জাতীয় পতাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে ফের দানা বাঁধল তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত। নির্ধারিত ‘তেরঙা যাত্রা’ বা জাতীয় পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি শুরু হওয়ার ঠিক আগে, বাড়ি থেকে বেরোতেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র অভিজিৎ দীপকে কে আটক করল দিল্লি পুলিশ।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ বা জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কর্মসূচি নিয়েছিল সিজেপি। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে দিল্লি পুলিশ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-র ১৬৩ ধারা জারি করে এই কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর আগে গত ১৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের অভিযোগে সিজেপির অন্য দুই সহ-সংযোজককেও গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং তাঁদের তিহাড় জেলে পাঠানো হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে আগেই কর্মসূচি বাতিল করার নোটিস দেওয়া হলেও, সেই নির্দেশকে তোয়াক্কা না করে অনড় অবস্থান নেন অভিজিৎ দীপকে।
অভিজিৎ দীপকের প্রশ্ন ছিল, “ভারতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য কি কোনও অনুমতির প্রয়োজন হয়? তেরঙ্গা এই দেশের ১৩০ কোটি মানুষের, শুধু দিল্লি পুলিশের নয়।” তাঁর অভিযোগ ছিল, গণতান্ত্রিক দেশে প্রতীকী প্রতিবাদ বা জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের ওপর যে প্রশাসনিক খড়্গ নামানো হচ্ছে, তা এক ধরনের ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং নির্দিষ্ট শীর্ষ আধিকারিকদের অপসারণের দাবির সঙ্গে এই তিরঙ্গা যাত্রার যোগ থাকায় প্রশাসন আরও বেশি কঠোর অবস্থান নেয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, একটি প্রতীকী রাজনৈতিক কর্মসূচি বা পতাকা উত্তোলনকে ঘিরে যেভাবে প্রিভেন্টিভ ডিটেইনমেন্ট বা প্রতিরোধমূলক আটক এবং কনট প্লেস চত্বরে কড়াকড়ি করা হয়েছে, তা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর পরিসরকে সংকুচিত করছে। গোয়েন্দা নজরদারি, ব্যারিকেড এবং নোটিসের রাজনীতি স্মরণ করাচ্ছে যে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধীদের যে কোনো ভিন্নমত বা অভিনব প্রতিবাদকে প্রশাসন কতটা ভয়ের চোখে দেখছে। অন্যদিকে, প্রশাসনের যুক্তি—জনসাধারণের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ অপরিহার্য ছিল।
সব মিলিয়ে, অভিজিৎ দীপকের এই আটকের ঘটনা কেবল একটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি বানচাল করার প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়; বরং এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জাতীয় পতাকার মতো সর্বভারতীয় প্রতীককে রাজনৈতিক প্রতিবাদের হাতিয়ার করার নৈতিকতা নিয়ে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিল। গণতন্ত্রে প্রতিবাদের ভাষা এবং রাষ্ট্রের দমনপীড়নের মাত্রা কোন পর্যায়ে পৌঁছতে পারে, এই ঘটনা তারই সাম্প্রতিকতম উজ্জ্বল উদাহরণ।

