চোরাবাগান সার্বজনীনে পদপৃষ্ঠ বহু, আনুমানিক মৃতও একাধিক!

১৮ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

​মহাষষ্ঠীর বোধনের পর থেকেই কলকাতার রাজপথে উপচে পড়া ভিড় এক পরিচিত চেহারা৷ তবে আজ সেই উৎসবের আমেজ ফিকে করে সপ্তমীর সন্ধ্যায় কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় পুজো মণ্ডপ চোরবাগান সর্বজনীনে ঘটে গেল ভয়াবহ দুর্ঘটনা।জানা যাচ্ছে বাঁধভাঙা জনস্রোতের চাপে মণ্ডপের একাংশ ভেঙে পড়ে৷ তারপরই পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় একাধিক দর্শনার্থী গুরুতর জখম হন। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। আশঙ্কা করা হচ্ছে তাদের মধ্যে মৃত্যুও ঘটেছে একাধিক জনের৷ মৃতের সংখ্যাটা প্রায় ১৭ জন।


​চোরবাগান সর্বজনীনের মতো হেভিওয়েট পুজোয় জনস্রোতের যে পূর্বাভাস থাকে, তার মোকাবিলায় যে ধরনের সুসংহত ভিড় নিয়ন্ত্রণ (ক্রাউড ম্যানেজমেন্ট) প্রয়োজন ছিল, তা মারাত্মকভাবে অনুপস্থিত ছিল বলেই মনে হয়। অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণ এবং প্রচারের আলোয় মণ্ডপের ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি মানুষের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি প আয়োজক কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসন।


অতীতে কলকাতার বিভিন্ন পুজোয় অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে বিশৃঙ্খলা বা দুর্ঘটনার নজির থাকলেও, বর্তমান প্রশাসনিক জমানায় উৎসবের নিরাপত্তা নিয়ে বড় বড় দাবি করা হয়। কিন্তু সপ্তমীর এই পদপিষ্ট হওয়ার উপক্রম পরিস্থিতি সেই প্রশাসনিক দাবির ফাঁকফোকরগুলোকে আবার নগ্ন করে দিল। বিরোধী দলগুলি এই সুযোগে ক্ষমতাসীন দলের অনুগত পুজো কমিটি ও পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে সমন্বয়হীনতা এবং নিরাপত্তার ঘাটতির অভিযোগ তোলার নৈতিক অস্ত্র পেয়ে যায়। পুজো কার্নিভাল বা অনুদানের রাজনীতিতে মত্ত প্রশাসন যখন উৎসবে রাজনৈতিক রং লাগাতে ব্যস্ত, তখন সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার মৌলিক অধিকার যে উপেক্ষিত হচ্ছে, এই দুর্ঘটনা তারই এক মর্মান্তিক দলিল।


​সব মিলিয়ে, চোরবাগানের এই দুর্ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, উৎসবের জৌলুস বাড়াতে গিয়ে নাগরিক সুরক্ষার দিকটি চরম অবহেলিত রয়ে গেছে। দুর্ঘটনার পর এখন আপাতত বন্ধ চোরাবাগান মন্ডপ৷ ভবিষ্যতে এই ধরনের অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়াতে পুজো কমিটিগুলির রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে গিয়ে কঠোরভাবে গাইডলাইন মেনে চলা এবং পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষ ও নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায়, আনন্দের মহোৎসব যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের বিপর্যয়ের রূপ নিতে পারে।

অন্যান্য প্রতিবেদন.