে অদূর ভবিষ্যতে বাংলার বুকে পড়ে থাকবে শুধু  তার ঐতিহ্যবাহী মুক্ত সংস্কৃতির ফসিল।

অন্যান্য প্রতিবেদন.