রাস্তায় ভিড়, তবু কেন ফিকে পুজোর চেনা উন্মাদনা?

৩৫ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন



গড়িয়াহাট মোড়ের ফুটপাথে প্রায় চার দশক ধরে শাড়ির পসরা সাজিয়ে বসেন ষাটোর্ধ্ব নিখিলবাবু। মহালয়ার পরের এক রোদ-পড়ন্ত বিকেলে দোকানের সামনে দিয়ে বয়ে যাওয়া মানুষের স্রোতের দিকে তাকিয়ে একটা ছোট্ট দীর্ঘশ্বাস ফেললেন তিনি। চারপাশে ক্রেতাদের থিকথিকে ভিড়, মাথার ওপর বাহারি আলোর তোরণ, মেগাফোনে ভেসে আসা চেনা পুজোর গানের কলি— দৃশ্যত সবই আছে! তবু নিখিলবাবুর অভিজ্ঞ চোখ বলছে, কী যেন একটা নেই। মাটির ভাঁড়ে চায়ে শেষ চুমুকটা দিয়ে পাশের দোকানের ছোকরাকে নিখিলবাবু বললেন, “বুঝলি খোকন, রাস্তায় লোক হয়েছে বটে, কিন্তু সেই যে পুজোর এক মাস আগে থেকে মানুষের চোখেমুখে একটা আবেগ থাকত, পকেট উজাড় করে বাজার করার একটা নেশা থাকত— সেটা যেন কেমন মরে এসেছে।”
নিখিলবাবুর এই খেদোক্তি এখন আর শুধু গড়িয়াহাট কিংবা হাতিবাগানের ফুটপাথে সীমাবদ্ধ নেই। অফিসফেরত মেট্রোর কামরা থেকে আরম্ভ করে পাড়ার চায়ের ঠেক কিংবা বহুতল আবাসনের সান্ধ্য আড্ডা— কান পাতলেই শোনা যায় একটা যান্ত্রিক দীর্ঘশ্বাস, “এবারে যেন ঠিক পুজো-পুজো ভাবটা আসছে না!”


অথচ নাগরিক মনের এই আক্ষেপের উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে থাকা ঝাঁ-চকচকে পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে যে কারও ধাঁধা লেগে যেতে বাধ্য। মাত্র কয়েক বছর আগে ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং রাজ্য পর্যটন দফতরের এক যৌথ সমীক্ষায় উঠে এসেছিল, পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজোর সামগ্রিক অর্থনীতির বহর প্রায় ৩২ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা, যা রাজ্যের মোট জিডিপি-র প্রায় ২.৫৮ শতাংশ। মুদ্রাস্ফীতি এবং কর্পোরেট লগ্নির ক্রমবর্ধমান রেখচিত্র ধরলে সেই অঙ্ক এখন আরও অনেকটাই স্ফীত। শহরতলি থেকে কলকাতা— বড় পুজো কমিটিগুলোর বাজেট কমেনি, স্পনসরদের দৈত্যাকার হোর্ডিংয়ে আকাশ ঢেকেছে, পিতৃপক্ষ ফুরোনোর আগেই মণ্ডপে মণ্ডপে লাখো মানুষের ঢল নামছে। তা হলে এই বিপুল আয়োজন, এই চোখধাঁধানো জৌলুসের আড়ালে উন্মাদনার ঘাটতির কথাটা বার বার উঠছে কেন?


আসলে ভিড় আর উন্মাদনা মোটেই এক জিনিস নয়। ভিড় হল নিছক মাথার হিসেব, আর উন্মাদনা প্রাণের স্পন্দন। আলোর রোশনাই বাড়লেও সেই প্রাণের স্পন্দনেই যেন কোথাও একটা ছন্দপতন ঘটেছে।
সমাজ এবং আধুনিক নাগরিক মনস্তত্ত্বের আতশকাচে চোখ রাখলেই বোঝা যায়, বাঙালির চেনা উচ্ছ্বাসে ভাটা পড়ার নেপথ্যে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘প্রতীক্ষার অপমৃত্যু’। যেকোনও উৎসবের উন্মাদনার প্রধান জ্বালানিই হল দীর্ঘ অপেক্ষা। আজ থেকে দশ-বারো বছর আগেও মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারে নতুন জামাকাপড় কেনার বাৎসরিক মাহেন্দ্রক্ষণ ছিল এই দুর্গাপুজো। পুজোর এক মাস আগে থেকে আলমারির ভাঁজে রাখা নতুন জামার গন্ধ শোঁকা কিংবা জুতোর বাক্স খুলে বার বার দেখা— এই ছোট ছোট অপেক্ষাগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে থাকত আসল রোমাঞ্চ। বিশ্বায়ন এবং ই-কমার্সের অবাধ বিস্তারের যুগে সেই প্রতীক্ষার মৃত্যু ঘটেছে স্বাভাবিকভাবেই। এখন সচ্ছল মধ্যবিত্তের হাতের মোবাইল ফোনে বছরভর চলে ‘এন্ড অফ সিজন সেল’ কিংবা ‘বিগ বিলিয়ন ডে’-র হাতছানি; মনস্তত্ত্বের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘হেডোনিক অ্যাডাপ্টেশন’— অর্থাৎ, মানুষ যখন কোনও সুখ বা প্রাপ্তিতে খুব সহজে ও ঘনঘন অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তখন স্বভাবতই সে প্রাপ্তি আর তার মনে আগের মতো তীব্র আনন্দ বা উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে না। বারো মাস কেনাকাটার অভ্যাসে তাই শারদোৎসবের সেই একমেবাদ্বিতীয়ম আমেজ আজ অনেকটাই ফিকে।


কিন্তু এই ভোগবাদী সংস্কৃতির চাকচিক্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা নির্মম আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার ছবিটা আরও অনেক বেশি গভীর ও বেদনাদায়ক। গত কয়েক বছর ধরেই ভারতের শ্রম বাজার, মুদ্রাস্ফীতি এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার যে পরাবাস্তব সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তা উৎসবের পরিসরকে এক অদ্ভুত বৈষম্যের মুখে দাঁড় করায়। একদিকে কর্পোরেট পুঁজির স্ফীতি এবং অন্যদিকে মধ্য ও নিম্নবিত্তের আয়ের রেখচিত্র থমকে যাওয়ার ফলে সমাজের একটা বিরাট অংশের হাতখোলা খরচের ক্ষমতা তলানিতে এসে ঠেকেছে। ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কনজিউমার কনফিডেন্স ইনডেক্সের সাম্প্রতিক তথ্যগুলো যদি পাশাপাশি রাখা হয়, তবে দেখা যাবে শিক্ষাদীক্ষা, স্বাস্থ্যপরিষেবা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মানুষের বেতন বা উপার্জনের হার বাড়েনি মোটেই। ফলে, যে মধ্যবিত্ত সমাজ এতদিন শারদোৎসবের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি ছিল, আজ তাদেরই রোজনামচায় হিসেব-নিকেশের বেড়া অত্যন্ত কড়া। রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার, সন্তানের টিউশন ফি, জীবনদায়ী ওষুধের চড়া দাম ও রেশনের ব্যাগ সামলে পুজোর নতুন জামা কেনার সেই স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দ আজ এক গভীর মানসিক উদ্বেগে পর্যবসিত। নিউ মার্কেট, হাতিবাগান কিংবা বড়বাজারের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ সমীক্ষাও সাক্ষ্য দিচ্ছে, বাজারে জনস্রোতের ঘাটতি না থাকলেও মাথাপিছু কেনাকাটার পরিমাণ সংকুচিত হয়েছে বিগত বছরগুলোর তুলনায় চোখে পড়ার মতো। মানুষ আজও মণ্ডপে-মণ্ডপে ঘুরছে ঠিকই, কিন্তু পকেটের টান এবং ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তাহীনতার ভয়ে দীর্ঘমেয়াদী খরচের ক্ষেত্রে তারা চরম রক্ষণশীল।

মফস্বলের পাড়ায় বেলুন বিক্রেতা,ছবি- নিজস্ব


এই অর্থনৈতিক শঙ্কার পাশাপাশি বাংলার সামাজিক ও জনবিন্যাসের কাঠামোগত পরিবর্তনও উৎসবের উদ্দীপনাকে খর্ব করে দিচ্ছে ভেতর থেকে। ফরাসি সমাজতাত্ত্বিক এমিল ডুর্খাইম উৎসবের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে সামষ্টিক উচ্ছ্বাসের কথা বলেছিলেন— তাঁর মতে, সমাজ যখন কোনও অভিন্ন আবেগে একসূত্রে বাঁধা পড়ে, তখনই জন্ম নেয় এক অলৌকিক উন্মাদনা। কিন্তু আজকের বাংলার সামাজিক বাস্তবতায় সেই সামষ্টিক আনন্দের বুননটিই যে আলগা হয়ে গিয়েছে। উপযুক্ত কর্মসংস্থানের দীর্ঘস্থায়ী সংকট এবং শিল্পের শ্লথগতির কারণে গত এক-দু’দশকে বাংলার লক্ষ লক্ষ মেধাবী ও কর্মক্ষম তরুণ-তরুণী বাধ্য হয়েছেন বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, পুণে, মুম্বই কিংবা সুদূর বিদেশে পাড়ি জমাতে। যে তরুণ প্রজন্মের প্রাণশক্তি এবং উৎসাহে পাড়ায় পাড়ায় পুজোর মণ্ডপগুলো মুখরিত হয়ে উঠত, তাদের এই গণ-অভিবাসন বাংলার বহু মধ্যবিত্ত পরিবারকে কার্যত ‘বৃদ্ধাশ্রম’-এ পরিণত করেছে। উৎসবের দিনগুলোয় বৃদ্ধ বাবা-মায়ের শূন্য ঘরের টেবিলে সেই চেনা হর্ষোৎফুল্ল কোলাহল আর থাকে না; তার বদলে হোয়াটসঅ্যাপের ভিডিও কলের স্ক্রিনে ভেসে ওঠে দূর প্রবাসের মৃদু দীর্ঘশ্বাস। তার ওপর রাজ্যের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং প্রশাসনিক ও সামাজিক নানা অস্থিরতা সংবেদনশীল মানুষের মনে এক ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও বিচ্ছিন্নতাবোধ তৈরি করেছে। মনের আকাশে যখন জীবনের বেঁচে থাকার লড়াই এবং ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তার মেঘ স্থায়ী বাসা বাঁধে, তখন ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে আসা শরতের রোদ সেখানে চাইলেও কি সহজে আনন্দ ছড়াতে পারে?


যদিও বাঙালির পুজো কেবল বাজারের থলির মাপে বাঁধা ছিল না কোনও কালেই; পকেটে টান পড়লেও পাড়ার পুজোর সর্বজনীন অংশগ্রহণ সেই অভাববোধকে ভুলিয়ে দিত। কিন্তু মুশকিল হল, সেই পাড়ার পুজোর প্রাণস্পন্দনও আজ আমূল কর্পোরেট ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দখলে। একটা সময় যে পুজো ছিল মানুষের প্রত্যক্ষ জীবনের যৌথ সৃষ্টি— চাঁদা তোলা থেকে শুরু করে প্রতিমা বায়না করা, মণ্ডপের বাঁশ বাঁধা থেকে শুরু করে ভোগের চাল মাপার মতো কাজে সাধারণ মানুষের নিরঙ্কুশ মালিকানা থাকত— আজকের দিনে তা রূপান্তরিত হয়েছে পেশাদার বিজ্ঞাপনের মঞ্চ এবং কর্পোরেট ব্র্যান্ডিংয়ের প্রদর্শনীতে। এই বাণিজ্যিকীকরণের ফলে সাধারণ মানুষ আজ নিজেরই পাড়ার পুজোয় নিছক এক ‘দর্শক’। ভিআইপি পাসের আকাশছোঁয়া প্রাচীর, বাউন্সারদের কড়া নজরদারি এবং নিরাপত্তার কড়াকড়িতে সাধারণ মানুষের সেই খোলামেলা মেলামেশার পরিসরটুকুও সংকুচিত। উৎসব যখন প্রাণের মেলামেশা ছেড়ে পুরস্কার জেতার ইঁদুরদৌড় এবং কর্পোরেট স্পনসরশিপের বিজ্ঞাপন হয়ে ওঠে, তখন তার জাঁকজমক বাড়ে ঠিকই, কিন্তু সাধারণ মানুষের নাড়ির টানটুকু কর্পূরের মতো উবে যায়।

এই যান্ত্রিক প্রদর্শনীকে আবার আরও এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া সংস্কৃতি ও অ্যালগরিদমের দৌরাত্ম্য। পোলিশ-ব্রিটিশ সমাজতাত্ত্বিক জিগমন্ড বাউমানের ‘লিকুইড মডারনিটি’ তত্ত্বে যেমন বলা হয়েছে, আধুনিক যুগের সমস্ত অনুভূতিই আদতে ক্ষণস্থায়ী এবং লহমায় মুছে যাওয়ার উপযোগী; আগে সপ্তমীর সকালে খবরের কাগজের পৃষ্ঠায় চোখ রেখে কিংবা মণ্ডপে সশরীরে পৌঁছে প্রতিমার মুখ দেখার মধ্যে যে এক অকৃত্রিম ও দীর্ঘস্থায়ী বিস্ময়বোধ কাজ করত, আজকের ইন্টারনেট যুগে তার পুরোপুরি অপমৃত্যু ঘটেছে। মহালয়া কাটতে না কাটতেই ফেসবুক, ইউটিউব ভ্লগার আর ইনস্টাগ্রাম রিলসের সুবাদে কলকাতার সেরা পঞ্চাশটি পুজোর অন্দরমহল ও থিমের বিশদ বিবরণ পৌঁছে যায় মানুষের ড্রয়িংরুমে। দর্শকের নখদর্পণে যখন আগেই সবটা জেনে যাওয়ার এক কৃত্রিম স্বাচ্ছন্দ্য তৈরি হয়, তখন মণ্ডপে পা রাখার আগেই মস্তিষ্কের সমস্ত ডোপামিন ক্ষরণ শেষ হয়ে যায়। দর্শনের চেয়ে সেলফি তোলা এবং রিলস বানানোর এই ইঁদুরদৌড় কার্যত উৎসবের পবিত্র আধ্যাত্মিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রশান্তিকেই সম্পূর্ণ গ্রাস করে।


বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসবের আবেগ কি তাহলে চিরকালের মতো হারিয়ে গেল? বোধহয় না। আসলে উন্মাদনা হারায়নি, সময়ের নিষ্ঠুর আর্থ-সামাজিক চাপে তার রূপ বদলে গিয়েছে মাত্র। শৈশবের বিস্ময়মাখা চোখে দেখা পৃথিবীর সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কের হিসেবি ও ক্লান্ত চোখের মেলবন্ধন তো আর সম্ভব নয়। সমাজের বয়স বাড়লে, জীবনযুদ্ধের বোঝা ভারী হলে উৎসবের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসও শান্ত এক অবকাশের রূপ নেয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘উৎসব’ প্রবন্ধে লিখেছিলেন, “প্রতিদিন মানুষ ক্ষুদ্র দীন একাকী—কিন্তু উৎসবের দিনে মানুষ বৃহৎ, সেদিন সে সমস্ত মানুষের সঙ্গে একত্র হইয়া বৃহৎ, সেদিন সে সমস্ত মনুষ্যত্বের শক্তি অনুভব করিয়া মহৎ।” আজকের এই বিপন্ন, যান্ত্রিক ও বিভক্ত নাগরিক জীবনে আমরা প্রত্যেকেই কোথাও না কোথাও বড্ড বেশি একা। তাই হয়তো কর্পোরেট আলোর রোশনাই কিংবা বহিরঙ্গের মেকি কোলাহল আমাদের আর আগের মতো স্পর্শ করতে পারে না। কিন্তু সমস্ত তত্ত্ব, অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান এবং জীবনযুদ্ধের ক্লান্তি উড়িয়ে দিয়ে ষষ্ঠীর সকালে যখন প্রথম ঢাকের কাঠির আওয়াজটা শরতের বাতাসে ভেসে আসে, কিংবা পাড়ার গলির মোড়ে ধুনোর গন্ধে চারপাশটা হঠাৎ অচেনা এক মায়ায় ভরে ওঠে, তখন সব হারানোর শূন্যতাকেও ছাপিয়ে বাঙালির বুকের ভিতরটা আজও অজান্তেই হু-হু করে ওঠে। বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং এবং জৌলুসের চাদর ভেদ করে সেই একান্ত ব্যক্তিগত, না-বলা শিহরণটুকুই আসলে একালের রূঢ় আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার মাঝেও বাঙালির চিরন্তন শারদোৎসবের আসল প্রাণভোমরা।

অন্যান্য প্রতিবেদন.