ক্যাম্পাসে গ্রাফিতিতে চুনকাম ও রাষ্ট্রের ছায়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় বন্ধ করে সার্বিক হোক নির্বাচন! তবেই সাপমুক্তি হবে পশ্চিমবঙ্গের? বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটে জিতে মোদীর সঙ্গে ব্রেকফাস্ট! সায়নী, কাকলীরা আর জিতবেন? প্রতিবাদী মানেই ‘অ্যান্টিন্যাশনাল’ নয়, ভাগবতের কথা কি মাথায় রাখবে তথাকথিত ‘দেশভক্ত’রা? বাঁকিপুরের ঝাঁকি, সঙ্গে CJP! ঘুরে দাঁড়াতে পারবে BJP? গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কাঁটা মোদী-শাহ’র CPIM থেকে BJP হয়ে তৃণমূল! বিরোধী হলেই কাদা-ডিম্ ছোঁড়ার রাজনীতি বাংলায়, কবে বদলাব আমরা? জমিতেও হিন্দু-মুসলমান? মুখ্যমন্ত্রীর ‘ল্যান্ড জিহাদ’ মন্তব্যে শোরগোল বঙ্গ রাজনীতিতে রেখা পাত্রের বিরুদ্ধে বাড়ি দখলের অভিযোগ, শর্বরীর বিরুদ্ধে দোকান! তোলাবাজির TMC-BJP হয়?

আর কবে?

১০ জন
পড়েছেন

প্রতিবেদন টি শেয়ার করুন

আজ থেকে ঠিক বছর দুই আগের একটি স্মৃতি এখনও দগদগে। কেউ বলে অভয়া, কেউ বা তিলোত্তমা- সেই অভিশপ্ত রাতের পর মেয়েটির নাম মুখে আনাও মানা। আরজি কর মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের খুন এবং ধর্ষণ কাণ্ডের বিচার আজও অধরা। এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তাল হয়েছিল গোটা দেশ। বিচারের দাবিতে রাতের দখল নিয়েছিল মেয়েরা। সহকর্মীর জন্য সরব হয়েছিল চিকিৎসক মহল। তারপর কেটে গিয়েছে বছর দুই। পালাবদল হয়েছে। মেয়ের বিচার ছিনিয়ে আনার ‘মেনিফেস্টো’কে হাতিয়ার করে ভোটেও জিতেছেন আরজি কর কাণ্ডের নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ। কিন্তু বদল হল কি কিছু? 

দিন কয়েক আগেই যখন বারুইপুরে নাবালিকার ধর্ষণের ঘটনা ঘটল। ফের উত্তাল হল কলকাতা সহ গোটা রাজ্য। আবার কালের নিয়মে প্রতিবাদের আগুন নিভেও গেল। ঘটনায় রত্না দেবী বলেছিলেন, ‘আমার মেয়ের ঘটনার সঙ্গে এই ঘটনা যুক্ত নয়। আমার মেয়ে একদম সুরক্ষিত জায়গায় ছিল, এই মেয়েটি বাড়িতে ছিল না বা কোথায় ছিল আমি ঠিক জানি না। তৃণমূল যে বিষবৃক্ষ পুঁতেছে, তাতে তো অমৃতফল হবে না , ধিক্কার জানাই।’ আবার তাঁর মেয়ের সঙ্গে যখন এই ঘটনা ঘটেছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নারী সুরক্ষার জন্য মেয়েদের নাইট শিফট করতে বারণ করেছিলেন। কিন্তু নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেননি।  

রাত দখল

তাঁরপরেও ছোট আঙারিয়া থেকে কামদুনি, আরজিকর থেকে বারুইপুর, পার্ক-স্ট্রিট থেকে বেহালা, মালদা থেকে অশোকনগর, হাথরাস থেকে রাজস্থান-   সরকার আসে সরকার যায়, নারী স্বাধীনতা, সুরক্ষা কিংবা সম্মানের দিক থেকে আজও মেয়েদের ‘কম্প্রোমাইজ’ করেই চলতে হয়। এনসিআরবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০১০ সালে পশ্চিমবঙ্গে নথিভুক্ত ধর্ষণের সংখ্যা ২৩১১। তৃণমূল জমানা, অর্থাৎ ২০১২ সালে সেই সংখ্যাটা গিয়ে দাঁড়ায় ২০৪৬-এ। ভারতবর্ষে প্রতিদিন ৮৬ থেকে ৮৮টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। আর প্রতি ২০ মিনিটে দেশে একটি করে ধর্ষণ হয়।

#justice_for_rgkar

নারী স্বাধীনতার ধ্বজা উড়লেও এখনও অবধি একজন মেয়েকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকই মনে করে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা। শারিরীক বলের নিরিখে একজন মেয়ের পক্ষে সবসময় সম্ভব হয়ে ওঠে না অপরাধ প্রতিহত করা।  অন্যদিকে সমাজের চাপিয়ে দেওয়া ‘মেয়েলি স্বভাবের’ বাইরে যে মেয়েরা নিজেদের কথা নিজেরা বলতে চায় তাঁদেরকেও প্রতিদিন মোকাবিলা করতে হয় স্লাট শেমিং-এর সঙ্গে। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে প্রতিনিয়ত মেয়েদের ছবির নিচে, পোস্টের নিচে ছুঁড়ে দেওয়া হয় কুৎসিত মন্তব্য। ছবি বিকৃতি করা হয় মুড়ি মুড়কির মতো, রেপ থ্রেট, গালিগালাজ তো লেগেই আছে। দিন কয়েক আগেই দিল্লির চলমান আন্দোলনের সমর্থনে মুম্বইয়ের একটি মিছিলে ভাইরাল হয়েছিল এক যুবতীর ছবি। যিনি পুলিশের গাড়ি হাত দিয়ে আটকে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বন্দিদের মুক্ত করেছিলেন। সেদিন তাঁর পরনে ছিল সর্বাঙ্গ ঢাকা একটি পোশাক। কিন্তু পরবর্তীতে ভাইরাল করা হয় তাঁর পুরোনো কিছু ছবি। বানানো হয় অকথ্য মিম। 

আত্মসম্মান, আর আত্মমর্যাদা রক্ষার এই লম্বা রেসে মেয়েরা কিছুতেই ছুঁয়ে উঠতে পারছেন না ফিনিসিং পয়েন্ট। কঙ্গনা রানাউতের মতো সাংসদরা মেয়েদের সংস্কারি হওয়ার পাঠ দিতে পারেন, অথচ ছেলেদের ‘কনসেন্ট’ শব্দের মানে বোঝানোর জন্য ভিডিও করেন না। তাই গোড়া থেকে এই ধর্ষকামী মানসিকতার নির্মূল না হলে অপরাধ চলতেই থাকবে। মোমবাতির বিক্রি বাড়বে, ‘বিচার চাই’ স্লোগানও উঠবে, শুধু আরও একবার পৈশাচিক ঘটনা ঘটানোর আগে বুক কাঁপবে না ধর্ষকদের। আজ তিলোত্তমার চলে যাওয়ার দিনে দাঁড়িয়েও শেষ প্রশ্ন একটাই, নারীরা সুরক্ষা চাইছে তো সেই জন্মলগ্ন থেকেই, পাবে কবে?

অন্যান্য প্রতিবেদন.