ঠিক যেন শিবরাম চক্রবর্তীর ‘দেবতার জন্ম’। চলছে শ্রাবণ মাস। হিন্দুদের বিশ্বাস অনুসারে এই মাস শিব ঠাকুরের পুজোর জন্য বিশেষ গুরুত্ব পায়। কাকতালীয় ভাবে বীরনগরের খরদা পাড়ায় হইচই। এক যুবক দাবি করেন টানা তিন দিন ধরে স্বপ্নাদেশ পেয়েছেন তিনি। মাটির তলায় নির্দিষ্ট স্থানে নাকি পুঁতে রাখা রয়েছে শিবলিঙ্গ। সেই মতোই গ্রামের কয়েকজনকে নিয়ে শিবলিঙ্গ খুঁজতে বের হন ওই যুবক। বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর একটি পাথরের দেখা মেলে। ঘটনায় তাজ্জব গ্রামবাসী।
এরপর অল্প কদিনেই সেই ‘লিঙ্গ’ ঘিরে ধরে পুজো-পাঠও শুরু হয়৷ দূর-দূরান্ত থেকে ভক্ত সমাগম হতে শুরু করে৷ বিশ্বাস ভক্তি বাড়তেই থাকে স্বপ্নে পাওয়া শিবকে ঘিরে৷ কিন্তু যার জমিতে শিব দেখা দিয়েছেন তাঁর অভিযোগ অন্য৷ তাঁদের কথায় জমি জবরদখল করে মন্দির বানানোর ছক কষছিল একদল মানুষ। গত কয়েকদিনে ৪০-৫০ হাজার টাকার ব্যবসাও করে নিয়েছেন বলে দাবি তাঁদের৷ এই ঘটনা নিয়ে হইচই পড়ে যায় গোটা এলাকায়। শেষে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ এলে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হয় একটি শিলনোড়ার নোড়া৷
https://www.facebook.com/share/v/19QvaNKkhR/
যে যুবক স্বপ্নে এই শিব ঠাকুর দেখেছিলেন তিনি আপাতত পলাতক। গ্রামবাসীদের অভিযোগ মন্দিরের নামে ব্যবসা করতে এই ফাঁদ পেতেছিল তাঁরা। জবরদখল করে ক্লাব বানানোর ছক ছিল বলে অভিযোগও তুলছিলেন গ্রামবাসীরা। অবশেষে মাটি থেকে সেই পাথর তুলে জমির মালিক বলেন, ‘মহাদেবের নামে ব্যবসার ফন্দি এঁটেছিল ওরা’
এই দিনকয়েক আগের কথা। আগ্রার একটি বাড়িতেও ডিপ ফ্রিজে ‘অমরনাথ’এর দেখা পেয়েছিলেন একটি পরিবার। সেই বরফ ঘিরেও পুজোপাঠ হয়েছে। কুসংস্কার অন্ধবিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে জালিয়াতি যেন ট্রেন্ড হয়ে গিয়েছে। যাচাই না করে বিশ্বাস করার ঘটনা হরদম ঘটেছে। রামমন্দিরের প্রণামী চুরি হোক বা বদ্রীনাথে অনুদান নয়ছয় ধর্মের নামে একশ্রেণীর মানুষের স্বার্থসিদ্ধির নজির মিলেই চলেছে। তাই যুক্তি দিয়ে আওয়াজ তোলা আর মুক্তচিন্তার প্রসার ঘটনো ছাড়া কুসংস্কার আর অন্ধবিশ্বাসের সঙ্গে লড়াই করা কঠিন

